
অন্ধকারে কিছুটা সময় চুপচাপ দাড়িয়ে ভাবছিলাম। আসলে এ আপাত জটিল পরিস্হিতিতে কি করতে হবে বা কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অনেক আশা নিয়ে মনকে একটু থিতু করেছিলাম এই কদিনে। নতুন জীবনটা খুব গুছিয়ে শুরু করবো,ভালো পারস্পরিক বোঝাপড়া হবে দুজনের মধ্যে। কিন্তু মানুষ ভাবে এক হয় আরেক।কথায় আছে বিধাতার লেখন না যায় খন্ডন।
হঠাৎ করেএকটা সুন্দর জীবনের আশা স্বপ্ন কল্পনা যেন হাজার হাতুড়ীর আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো মুহুর্তে। আসলে আমার জীবনটাই এমন, কোন ভালো আমার সহ্য হয় না, কোন ভালো কিছু আমার সাথে থাকে না। কেন থাকেনা তা জানি না।ে
অপরপক্ষ থেকে হঠাৎ কথা ভেসে এলো,
-কি হলো? দাড়িয়ে থাকবে নাকি সারারাত?
-নাহ !তা কেন, আমি আসছি।
-আসছি মানে? দূরত্ব বজায় রাখুন জনাব শত হাত দূরে।
-মানে?
-কোথায় ঘুমাবেন ঠিক করুন।উপরে না নিচে।
-উপরে নিচে আলাদা শোবার কি হলো? স্বামী স্ত্রী তো এক সাথেই ঘুমায় এটাই নিয়ম।
-আহা খুব শখ, আমি এসব নিয়ম কানুন মানিনা আর স্বামী গিরি আমার সাথে একদম ফলাতে আসবেন না।আমি আপনাকে স্বামী বলে স্বীকার করি না। আর কি বললেন স্বামী! স্বামী মানে তো প্রভু ! আপনি আমার প্রভু ভাবতেই আমার শরীরের মধ্যে ঘিনঘিন করছে। বর্বর লোভী একটা।
-তুমি এমন করছো কেন ? এমন আচরণের কারণ কি?তোমার কি মাথা খারাপ নাকি?
-মাথা আমার ঠিক আছে জনাব।
-তবে এসব কি কথাবার্তা? কি জন্য এ বিয়ে? আমার দোষটা কি তাও তো আমি বুঝতে পারছি না্ ।
-সত্যি কি বুঝতে পারছেন না ? নাকি ভান করছেন?আপনার তো লজ্জিত হওয়া উচিত নিজের নিলজ্জ আচরণের কারণে।
-আমি মনে করি লজ্জিত হবার মতো আমি কিছু করিনি।
-ওহ গ্রেট্ আপনিতো মহান ।আপনার দয়ার জন্য তাবত মেয়েরা শুধু দয়াপ্রার্থী। মহান পুরুষ একটা আহারে।
-আপনি কি আমার সাথে শুধু ঝগড়া করবেন বলেই ঠিক করেছেন?নাকি এটা একটা ফান?
কোন দুঃখে আপনার সাথে আমি মজা করতে যাবো?
- তাহলে আমার সাথে বিয়ে সম্মত হলেন কেন?
-বিয়েতে সম্মত হলাম কেন? ভালো প্রশ্ন।কারণ আপনাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে।আর আমার পরিবারকে সম্মান করি বলে।
-আচ্ছা আপনার এত অভিযোগ? আসলে আমার অপরাধ কি তাই তো বুঝলাম না।
-আপনাকে না আমার করুনা করতে ইচ্ছা করছে।
-কেন? কেন?
একটা মেয়েকে ভালোবাসলেন অথচ তাকে আপনি বুঝলেন না তার মুখের কথাই সত্য বলে মেনে নিলেন। চোখের ভাষা পড়তে পারলেন না। কেমন ভালোবেসেছিলেন বলেন তো। নাকি সুলেখা গরীব বলে ওকে নক আউট করে দিলেন?
-নিজেকে সামলাও সুমিতা। নতুন সম্পর্কে শুরুতে তিক্ততা সেই সম্পর্ক কখনো বেশিদুর যায়না।
--বাহ অনেক অভিজ্ঞতা দেখছি।হবেই তো্ না জানি কত সুলেখা আপনার ফাঁদে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছে।
-এসব তুমি কি বলছো? সুলেখাকে তুমি কিভাবে চেনো?
