somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

না পারভীন
আমি ডা: নার্গিস পারভীন। বর্তমানে সরকারের স্বাস্থ্য সৈনিক। আমি ডাক্তারি ছাড়া আর কিছু পারি না।

চিকিৎসায় রিলিজিয়াস কাউন্সেলিং ; দ্বিতীয় পর্ব

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা সেই সময়ের কথা যখন ফেইসবুক , ব্লগ সব খানে মিতা হক আর তার ভিডিও । আমি তো এই এই ভিডিও দেখবো না , দেখবোই না । কথা বলতে তো আর ট্যাক্স লাগেনা । যার যা খুশি বলছে , বলতে দাও । শুনলে শুন , না শুনলে নাই । শেষ মেশ কিভাবে কিভাবে শুনেই ফেললাম ।
বাঙ্গালি , অবাঙ্গালি নিয়ে হই চই । কিন্তু এসব বাদ দিয়ে আমি যা শুনার শুনে ফেললাম :P
মিতা হক একখান মূল্যবান কথা বলছিলেন , ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দেখেন সব বোরখা পরা মহিলারা ।
এই কথাটা কিন্তু সত্য । আমাদের এখানে যত রোগী আসে তার মধ্যে কয় জন বোরখা ছাড়া আসছে আমি বলে দিতে পারবো । খুব কম । খুউউব কম ।

এটাই আমার বাংলাদেশ । এখানে জীবন আর ধর্ম এক হয়ে
মিশে গেছে । ধর্মকে বাড়ি রেখে শুধু শরীর টা নিয়ে কেউ আসেনা । হিন্দুরা আসে শাঁখা সিঁদুর পরা । কেউ কেউ তিলক লাগানো । শরীরের ৬ জায়গায় লাগাতে হয় সে তিলক ।
আবার মুসলিমরা বোরখা পরা । আর আমরা আমাদের দেশের মানুষের মূল্যবোধকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি ।

এটা প্রায় ডাক্তাররাই করে । আমাদের ট্রেনিং ই এমন ।
প্রতিদিন আমাদের অনেকগুলো রিলিজিয়াস ব্যাপার সমাধান দিতে হয় ।
আবার যখন দেখি ধর্মীয় ব্যপারে তারা ভুল ধারনা নিয়ে বসে আছে , সেটার সমাধান দেয়া কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় ।
কমন যেসব কথা রোগীরা বলে

** সবই আমার কপাল গো আপা /সবই আল্লাহর ইচ্ছা / বাতাস লেগে আগের বাচ্চাটা নষ্ট হয়েছে / এই বারও বাতাস লাগছে ।
** আমি আর ওষুধ খাবনা , আর চিকিৎসা নিবনা
** সব বিপদ ই আমার উপরে কেন ?
** আমি কাপড় খুলবোনা আপনি কাপড়ের উপর দিয়ে দেখেন
** আমি ছেলে ডাক্তার দেখাবোনা
**পিরিয়ডের সময় কি স্বামীর সংগে মেলামেশা করতে পারবো ?
** দিনের বেলায় সে আমার সংগে থাকতে চায় কেন ? তার কি মাথায় দোষ আছে ?
**বাচ্চাটা নষ্ট করমু আফা , বাচ্চা রাখুম না ।
** জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নেয়া নিষেধ আছে ইসলামে
** গর্ভবতীর পরিবারে সবসময় অশান্তি
** বাচ্চারে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে দিসি
**যখন রোগী মারা যায়
** আমি বিষ খেতে চাই
** আমি রক্ত দিবোনা ( ব্লাড ডোনেট করবোনা )
** পায়ে পানি না লাগাতে পারলে নামাজ পড়বো কেমনে ? ( পায়ে অসুখের কারনে , বা অযু করার সময় ভিজে যায় এমন অংশ গুলো )
** আমার কি আসলে বাচ্চা হবে , নাকি মিথ্যা সান্ত্বনা ।
** মেয়ে হবে শুনে মন আন্ধার
** আমি কি কোন দিন ভাল হব না ? আল্লাহ কি আমার কথা শুনে ? আল্লাহ কোথায় ?

