somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসহিষ্ণু শব্দ দূষণে ধর্ম চর্চা ও মানবিক ধার্মিকতা

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্পতি শেষ হয়েছে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম ও ওফাত দিবস। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা এই দিবসটি খুব ধর্মীয় মহিমার মাধ্যমে পালন করেছে। এই দিবসকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মানুভুতির সাথে মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করে থাকে, আর এই সুবাদে মাওলানা সাহেবেরা খুবই ব্যস্ত সময় পার করে যদিও কোনদিন তারা নিজেরা পকেটের টাকা খরচ করে এসব আয়োজন করে না।

পৌর, গ্রামাঞ্চলে এখন প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় খুব ঘটা করে এমন মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন হয়; এমন কি তিন দিন – ছয় দিনব্যাপী।কোন ধর্ম মানুষকে কষ্ট, অস্বস্তি ও বিক্ষুব্ধ করার সম্মতি দেয় না, ইসলাম ধর্ম তো কদাচি না। আমাদের প্রত্যেকের ঘরে এক-দুইজন করে বৃদ্ধ, প্রবীণ, অগ্রজ আছে যারা কোন না কোন অসুখ-ব্যাধিতে ভুগছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উদযাপন না করে মধ্যরাত পর্যন্ত মাইকের আওয়াজ এসব প্রবীণ/শিশু কাছে অসহনশীল, অসহিষ্ণু,অধৈর্য ও পীড়ার কারণ হয়। যেই নবী চলার পথে খেজুর কাটা সরিয়ে নিয়ে ‘বৃদ্ধ বুড়ির’ খোঁজ নিয়েছিলো সেই নবীর জন্ম ও ওফাত দিবসে বা অন্য কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কাউকে কোন ধরনের কষ্ট দেয়া কতটা যুক্তিগত আমার বোধগম্য নয়। এমন প্রকাশ্যে-উৎপাত (public nuisance) কিন্তু ইসলামের জন্মস্থান সৌদি আরব, মধ্য প্রাচ্য বা সাব-সাহারা অঞ্চলে কোথাও নেই। পশ্চিমা দেশে তে কদাচিৎ নয়। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক



মহানবী একদিন নামাজ পড়াচ্ছিলেন। শুনলেন, মসজিদ সংলগ্ন কোনো বাড়িতে ছোট্টশিশুর কান্না। তিনি নামাজ সংক্ষিপ্ত করে ফেললেন। বললেন, আমার ধারণা হলো- এই শিশুটির মা হয়তো আমাদের জামাতে শরীক হয়েছে। (নামাজ দীর্ঘ হলে শিশুর কান্নাও থামবে না আর তার মা নামাজে মন বসাতে পারবে না) এই ছিল আমাদের নবীর মানবিক অনুভূতি।

হজরত আবু বকর (রা.) বলতেন, তাহাজ্জুদে কোরআন তেলাওয়াত খুব নিম্নস্বরে করো। যাতে অন্য কারও ঘুম না ভাঙ্গে। হজরত ওমর (রা.) বলতেন, আমি চাই তেলাওয়াত হালকা উচ্চস্বরে হোক। যাতে নিদ্রিত ব্যক্তির ঘুম না ভাঙ্গে কিন্তু কিছুটা সজাগ ব্যক্তি পূর্ণ জাগ্রত হয়ে যায়। যেন, তার পক্ষে কিছু নামাজ ও তেলাওয়াত করা সম্ভব হয়। এই ছিল মহান খলিফাদের দৃষ্টিভঙ্গি।


অন্যদিকে একই ভাবে রাজনৈতিক দলগুলো নেতার জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, বিবাহবার্ষিকী, থার্টিফার্স্ট নাইট, নববর্ষ, ভ্যালেনটাইনস ডে, মেলা বা বিশেষ দিবসগুলোতে সারাদিন-রাত ধরে উচ্চ শব্দে মাইক বাজালেও কেউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। বারটা এক মিনিটে মানুষের প্রশান্তি, নীরবতা, বিশ্রাম ও নিদ্রার ক্ষতি না করে যদি স্বাভাবিক মাপকাটিতে শৃঙ্খলার মধ্যে উদযাপন করা হয় তবে সেই কার্যক্রমের প্রতি মানুষের মমতা, আকর্ষণ, অনুরাগ আরও বৃদ্ধি পায়; সেটি রাজনীতির ক্ষেত্রেও এবং ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও। যেটা আপনার কাছে উদযাপন সেটা অন্যের কাছে উৎপীড়ন যেন না হয়, নইলে সেই উদযাপন গুণকীর্তন হ্রাস পাবে।


ধর্ম এমনভাবে অনুশীলন/চর্চা করব যাতে অন্য কোন মানুষ-প্রাণীর কিঞ্চিৎ ক্ষতি বা অসহিষ্ণুতার লেশ না থাকে – আমি ধর্ম বলতে এমনি বুঝি। ধর্মযাজকেরা অবশ্য আরও বেশি বুঝবেন। শুধু এক ধর্মের অনুসারী নয়, বরং আমাদের দেশে সব ধর্মাবলম্বীদের এই প্রবণতা বেশি। বুঝতে হবে একজন নবজাতক, ছোট্টশিশু, বৃদ্ধ, হৃদরোগী, অন্যান্য রোগী, শ্রমক্লান্ত মানুষ বা ইবাদতরত ব্যক্তি এ আওয়াজটি কিভাবে নিচ্ছে। public nuisance নিয়ন্ত্রণে আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু আইনের বিধিমালা/ প্রয়োগের প্রয়োজন নেই, শুধু একটু মানবিক হলেও দৃশ্যপট বদলে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×