-ধরা পড়ে গেছেন তো? সুলেখাকে আমি কিভাবে চিনি সেটা কি জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ ? নিজের লোভ সুখ সাচ্ছন্দর জন্য একটা মেয়ের জীবনকে বলি দিয়ে দিলেন? একবারও ভাবলেন না সেই মেয়েটির মনের অবস্থা।
-আমি মোটেও সুলেখার সাখে ছিনিমিনি খেলিনি। সেই আমার সাথে...
-চুপ করুন। আপনার সাথে আমার কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। আপনি একটা লোভী মানুষ ।
-দেখ এবার কিন্তু বেশিবেশি হয়ে যাচ্ছে।
-ওহ এবার বুঝি শাসন করবেন? প্রভুত্ব ফলাবেন।
-আমি বুঝতে পারছিনা তুমি আমার সাথে এমন করছো কেন? এতই যখন সমস্যা তবে আমায় বিয়ে করলে কেন?
-বিয়ে করেছি বেশ করেছি। আপনাকে উচিত শিক্ষা দিতে এসেছি।সুলেখা যা পারেনি আমি তাই করবো।আপনার মতো মেরুদন্ডহীন লোভী কাপুরুষ বর্বরদের জন্যই তো আমাদের সমাজের এই অবস্থা।
-সব বুঝলাম। এবার তো একটু খোলসা করে বলো সুলেখাকে তুমি কি করে চেনো?
-জানাটা কি খুব গুরুত্বপূর্ণ?
-অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।সেই সাথে রহস্যময় ও বটে। আমাকে জানতে হবে না তুমি সুলেখাকে চিনলে কিভাবে। সুলেখা কি তোমার পূর্ব পরিচিত কেউ?সে কি তোমাকে কিছু বলেছে?
-আপনি এতো বোকা কেন নাকি ভন্ড নাটকবাজ।
-আমার মাথা ধরে যাচ্ছে।
আপনি কি আমাদের সম্পদের লোভে আমায় বিয়ে করেন নি?
-মোটেও না?
-বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন?
-হ্যাঁ শতভাগ? মুখে বললেও কথার প্রয়োগে হয়তো কিছুটা দ্বিধা ছিলো্ অভিযোগ তো কিছুটা হলেও সত্য।
-আপনি তো লেখাপড়া জানা শিক্ষিত লোক অন্যের সম্পদের লোভে,সুখ সাচ্ছন্দের লোভে, না জেনে না শুনে একটি মেয়েকে দুম করে বিয়ে করে ফেললেন?
-তোমার সমস্যা থাকলে তুমি তোমার পরিবার কে জানাতে পারতে।
-বাহ কি সুন্দর সমাধান,না জানাতে পারতাম না। আমাদের সমাজটা অতটা উন্নত নয় যে এক জন সামান্য মেয়ের চাওয়া পাওয়ার মূল্য থাকবে। তার বুকের কষ্ট, মনের ভাষা পড়ার চেষ্ট করবে।
আপনি ও তো বিয়ের আগে আমার সাথে কথা বলতে পারতেন।সেটাই উচিত ছিলো না। নাকি আমাদের সম্পদ পাওয়ার লোভ আপনার মধ্যে এত পরিমান ছিলো যে আপনি আর অন্য কিছু ভাবতে পারছিলেন না।যদি সুযোগটা হাত ছাড়া হয়ে যায়।
-সুমিতা তুমি তো আমাকে কিছুই বলতে দিচ্ছো না । আমার কথা তোমার শোনা উচিত।নয় কি?
সেই রাতে অনেক তর্কবিতর্ক হলো।অনেক...।
শেষটায় যা বুঝলাম সুলেখা বিবাহিতা নয়।তাকে এই কথাগুলো বলানো হয়েছে ।কিন্তু কে তাকে দিয়ে এই কথাগুলো বলিয়েছে।জানতেই আমার প্রচন্ড রাগে দুখে নিজের প্রতি এক তীব্র ঘৃণাবোধ তৈরি হলো। সুমিতার অভিযোগ গুলো আমি মাথা পেতে নিতে বাধ্য হলাম।
এই গল্পের সমস্ত চরিত্রই কাল্পনিক, বাস্তবের সাথে এর কোন মিল নেই
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