তাদের কথা শুনে মনে কি হচ্ছে , তাদের প্রশ্নের কথাগুলোর উত্তর দেয়া খুব সহজ ? আসলে তেমন কঠিন ও না ।কিন্তু রিলিজিয়াস ব্যাপার গুলো এমন এখানে বানিয়ে বলার স্কোপ নাই । আর আমদের স্মৃতিশক্তি সব সময় বসে আছে আমাদের সাথে বিট্রে করার জন্য । তাই প্রয়োজন পড়েছে সব গুছিয়ে রাখার । যেন প্রায় দেখা যায় ।

(১) যেমন তারা কিছু হলেই ভাগ্য , কপাল এর উপরে দোষ দেয় । এমনকি বলে সব গুলো বাচ্চা বাতাস লেগে নষ্ট হয়ে গেছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপায় । কিন্তু আল্লাহ তো মানুষকে জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন । সর্বোপরি এই ডাক্তার দের যে জ্ঞান এটাও আল্লাহর ই দেয়া । তাই পরামর্শ নেয়া দরকার ।

আল্লাহ নিজেই বলেন , সুরা বাক্বারা ৪৪ নং আয়াতে , “ তোমরা কি জ্ঞান বুদ্ধি কাজে লাগাবে না ? “

সুতরাং সব নিয়তির উপর চাপিয়ে দিয়ে পার নেই । অনেক চেষ্টা করে যেটা হয়নি সেটা ভাগ্য বলা যায় ।

আল কুরআনে আছে “ নিশ্চয় আল্লাহ বদলান না কোন জাতির ভাগ্য যতক্ষণ না তারা নিজেরা বদলায় । “

(২) জটিল থেকে জটিলতর করে নিয়ে আসে । অথবা কেউ কেউ চিকিৎসা নিবেনা আগেই বলে দেয় । বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঝাড় ফুক ই বেশি চলে ।

মুসলিম শরীফের ২৪ অনুচ্ছেদে আছে , যে কোন রোগের ওষুধ আছে এবং চিকিৎসার সুযোগ গ্রহণ করা মস্তাহাব । "আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি যার নিরাময় উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেন নি বুখারী ৫২৭২ ,


মুসলিম ৫৫৭৮ নং হাদিসে মহানবী ( সাঃ ) বলেন সব রোগের ই ওষুধ আছে ।
রোগ নিরাময়ের জন্য ওষুধ প্রয়োগ করা হয় তখন আল্লাহর হুকুমে তা আরোগ্য হয় । “
“ আল্লাহ যখন কাউকে আরোগ্য দান করার ইচ্ছা করেন , তখনই কেবল ওষুধ কার্যকরী হয় ।

(৩ )তারা বলে আমি ছেলে ডাক্তার দেখাবোনা । ধরেন এনাল ফিসার তার অপারেশন লাগবে কি লাগবেনা তাকে মেইল সার্জনের কাছে পাঠানো হচ্ছে । ফিমেইল সার্জারি বিশেষজ্ঞ এখানে কোথায় পাব ?
এমন কি ফিমেল ডাক্তারকেও দেখাতে চায়না । প্রথমটার ক্ষেত্রে তারা মনে করে তাদের গুনাহ হবে ২য় ক্ষেত্রে লজ্জাবোধ কাজ করে ।
সুরা নূরের ৬১ নং আয়াতে পর্দার ব্যাপারে আলোচনার সময় বলা আছে , পর্দা ঠিক যেমন বলা আছে তার বর খেলাপ হলে , “ রোগীদের জন্য কোন দোষ নাই । “

এমন কি হাদিস গ্রন্থ আবু দাউদের ১৮২ নং অনুচ্ছেদ মহিলা রোগীদের সেবা প্রসঙ্গে এসেছে ।

