somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পকে আধুনিকায়নের চেষ্টা

২১ শে নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে)

বনের রাজা সিংহ তার আন্ডাবাচ্চা নিয়া রোদ পোহাচ্ছিলো!
এমন সময় বাঁদর এসে তার লেজ ধরে দু’টা ঝাকি দিলো!
সিংহ যতোটা না অবাক হলো, তার চেয়ে বিরক্ত হলো বেশী!
বাঁদর একটু দূরে দাঁড়িয়ে সিংহকে কয়েকটা ভেংচি কেটে হাসতে হাসতে চলে গেলো!
সিংহের বাচ্চা এটা দেখে ভীষণ কষ্ট পেলো আর রাগান্বিত হয়ে সিংহকে উদ্দেশ্য করে বললো, “এত্তোবড় বেয়াদবী! আর আপনি তাকে কিছুই বললেন না বাপজান !”
সিংহ বললো, “বলার সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি! আমার চিন্তাধারা তোমাদের মতো এতো সাধারণ না। তোমরা এখনো আমার মতো করে ভাবতে শেখোনি। আমি একটা সিস্টেমে চলি। একটু সময় অপেক্ষা করো, সবকিছু দেখতে পাবে!”
কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই বাঁদর সিংহের সামনে পড়লো এবং এক থাপ্পরে তাকে শেষ করে দিলো সিংহ।
সিংহের বাচ্চা অবাক হয়ে সিংহকে জিজ্ঞেস করলো, “বাপজান! সেদিন এতো অন্যায় করলো! কিন্তুু আপনি কিছুই বললেন না তাকে ! অথচ আজকে সে কিছুই করেনি! কিন্তু তাকে মে-রে ফেললেন?"
সিংহ জবাবে বললো, “এটাই কৌশল বাবা ! সেদিনের পর বাঁদরটা ভালুক কে লা-থি মেরেছে! হাতির শুড় ধরে দুলছে! গন্ডারের পিঠে চড়ে নাচছে! হায়নাকে সে কাতুকুতু দিয়েছে! জিরাফকে থাপ্-পড় দিয়েছে! আর সবাইকেই বলছে, রাজাকেই আমি মানি না! সেখানে তুমি কে? সেদিন ওরে মা-রলে সবাই আমাকে বলতো, ক্ষমতা দেখাইতেছি, স্বৈরাচারী এবং খু-নী আমি! আজকে একটু পর দেখবি- সবাই এসে বলবে, থ্যাংক ইউ রাজা সাহেব!”
“শোন মাঝে মাঝে লাই দিয়া মাথায় তুলতে হয়! যাতে শক্ত করে আছা-ড় দিলে বেশী ব্যথা পায় এবং আপদ শেষ হয়ে যায় একেবারে।”

এর কিছুদিন পরের ঘটনা। আরেকটা বানর এসে সিংহের গায়ে হিসি করে দিলো। এবারও বাচ্চারা সাথে ছিলো। কিন্তু তারা অধৈর্য্য হলোনা। তারা জানে তাদের বাবা একটা সিস্টেমে চলে। তারপর প্রায় প্রতিদিনই বানরটা এমন করতো আর সিংহের বাচ্চারা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতো যে তাদের বাবা সময় হলেই প্রতিশোধ নেবে। কিন্তু এমন করে দিন যাচ্ছে, আর সিংহের বাচ্চাদেরও ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গছে। তারপর একদিন সেই মহেন্দ্রক্ষণ এলো। সিংহ যেই বানরের উপর থাবা চালালো, বানর লাফ দিয়ে ২০ ফিট দূর সরে গেলো। আর সিংহের থাবা পাথরে পরে সিংহের পা'টাই ভেঙ্গে গেলো। এ দেখে বাচ্চারা অবাক! "বাবা! এটা কি হলো?" সিংহ বয়সের ভারে আগের মতো থাবা না বসাতে পারার লজ্জা লুকিয়ে বললো, “এটা নতুন সিস্টেম। তোরা এখন সারা বনে ছড়িয়ে দে যে, এই বনে কোনো স্বাধীনতা নেই। সিংহ স্বাধীনভাবে থাবা মারতে চাইলেও বানর পিঠ পেতে দেয় না। এই পরাধীন বনে আর থাকা যাবে না!”
বাচ্চারা জানতে চাইলো, “এটা করে কি লাভ হবে?”
সিংহ বললো, “বনের বাহিরে অনেক রেসকিউ টিম আছে। তারা এটা জেনে আমায় উদ্ধার করে নিয়ে যাবে। তারপর বাকিটা জীবন আরাম-আয়েশে খেয়ে কাটিয়ে দিতে পারবো।”

এর কিছুদিন পর আরেক বানর এসে সিংহের গায়ে পটি করে দিলো। তখন বাচ্চারা চরম রাগান্বিত হলো। এই দেখে সিংহ তাদের আশ্বস্থ করে বললো এবার সিস্টেমে ফেলে বানরের প্রান নিবেই। তারপর হতে প্রতিদিনই একটা বানর সিংহের গায়ে পটি করে, আরেকটা হিসি করে। আর সিস্টেমের আশায় সিংহের বাচ্চা দিন পার করে। এমন করে একদিন সিংহটাই মরে গেলো। আর বাচ্চাগুলি রেসকিউ টিমের আশায় সিংহের স্মৃতি ফলকে লিখে দিলো, “একজন স্বাধীনতাকামীর মৃত্যু হলো। এই বনে আমরা বড্ড অসহায়!”

অফস্ক্রিনে দেখা গেলো,
“বানর আর সিংহের বাচ্চারা একত্রে গ্লাস ঠুকে “চিয়ার্স” ধ্বনি দিচ্ছে। আর নেক্সট সিনে বানর কোনরূপ নিয়ে সিংহের সামনে দাঁড়াবে তা ডিসাইড করছে”
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৫:৪২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×