somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রিয় রুদ্র"- তসলিমা নাসরিনের চিঠি

২০ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ" বাংলা সাহিত্যে কতখানি অবদান রেখেছেন জানিনা তবে আমার মনের অনেক বড় অংশ জুড়েই রয়েছেন তিনি।
গত ১৬ অক্টোবর ছিল এই মহান দ্রোহ ও প্রেমের কবির জন্মদিন। ব্যস্ততার কারনে লেখা হয়নি তাকে নিয়ে।
রুদ্র কে লেখা তসলিমা নাসরিনের এই চিঠি সামুতে পোষ্ট করেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে তার এই ভক্ত।
চিঠি :
প্রিয় রুদ্র
_প্রযত্নে আকাশ
তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি কি আকাশে উরে বেড়াও তুলোর মত, পাখির মত? তুমি এই জগত সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছ, তুমি আসলে বেঁচেই গেছ রুদ্র। আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উরে ফিরে আসতে ইচ্ছা করে না তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে? আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ,পরিবাগ কিংবা লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয়না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিক হয় পারো না। অথচ একসময় যা ইচ্ছে হত তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি না হত সারা রাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে তাই করতে। ইচ্ছে যদি হত সারা দিন পথে পথে হাটতে তাই হাটতে তুমি। কে তোমাকে বাধা দিত? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিল। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছ। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন আর তোমার হাতের মুঠোয় নেই :(( ওরা তোমাকে ট্র্যাকে উঠিয়ে নিয়ে মেডিকেলে রেখে এল তুমি প্রতিবাদ করতে পারনি।
আচ্ছা, তোমার সেই লালবাগের প্রেমিকাটির খবর কি? দীর্ঘবছর প্রেম করেছিলে, তোমার যে নেডি খালার সাথে, তার উদ্দশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিন। তুমি আর কারো সাথে প্রেম করছ এ আমার সইত না /:)
কি অবুঝ বালিকা ছিলাম তাই না রুদ্র? যেন আমাকেই তোমার ভালবাসতে হবে, যেন আমরা দুইজন জন্মেছি জুইজনের জন্য। যেদিন তোয়াকে ট্র্যাকে করে করে নিয়ে গেল বাড়ি থেকে আমার খুব দম বন্ধ লাগছিল। ঢাকা শহরটিকে এত ফাঁকা আর কখনো লাগেনি । এত হাহাকার ও আর কখনো জন্মেনি। আমি ঢাকা ছেড়ে সেদিন চলে গিয়েছিলাম ময়মনসিংহে। আমার ঘরে তোমার বাক্স ভর্তি চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম সেদিন। আমাদের বিচ্ছেদ ছিল ৪ বছরের। এত বছর পরেও তুমি কি গভীর করে বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে সেদিন আমি টের পেয়েছি। আমার বড় হাসি পায় দেখে এখন তোমার শ শ'য়ে বন্ধু বেরচ্ছে। তারা তখন কোথায় ছিল যখন তুমি পয়সার অভাবে একটি শিঙ্গাড়া খেয়ে দুপুর কাটিয়েছ। আমি নাহয় তোমার বন্ধু নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলা বলে। এই যে এখন, তোমার নামে মেলা হয় তোমার চেনা এক আমি ই বোধহয় অনুপস্থিত থাকি মেলায়। যারা এখন রুদ্র রুদ্র বলে মাতম করে ব্যঝিনা তারা তখন কোথায় ছিল? শেষদিকে তুমি শিমুল নামের এক মেয়েকে ভালবাসতে, বিয়ের কথা ও হচ্ছিল আমাকে শিমুলের সব গল্প একদিন করলে। শুনে তুমি বোঝনি আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছ তার তার গল্প শোনাচ্ছ, ঠিক এরকম অনুভব আমার জন্য ছিল তোমার। আজ আরেক জনের জন্য তোমার অস্থিরতা, নীর্ঘুম রাত কাটানোর গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বল?? তুমি শিমিল কে নিয়ে কি কি কবিতা লিখলে তা দিব্যি বলে গেলে, আমাকে আবার জিজ্ঞেস ও করলে কেমন হয়েছে? আমি বললাম খুব ভালো। শিমুল মেয়েটিকে আমি কোনদিন দেখিনি, তুমি তাকে ভালোবাসো যখন নিজে বললে তখন আমি কষ্টটাকে বুঝতে দেয়নি। তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছি ঠিকই কিন্তু আর কাওকে ভালবাসতে পারিনি, ভালোবাসা যে যাকে-তাকে বিলাবার জিনিস নয়। আকাশের সাথে কত কথা হয় রোজ, কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন আকাশ ভরা জ্যোৎস্নায় গা ভেসে যাচ্ছিল আমাদের, তুমি দু-চারটি কষ্টের কথা বলে একটি গান শুনিয়েছিলে "ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও" মংলায় বসে লিখেছিলে গানটি। মনে মনে তুমি কার চিঠি চেয়েছিলে? আমার ? নেডি খালার? শিমুলের?
অনেকদিনের ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিল তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম, তুমিও লিখতে প্রতিদিন। সেবার আরমানিটোলার বাড়িতে বসে দিলে আকাশের ঠিকানা। তুমি পাবে তো এ চিঠি?
জীবনের যাবতীয় তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটেনা তবু মানুষ আর বাচে কদিন বল? দিন তো ফুরয়, আমার দিন কি ফুরচ্ছে না?
তুমি ভালো থেক, আমি ভালো নেই।
ইতি
সকাল।
পুনশ্চ : আমাকে সকাল বলে ডাকতে তুমি। কতকাল ওই ডাক শুনিনা/:) তুমি কি আকাশ থেকে আমার সকাল, আমার সকাল বলে এখনো মাঝে মধ্যে ডাকো? নাকি আমি ভুল শুনি:((

আপনারা চিঠি টি তসলিমা নাসরিনের কণ্ঠে শুনতে পাবেন এই লিঙ্কে https://www.youtube.com/watch?v=MQInOaSUZHM
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×