হযরত মুহাম্মাদ ( সাঃ ) উম্মে আলার সেবা করতে যান । আবু দাউদের ৩০৭৯ নং হাদিস টি উম্মে আলাকে মহানবী ( সাঃ ) বলেছিলেন । হে উম্মু আলা ! তুমি সু সংবাদ গ্রহণ কর । কেননা মুসলমানদের অসুখের দ্বারা আল্লাহ গুনাহ তেমন করে দূর করে দেন , যেমন অগ্নি সনা রূপার মরিচা দূর করে দেয় । “



(৪ ) আবার ফিমেইল ডাক্তার বা সেবিকা কি পুরুষ রোগি দেখতে পারবে ? প্রাসঙ্গিক ভাবে এই প্রশ্ন চলে আসে ।
বুখারী শরীফের ৫২৭৭ নং হাদিসে আছে , কুতায়বা (রাঃ ) বলেন , আমারা নবী ( সাঃ ) এর সংগে যুদ্ধে শরিক হতাম । তখন আমরা লোক জন কে পানি পান করাতাম । তাদের সেবা যত্ন করতাম এবং নিহত ও আহতদের মদিনায় পৌঁছে দিতাম । “

(৫ ) মহিলাদের যে কোন সময় পার ভেজাইনাল ব্লিডিং এর সময় স্বামী সহবাস নিষেধ দেন ডাক্তাররা । এতে অনেক মারাত্মক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
সুরা বাক্বাকার ২২৩ নাং আয়াতে আছে , “হায়জের সময় তোমরা স্ত্রী সহবাস থেকে দূরে থাক । পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত নিকটে যাবেনা । যখন উত্তম রূপে পবিত্র হয়ে যাবে তখন আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে নিকটে যাও । “

(৬ ) দিনের বেলায় সে আমার সংগে থাকতে চায় কেন ? তার কি মাথায় দোষ আছে ?
কখনো কখনো অত্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারেও মতামত দিতে হয় । সমস্যাগুলো তো ছোট না । এই ধরনের সমস্যার জন্য ও ঘর ভেঙ্গে যায় । শুধু মাত্র জ্ঞান নাই , তাই ।
রোজার সময় দিনে সহবাস নিষেধ থাকে ।
কিন্তু অন্যসময়ের ব্যাপারে সুরা বাক্বারার ২২৩ নং আয়াতে আছে ,
“ তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র
তাদের ক্ষেত্রে ইচ্ছামত যেতে পার । “


(৭ ) যখন ঠিকমত চিকিৎসা করার আগে অপবাদ দেন তার আর সন্তান হবেনা , কি হয় মেয়েটার ? কত করুণ হয় তার জীবন । তার চোখের পানির মূল্য আল্লাহর কাছে আছে । আর নিষ্ঠুর মানুষের জন্য শাস্তি ।
সুরা নূর ২৩ নং আয়াতে আছে , “ নিঃসন্দেহে যারা অপবাদ আরোপ করে সাধ্বী ও আত্মভোলা মুমিন নারীদের উপর , তারা ইহকালে অভিশপ্ত , তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি । “

( ৮ ) বাচ্চা হওয়ার সব ধরণের চিকিৎসা বাংলাদেশেই আছে ।ওষুধ পত্র তো রইলোই বেসরকারি সেক্টরে আমাদের সম্মানিত শিক্ষক রা চালু করেছেন টেস্ট টিউব বেবি পর্যন্ত । চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত না হলে সেটা ভাগ্য । তার আগে না ।
আবার দেখা যায় ১/ ২ সাইকেল ওষুধ খাওয়ার পর তারা হতাশ হয়ে কান্না করতে থাকে । আল্লাহ নির্ধারিত করে রেখেছেন কে কখন দুনিয়ায় আসবে । কে কখন মারা যাবে । আল্লাহ চিকিৎসা ও দিয়েছেন ।

মুসলিম শরীফের ৩৪০৯ নং হাদিস এ আছে , “ কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ যাদেরকে সৃষ্টি করবেন , তাদের সম্পর্কে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন । “



