somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীলের খাল ও হতাশার লংঃ লালাখাল ও জাফলং

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নীল পানিকে কে না ভালোবাসে? নীল যে সমুদ্রের সাদৃশ ৷ যে সমুদ্র ভালোবাসে সে নীল রঙ তো ভালোবাসবেই ৷ আছে নাকি এমন কেউ যে সমুদ্র ভালোবাসেনা??
তবে এবার সমুদ্র নয় লালাখাল এর নীল পানির কথা বলছি ৷
আমরা ঘুরতে থাকা চিল এর দশ জন ঘুরে আসলাম শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার, শাহপরান (রহঃ) এর মাঝার ,লালাখাল, জাফলং আর তামাবিল জিরো পয়েন্ট ৷
মূল উদ্দেশ্য হলো লালাখাল এর নীল রঙা পানি দেখা ৷ গত ১৫ তারিখ রাত ১০ টার হানিফ বাসে করে আমরা রওনা দশ জন রওনা হই সিলেট এর উদ্দেশ্যে ৷ ভোর ৫ টায় আমরা সিলেট শহরে পৌছাই ৷ ৬ টার সময় আমরা ১০ সিটের একটি মাইক্রোবাস সারাদিনের জন্যে ভাড়া নিয়ে নেই ৷ নজরুল ভাই ছিলো আমাদের ড্রাইভার, মানুষটা ভালোই সারাদিন তিনি আমাদেরকে নিজে তাগিদ দিয়ে ঘুরিয়েছেন ৷
প্রথমেই আমরা যাই শাহজালাল (রহঃ) এর মাজারে ৷ সেখানে কিছুক্ষন সময় কাটাই আমরা ৷ সকালের নাস্তা করি মাজারের সামনের একটা হোটেল এ ৷ মজার কাহিনী হলো এরা পরোটা আর রুটির মধ্যকার পার্থক্য টা বুঝতে পারেনা!!
তারপর নজরুল ভাই আমাদেরকে নিয়ে যায় শাহপরান (রহঃ) এর মাজার এ ৷ সেখানে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে সোজা চলতে থাকি সারিঘাট এর উদ্দেশ্যে ৷ সকাল ১০ঃ৩০ নাগাজ পৌছাই আমরা সারিঘাট ৷ সেখান থেকে দরদাম করে একটা ট্রলার ঠিক করি যেটা আমাদের লালাখাল ঘুরিয়ে আনবে ৷
যাত্রা শুরু আমাদের ট্রলারের ৷ ট্রলারের মাঝি অল্পবয়স্ক খিটখিটে ৷ সারি নদীর উপর দিয়ে চললো আমাদের ট্রলার ৷ নদীর মাঝখান থেকে শ্রমিকেরা বালু উঠাচ্ছে ৷ কিছু যায়গায় পানি এতটাই কম যে নিচের মাটি দেখা যাচ্ছে ৷ প্রায় ৪০ মিনিট পর আমরা পৌছাই লালাখাল ৷ অসম্ভব নীল পানি ৷ দেখতেই এক অপূর্ব ভালো লাগা কাজ করছিলো ৷ ঠিক উপরেই একটা চা বাগান ছিলো ৷ আমি না গেলেও বাকি সবায় চা বাগানট ঘুরে এসেছি ৷ চার দিন আগেই জিরো পয়েন্ট এ চোরাবালি তে আটকে দুজনের মৃত্যু হয়েছিলো ৷ সেই কারনে সেদিন জিরো পয়েন্ট এ যাওয়া এবং পানিতে নামা নিষিদ্ধ ছিলো ৷ কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে আমরা ফিরি সারিঘাট এ ৷ তখন প্রায় ১ টা বাজে ৷ এবারে যাত্রা শুরু জাফলং এর উদ্দেশ্যে ৷
ধূলার রাজ্যে উপস্থিত আমরা ৷ আজ থেকে ৩ বছর আগেও জাফলং এরকম ছিলোনা ৷ বাস্তবতার কাছে যেনো প্রকৃতি হার মেনেছে ৷ প্রকৃতি আজ বড়ই নিরুপায়, রুক্ষ ও বটে ৷
জিরো পয়েন্ট এ পাথর,ব্যাবসা আর মানুষ ছাড়া কিছুই নেই!! বিরক্তি আরও বাড়াবে হিজড়া দের অশালীন আচরন এ ৷ কোথাও কেও দেখার নেই এসব অনিয়ম ৷
হতাশা দূর করার জন্যে সবায় মিলে কিছুক্ষন পানিতে লাফলাফি করে নিলাম ৷ প্রথম বার জাফলং গিয়ে ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছিলো না ৷ আর এবার গিয়ে এতটাই হতাশ যে কখন শহরে ফিরবো!!
ফিরতি পথে ঘুরে আসলাম তামাবিল জিরো পয়েন্ট ৷ সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ নাগাদ পৌছাই আমরা রেল স্টেশনে ৷ রাতের খাবার, আড্ডা সেরে রাত ১০ টার উপবন ট্রেন এ করে আমরা ঢাকায় ফিরি ৷
কিছু সাজেশন ও খরচপাতিঃ
* ৮ জনের বেশী বড় গ্রুপ হলে রিজার্ভ সিএনজি/লেগুনা/মাইক্রোবাস করে নেওয়া ভালো ৷
ড্রাইভার নজরুলঃ01716-387111
*লোকাল ভাবে যেতে যাইলে কদমতলী থেকেই সিএনজি/লেগুনা পাওয়া যায় ৷ জাফলং পর্যন্ত ১০০ টাকা আর সারিঘাট পর্যন্ত ৬০ টাকা করে নিবে ৷ এছাড়াও শহরের সোবহানিঘাট এলাকা থেকে জাফলং এর বাস পাওয়া যায় ভাড়া ৮০ টাকা ৷ সেই বাসে করে সারিঘাট নামলে ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা ৷
*সারিঘাট থেকে লালাখাল এর ট্রলার ভাড়া ৭০০-১৫০০ টাকার মতো ৷ দরদাম এর উপর নির্ভর করে ৷
*জাফলং এ ৫০০ টাকার খাবারের দাম রাখবে ১৫০০ টাকা, খাবারের মান ও খারাপ ৷ শহর থেকে খাবার নিয়ে গেলে সেই খাবারের প্যাকেট ফেলে জাফলং কে আরও নষ্ট করার মানে হয়না ৷ তাই সারিঘাট থেকেই দুপুরের খাবার টা খেয়ে যাওয়া ভালো ৷


অবশেষে কিছু ছবিঃ
১)ঘুরতে থাকা চিলেরা


২)শাহপরান (রহঃ) এর মাজারের সামনে


৩)পথের সৌন্দর্য


৪)সারিঘাট


৫)ট্রলারে আমরা সবায়


৬)বালু উত্তোলন


৭)নীল রঙা খাল


৮)শূন্যে ভাসে


৯)স্বপ্নের ক্যানভাস


১০)ডাউকি


১১)মরুভূমি


১২)মরুভূমির ভিতর একটু শান্তি খোজা


১৩)ঐ যে ভারত


১৪)জাফলং এ গ্রুপ ছবি


১৫)তামাবিল জিরো পয়েন্ট

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×