somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

"তুই কি মানুষ না আওয়ামী লীগ?", এমন কথাও আমাদের শুনতে হয়েছে!!!

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
"তুই কি মানুষ না আওয়ামী লীগ?", এমন কথাও আমাদের শুনতে হয়েছে!!!

ঢাকার গুলিস্তানে আওয়ামীলীগের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ভয়ংকর অধ্যায় নেমে এসেছিল বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে, যখন ক্ষমতার লালসায় আওয়ামী লীগ সভ্যতা ভব্যতার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া, কথায় কথায় মানুষের ওপর অন্যায় অত্যাচার চালানো, বিরোধী দলের ওপর পাইকারি দমন-পীড়নের স্টিমরোলার ব্যবহার, অসংখ্য গুম-খুন, লাখ লাখ মিথ্যা মামলা, এবং অমানবিক অকথ্য নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করেছিল ইতিহাসের এক ভয়াল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন।

তখন সাধারণ মানুষের কোনো অধিকারই ছিল না। অপরাধী কোন দলের, তা যাচাই করে বিচার করা হতো। আওয়ামী লীগের সাঙ্গপাঙ্গরা খুন, ধর্ষণ কিংবা অন্যায় কর্মকাণ্ড করেও অনায়াসে পার পেয়ে যেত। আইন-আদালত তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছুঁতে পারতো না; আদালত পরিণত হয়েছিল আজ্ঞাবহ দাসে। ভোটাধিকার ও নির্বাচনও পরিণত হয়েছিল এক প্রহসনে, রাতের ভোট, সাজানো ভোট, পাতানো নির্বাচন, যা তখন বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দলীয় ষন্ডাপান্ডারা একের পর এক ব্যাংক দখল করে নিয়েছিল। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার করে দেশকে ফোকলা করা হয়েছিল।

সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় ছিল তখন হাজারও নির্যাতন নীপিড়নের মুখেও মানুষের মুখ খোলার কোন উপায় ছিল না। প্রতিবাদের সকল পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রাস্তায় নামলেই হামলা গুলি, মুখ খুললেই মামলা মোকদ্দমা আইন আদালত শাস্তি, মুখ খুললেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো অপহরন গুম খুনের বিভীষিকা, মুখ খুললেই তাদেরকে ধরে নিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতো দেশবিরোধী, জঙ্গি মঙ্গি, জামাআত, হরকতুল জিহাদ ইত্যাদি ভয়ঙ্কর তকমায়।

এই সময়টাতে সাধারণ মানুষের মনে আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই ঘৃণা জন্মেছিল যে, তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের আর মানুষ হিসেবে ভাবতেও চাইতেন না। সমাজে তখন বিদ্রুপের সুরে প্রায়ই শোনা যেত বিখ্যাত একটি বাক্য, “তুই কি মানুষ না আওয়ামী লীগ?”

এই কথাটি শুধুমাত্র একটি রসিকতা ছিল না; এটি ছিল ভয়ঙ্কর ক্ষয়িষ্ণু এক দুঃসময়ে নির্যাতিত জনগণের কান্না, ঘৃণা, ও প্রতিবাদের প্রতীক। আওয়ামী লীগের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে নিঃশব্দে উচ্চারিত সেই বাক্য যেন পরিণত হয়েছিল এই জাতির বেদনার প্রতিধ্বনিতে।

তবুও সত্য এটাই, যতই অপরাধী হোক, মানুষকে মানুষই ভাবা উচিত। আমরা তাদেরকে মানুষই মনে করি।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৫ সকাল ১০:১৯
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×