(৯ ) বাচ্চাটা রাখুম না ।মাত্র বিয়ে করেছি এখনই বাচ্চা নেয়ার ইচ্ছা নাই । উদাস কণ্ঠে এই কথা হাসবেন্ড গুলা বলে ।
নিজেরাই খেতে পারিনা আর একটা বাচ্চা হলে তাকে খাওয়াবো কি ? অনেক সময় আমরা তাজ্জব হয়ে যাই কেউ কেউ বাচ্চা নষ্ট করাটাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি করে ফেলেছে ।

কেরে ভাই , তোমরা জন্য কি জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নাও নাই কেন । সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে । বাচ্চা নষ্ট করাতো জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি না । আন সেইফ এবরশ ন করাতে গিয়ে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল অনেক উপরে । ২১ ভাগ মা এভাবে মারা যেতো ।এখন যদিও সেটা কমে এসেছে ।

আমাদের দেশে বিয়ে হয়ে যায় । কিন্তু বিয়ের সময়ে কোন কাউন্সেলিং এর কোন ব্যবস্থা না থাকাটা এর কারণ ।
সুরা আনআমের ১৪১ নং আয়াতে আছে , “ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারা যারা নির্বোধের মত না জেনে আপন সন্তানকে হত্যা করে । “
একই সুরার ১৫২ নং আয়াতে আছে , “ অভাবের ভয়ে আপন সন্তানকে হত্যা করবেনা । আমি তাদেরকেও রিজিক দেই । “

(১০ )
ইসলামে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নেয়া নিষেধ আছে জানি নাতো । আজল ( coitus interruptus ) নামের পদ্ধতি ছিল । ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিতে নিষেধ নাই , কিন্তু বাচ্চা এসে গেলে সেটাকে নষ্ট করা গুনাহ আছে ।

(১১ ) কিন্তু যখন সন্তান ধারণ মায়ের জীবনের জন্য ঝুঁকি নিয়ে আসে সেক্ষেত্রে টারমিনেশন করা যায় ।
“ কোন মাতাকে সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবেনা । “
২২৩ সুরা বাক্বারা ।

আমাদের কিছু স্পেসিফিক ইন্ডিকেশন আছে মেডিকেল টারমিশন অফ প্রেগনেন্সির । আমার শরীর এমনেই দুর্বল , বাচ্চা রাখুম না বললেই হবে না ।

(১২ ) কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রেগন্যান্ট মায়েরা পারিবারিক ভায়োলেন্সের শিকার হয় । মায়ের প্রশান্তির খুব দরকার আছে । বিশ্রাম না পেলে , অত্যধিক পরিশ্রম করলে , অত্যধিক মানুষিক চাপে পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যেতে পারে । বা সময়ের আগেই অপুষ্ট সন্তানের জন্ম হয়ে যেতে পারে ।
মানুষিক ব্যাপারটা আসলে কতটুকু এফেক্ট ফেলে সন্তানের উপরে ? অনেকটাই ।
এর অনেক সায়েন্টিফিক প্রমাণ আছে । ধর্মীয় প্রমাণ ও আছে । মা কুরআন শরীফ পড়তো বলে হযরত আব্দুল কাদের জিলানী ১৮ পারা পর্যন্ত কুরআন মুখস্থ করে এসেছিলেন মায়ের পেট থেকে ।

(১৩ ) মানুষ হতাশা থেকে , ভালবাসা না পেয়ে , আঘাত পেয়ে কোন কোন মানুষ সুইসাইড করতে চায় । আবার কোন কোন সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডার আছে আছে যেখানে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি বাড়ে ।
এ সম্পর্কে হাদিস টি হল ‘ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপ ভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে । যে বিষপান করবে জাহান্নামের আগুনের মধ্যে চিরকাল তার হাতে বিষ থাকবে আর তা পান করতে থাকবে । যে লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে , জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকবে , চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে ।

(১৪ ) রক্তের অভাবে এক রোগীর জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে , তখন একই গ্রুপের রক্ত হওয়া শর্তেও তার বোন রক্ত দিচ্ছিল না । শেষ মেষ সে রক্ত দেয় । রোগীটা বেঁচে যায় ।

