somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

সুবিধাবাদী বাঙ্গালীর আসলে কোন জাত নাই...

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৩:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাত আছে, সেটা মনে হয় 'সুবিদাবাদী'। জাতের তো বিশুদ্ধতাই না--ই। সাওতালরা বা হিন্দুদের নিম্নবর্ণের মানুষরাই এই ব-দ্বীপের প্রকৃত আদি অধিবাসী। এরপর বানিজ্যের নামে বা সম্পদের লোভে বা ধর্ম প্রচারের নামে দুনিয়ার এমন কোন প্রান্ত নাই যেখান থেকে এখানে মানুষ আসেনি? পুর্তগীজ, ওলন্দাজ, আরব, ইরাক, ইরান, চীন আরও কত জানা অজানা জাতি। তারা আসছে আর বংশধর রেখে গেছে।

যত সব চোর বাটবার ডাকাত, অতি ধনী বা সম্পদ লোভী এক কথায় দুষ্ট লোকের দলের লোকেরাই এখানে এসে বসতি গড়েছিল নিজের দেশে সুবিধা না করতে পেরে। অবশ্য নিরীহ বিতাড়িত জাতের লোকেরাও এসেছিল। আর আলি আওলিয়াদের কথা বাদই দিলাম।

সমস্যা হল, নানা জাতি সং মিশ্রন প্রকট হয়ে গেছে। মেন্ডেলিফের সূত্র এখানে খাটে না। এক মা-বাপের ৫ সন্তান ৫ রকম দেখতে হয়। ভয়ঙ্কর অবস্থা। এত এত পারমুটেশন আর কম্বিনেশন ঘটেছে যে, বাঙ্গালির এক এক পিস এক একটা জিনিয়াস। এদের কন্ট্রল করাই দায়।

শুধু একটা জিনিসেই আটকায়: সুবিধা। নিজে বাচলে বাপের নাম। ব্যতিক্রমের অনুপাত নগন্য হওয়ায় অগ্রহ্য করাই যায়।

আসল কথায় আসি। ১৯৪৬ এ ব্রিটীশ তাড়ানোর সময়, সাধু বাঙ্গাল + বাঙ্গালী এক হল। বাঙ্গালীরা পূর্ব পাকিস্থানী মেডেল গলায় ঝুলালো। বাঙ্গালরা থেকে গেল ভারতে। তারপর যখন টনক নড়লো, ১৯৭১ এ মুজিবের কথায় দা বটি কাস্তে নিয়ে ৯ মাসে আলাদা হল। স্বাধীনতার নামে সুবিধা আদায় হল। খোজ নিয়ে দেখবেন, দাদা নানা বা মুরব্বিদের কাছে, পাকিস্তান আমলেই সব কিছুর দাম সহনীয় ছিল, জীবন যাপন সহজ সাবলীল ছিল। বরং দেশ ভাগের পরই চোর বাটবারের কারনে সাধারন মানুষের অবস্থা খারাপ হয়েছে।

যাই হোক, জিয়া বা এরসাদের আমলে, মুজিব খারাপ হয়ে গেল, দেশ গড় দেশ গড় রব চাউর হল। কৃষি বা শিল্পক্ষাতে আমূল উন্নতি হল। তারপর আবার কামড়া কামড়ি শুরু হল। সুবিধাবাদী বাঙ্গালী নতুন নতুন রাজনৈতীক দলের পতাকা উড়ালো। এক মা বাবের সন্তান হলে কি হবে, মেজ গুলা সবসময় সুবিধাবাদী হয়।

তারপর ককটেল, হাতবোমা, লাঠিবৈঠা আন্দোলন অনেক কিছু শেষে যারাই আসলো খালি খাওয়া আর খাওয়া। কে কারে কেমনে খাবে... কেমনে সুবিধার নামে ঘাড়ে কাঁঠাল ভাঙ্গবে তার কোন ইষ্টিশন নাই। গনভোট তো উঠেই গেল।

১৯৮১ তে পেলাম হ্যাঁ - না ভোট, তারপর চা ভোট, তারপর ব্যালট বাক্সের সাতার শেখার ভোট, মধ্যরাতের ভোট, তাহাজ্জুতি ভোট... ইত্যাদি ইত্যাদি।.... বাঙ্গালী কি পারে না !

সাড়ে সাত কোটি কম্বল... আমারটা কই? নব্বয়ের দশকে টিভিতে শুধুই স্কুল কলেজের এ্যাডভাটাইজ, শাড়ির এ্যাডভ্যাটাইজ...তারপর মুজিব পরিবারের কারও নামে কলেজ ভার্সিটি ব্রিজ নির্মানের আবেদন পড়লে গ্রান্টেড। আহা ! সোনার বাংলা।

আবেগে আবদারে মুজিবের মূর্তি গড়ল, লালনের মূর্তি ভাংল ... তখন লীগের স্বর্ণ যুগ। আবার সেই বাঙ্গালী আবেগে আবদারে সকল মুজিব মূর্তি ভাঙ্গল, ৩২ নং বাসা গেল। সময়ের দাবি... জেনারেশন জেড এর বিবেক তাগ্রা জুয়ান হয়ে গেছে... সুবিধাবাদী বলে কথা।

যাই হোক, ভারত এত দিন বন্ধু রাষ্ট্র ছিল। বিয়ে থেকে শুরু করে ঈদ পূজা বা আন্ডার গাউন পুরান হলেও বাঙ্গালি কলকাতায় মার্কেট করতে যেত। সর্দি লাগলেও হাওয়া বদল করতে ভারতে যেত।

আর এখন পাকিস্তান বন্ধু হয়ে গেল। পেয়াজ দিচ্ছে. জাহাজ ভর্তি করে চাল আসছে, কম দামে নতুন নতুন ড্রেস দিচ্ছে... ট্রাভেলাররা পাকিস্থানের হোটেল রেস্ট্যুরেন্টে এক বেলা ফ্রি খেতে পাচ্ছে। আহা ! প্রসংশায় পঞ্চমুখ।

এতই যদি ভাল লাগে, ৭১ এ দেশ ভাগ করলি কেন রে ভাই? যু্দ্ধের পর ৯০ হাজার যে অবৈধ সন্তান জন্ম নিল, তারা এখন তোদের মেয়ে জামাই বা বউ হয়ে ঘরে ঢুকেছে সেজন্যে? এত মায়া কিসের পশ্চিম পাকিস্তানের উপর?

শালা সুবিধাবাদী বাঙ্গালী... কোন জাত নাই...





সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ১২:১১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×