somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভার্টিকেল ফার্মিং কী আগামীর খাদ্য উৎপাদনের টেকসই কৌশল?

২৯ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সভ্যতার ধারায় খাদ্য মানুষের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। মানুষের টিকে থাকার জন্য খাদ্য আবশ্যক। আর তাই মানুষ সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আজ অবধি খাদ্য উৎপাদনে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে আসছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নতুন গবেষণা চলছে, প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হচ্ছে।
তবে, একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে নিরন্তর গবেষণা চলছে। পরিবেশের উপর বিরূপ ক্রিয়া হ্রাস করে অধিক মাত্রায় খাদ্য উৎপাদন করে বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। তবে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু সংখ্যক পরিবেশ বান্ধব কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। খাদ্য উৎপাদনের এমন একটি কৌশল হলো ‘ভার্টিক্যাল ভার্মিং”। এই পদ্ধতিতে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত কাঠামোতে উল্লম্ব বরাবর ফসল আবাদ করা হয়। আমরা সাধারণত ভূ-স্তরের আনুভূমিক বরাবর তথা বিস্তৃত মাঠে ফসল আবাদ করা দেখে অভ্যস্ত। ভার্টিক্যাল ফার্মিংয়ে স্বল্প জায়গায় এক স্তরের উপর অন্য স্তরে বিন্যস্ত কাঠামোতে ফসল আবাদ করা হয়। তবে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নে উন্নতর প্রযুক্তি, নিবিড় পরিচর্যার দরকার পড়ে। ফলে এটা সত্য যে প্রাথমিক স্তরে এই পদ্ধতি ব্যায় সাপেক্ষ এবং অবশ্যই তা পরিচালনায় দক্ষ, প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। এই পদ্ধতিতে ফসল আবাদে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা, আলো, পানি ও আর্দ্রতা কৃত্রিমভাবে সরবরাহ করা হয়।
পৃথিবীর বহুদেশে খাদ্য উৎপাদনে ভার্টিকেল ফার্মিং জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশ্বের অনেক খামারে ভার্টিকেল ফার্মিং পদ্ধতিতে ফসল আবাদ সফল হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তাদের মতে, পরিবেশের উপর কোনো রকম বিরূপ ক্রিয়া না করে খাদ্য উৎপাদনে ভার্টিকেল ফার্মিং হতে পারে একটি চমৎকার কৌশল। ’ফিশচার ফার্ম’ এমন একটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান যেখানে ভার্টিকেল ফার্মিং পদ্ধতিতে ফসল চাষ করা হয়। যুক্তরাজ্যের নরউইচ শহরে অবস্থিত এই খামারে ভার্টিকেল ফার্মিং পদ্ধতিতে প্রতিদিন গড়ে ১০০০ টন সবুজ সবজি, দানাশস্য ও সালাদ উপযোগী ফসল উৎপাদন করা হয়।
অনেকে মনে করেন, সারা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তায় এই প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান এগ্রিটেক-ই এর পরিচালক বেলিন্ডা ক্লার্কের মতে, ভার্টিকেল ফার্মিং কৃষি শিল্পের জন্য একটি গেমচেঞ্জার হতে পারে, তবে প্রাথমিক ধাপে সঠিকভাবে এই ব্যবসা মডেল দাঁড় করানো বেশ জটিল’।
ফিশচার ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা ট্রিস্টান ফিশচার বলেন, আমি মনে করি এই পদ্ধতি সমগ্র বিশ্বের খাদ্য স্থিতিবস্থার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইসাথে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি না করে এই পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব”।
ভার্টিকেল ফার্মিং পদ্ধতির মাধ্যমে চাষাবাদে প্রাথমিকভাবে বেশ খরচ হয়। ড. ক্লার্ক বলেন, “অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যায়বহুল, প্রাথমিক ধাপে বেশ খরচ হয়। আপনাকে অবশ্যই উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ করতে হবে”।
তবে উৎপাদিত ব্যায় বিবেচনা করে এমন ফসল উৎপাদন করতে হবে যা থেকে বেশি লাভ পাওয়া যায়। বিশেষ করে স্থানীয় চাহিদা বেশি, আমদানি বহুল, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি বা কসমেটিক শিল্পে উপজাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন ফসল আবাদ করতে হবে। গতানুগতিক ফসলের বাইরে অধিক লাভের সুযোগ আছে এমন ফসল বিবেচনায় নিতে হবে।
ভার্টিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিতে যে ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। কারণ, এই পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোনো প্রকার কীটনাশক বা বালাইনাশক প্রয়োগ না করে ফসল উৎপাদন করা হয়। হয়তো মনে হতে পারো এই পদ্ধতিতে ফসলের উৎপাদন কম হয়। তবে বিষয়টি সত্য নয়। কারণ উর্ধ্বমুখী চাষাবাদ হওয়ায় বিস্তৃত মাঠের চেয়ে জমির ব্যবহার কম হয়। দেখা গেছে ফিশচার ফার্ম তাদের খামারে চার একর (১.৬১ হেক্টর) জমিতে যে ফসল উৎপাদন করে, গতানুগতিক বিস্তৃত মাঠে সেই পরিমাণ ফসল উৎপাদন করতে ১০০০ একর (৪০৪ হেক্টর) জমি প্রয়োজন।
তবে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে বিশেষ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। ভার্টিক্যাল ফার্মিং বাস্তবায়নে নিরবিচ্ছিন্নভাবে শক্তির সরবরাহ থাকা জরুরী। ড. ক্লার্কের মতে, এই প্রযুক্তিকে টেকসই করার জন্য অবশ্যই উপযুক্ত শক্তির সরবরাহ আছে যেমন সোলার শক্তি বা জৈব জ্বালানীর উৎসের নিকটবর্তী অঞ্চলে ভার্টিকেল ফার্মিং প্লান্ট স্থাপন করতে হবে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে পরিবেশ বান্ধব এই প্রযুক্তি ফলপ্রসূ হবে। একদিকে পরিবেশ সুস্থ থাকবে, অন্যদিকে স্বল্প জায়গায় বিপুল সংখ্যক মানুষের খাবার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০২৪ রাত ১০:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×