আমারা বলে বাধ্য হয়েছিলাম সুরা মায়িদাহ ৩৩ নং আয়াত “ যে কেউ কারো জীবন রক্ষা করল সে যেন সকলের জীবন রক্ষা করলো ।

(১৫ ) রোগীরা যেন সন্তানকে বুকের দুধ পান করায় তার জন্য আমরা অনেক ডাক্তার আপ্রাণ চেস্টা করি । সুরা বাক্বারার ১৩৪ নং আয়াতে আছে , “মায়েরা আপন সন্তানদের পূর্ণ দুবছর দুধ পান করাবে । “ কিন্তু কোন মাতাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না । “

(১৬ ) অনেক সময় সব চেষ্টা বিফল করে দিয়ে কেউ মারা যায় , সান্ত্বনা খুঁজে নিতে হয় সুরা ইমরান ১৪৫ নং আয়াতে থেকে , “আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কারো মৃত্যু হতে পারেনা । যেহেতু প্রত্যেকের মেয়াদ নির্ধারিত । “



(১৭) ডাক্তার রা যখন কোন অসুখের কারণে হাতে বা পায়ে পানি লাগাতে নিষেধ করেন , রোগীরা হতাশ হয়ে প্রশ্ন করে তাহলে কিভাবে অযু করবে , কিভাবে নামাজ পড়বে ?

সুরা নিসার ৪৪ নং আয়াতে আছে , " আর যদি রোগী হও ...তবে তোমরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর । "


(১৮ ) আমার কি সন্তান হবেনা ? আসলে কি আমার সন্তান হবে ? নাকি মিথ্যা সান্ত্বনা ?

এসব চিকিৎসা এমন এখানে কোন গ্যারান্টি নেই কি হবে । আশা ও আল্লাহর কাছে বিশ্বাস রেখে করে যেতে হয় । এবং অনেককেই আল্লাহ সাহায্য করেন । আমরা বলি ওশুধ খান , নিয়ম মেনে চলেন আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ।

সুরা আম্বিয়ার ৮৯ নং আয়াতে আছে , " " হে আমার রব , আমাকে নিঃসন্তান রেখোনা , তুমি শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী দাতা । "
সুরা আলে ইমরানের ৩৯ নং আয়াতে আছে , " হে আমার রব ! আপনি নিজের নিকট থেকে আমাকে সন্তান দান করুন । আপনিতো প্রার্থনা শুনেন । "

হযরত জাকারিয়া (আঃ ) এই প্রার্থনা করেছিলেন ।





(১৯)

রোগীরা সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে এটা ধনী গরীব , শিক্ষিত অশিক্ষিত সবার সমান আগ্রহের বিষয় । যখন মেয়ে হবে শুনে এটা অনেকেই খুব ভালভাবে নেয় । অনেকের মুখ চুপসে যায় । ভয়ে । স্বামীর ভয় । শাশুড়ির ভয় ।

আমি রিসেন্টলি শিখেছি কিভাবে গ্রহণ যোগ্য ভাবে সুসংবাদ দিতে হয়
> প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়া রাসুলের সুন্নত
>> পর পর ২ টি কন্যা সন্তাঙ্কে ভালভাবে লালন পালন করে বিয়ে দিতে পারলে তার জন্য জান্নাত অয়াজিব হয়ে যায়
>> আর সন্তান ছেলে বা মেয়ে হবে এতে মহিলাদের কোন ভুমিকা নেই । ( আরেকটু ভেংগে বলি )

বেশির ভাগ সময় খুশি দেখতে পাই মায়েদের মুখে ।

(২০)

আমি কি কোন দিন ভাল হবোনা ?আল্লাহ কোথায় , আল্লাহ কি আমার কথা শুনে না ?

সুরা আলে ইমরান ১৬১ নং আয়াতে আছে , শুধু আল্লাহতেই মুমিনদের ভরসা করা উচিত ।
সুরা বাক্বারার ১৮৭ নং আয়াতে আছে , “ আমি নিকটেই আছি । আমি সাড়া দেই প্রার্থনা কারীর প্রার্থনায় । “ তাদেরও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেয়া ও আমাকে বিশ্বাস করা যেন , তারা সুপথ পায় । “

সুরা ইয়ুসুফ এর ৮৮ নং আয়াতে আছে , “ আল্লাহর দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না । যারা অবিশ্বাসী তারা ছাড়া আল্লাহর দয়া থেকে কেউ নিরাশ হয়না । “

কুরআনে আরো আছে , রাসুল ও তাঁর সঙ্গী মুমিন রা বলেছিল , " আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে ? ওহে আল্লাহর সাহায্য নিকট বর্তী "



এখানে এমন কিছু আছে , অনেক আবেগের কথা , চোখের পানির কথা , অথবা অনেক উচ্ছ্বাস , মিষ্টি বিতরণ যা গাঁথা আছে লেখাগুলোর পিছনে যা সামনে আসেনি । হয়তো যখন একটা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মারা যায় , একটা ফুলের মত শিশু মারা যায় তার কোঁকড়া চুলের কালো বর্ণ , তার গোলগাল ফর্সা মুখটা অথবা কোন মহিলা যে সংসার থেকে বের করে দেয়া হয় সন্তান হবেনা এই অপবাদ দিয়ে ।
সুস্থ হয়ে যাওয়া মানুষের আনন্দ । একটি পুতুলের মত বাচ্চার কান্না শুনে সবাই হই চই করে উল্লাস । কার মত হল পুতুলটার চোখ , মুখ ।


আল্লাহ নিষ্ঠুর মানুষ পছন্দ করেন না । আল্লাহ পরম দয়ালু । আল্লাহর রঙ্গে রঙ্গিন হই এটা আল্লাহর চাওয়া ।অসুস্থ দের জন্য আত্মীয় , বন্ধুবান্ধবের সামান্য স্নেহের কথাও অনেক দামী ।

আমি আর কি করবো যাদের কে আল্লাহ সাহায্য করবেন ঠিক করেন ডাক্তারদের তাঁর এসিস্টেন্ট নিয়োগ দেন । আমরা শুধু সেটাই করে যাই । :) :)


রিলিজিয়াস কাউন্সেলিং ; অসুস্থ মানুষদের জন্য সিম্পেথি


কৃতজ্ঞতা ঃ ব্লগার তন্দ্রা বিলাস >> সংগ্রহে রাখুন সকল সহীহ হাদীস (সিহাহ সিত্তাহ) বাংলা গ্রন্থ সমূহ, সকল খন্ড, ডিরেক্ট ডাউনলোড লিঙ্ক সহ । মেগা পোস্ট
(২) ডাঃ কলি আপা
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১১:৩৩
৪১টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন মরুঝড়: রেড নোটিশের খোঁজে আরিয়ান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:১৬



দুবাইয়ের জুমেইরাহ বিচের বিলাসবহুল পেন্টহাউসের কাঁচের জানালা দিয়ে বাইরের কৃত্রিম দ্বীপগুলোর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সায়েম চৌধুরী। একসময় ঢাকার পুলিশ কমিশনার এবং পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বর্গময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩


ওরা জান্নাত দেখে না
পুড়তে পুড়েই তো ছাই-
কতখানি জান্নাত দেখো
ঘরের ভিতর আছি কি?
নাকি মাটিতে থাক ঘুম;
যতক্ষুণ আছো নিঃশ্বাস
ততক্ষুণ জান্নাত দেখো
পরিবারে কিংবা চারপাশ!
পরকাল কে দেখে শান্তিময়
এখানে রচনা করো স্বর্গময়;

১৫-৬-২৬ ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের গল্প- ১০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০



১। একজন মা (কোহিনূর) সারারাত ঘরের দরজা খুলে বসে থাকেন।
কারণ কেউ একজন এসে তাকে বস্তা ভরতি টাকা দিয়ে যাবে। গতকাল রাতের কথা। আমার বাসায় ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×