
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাকে সামনে রেখে মাতৃভাষার জন্মগত দাবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যবসায়ী সংস্থা রবি অজিয়াটা লিমিটেড একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে। যাতে তারা বাংলাভাষার পাশাপাশি "মা" শব্দটিকে আরও ৪ টি বাংলাদেশী ভাষায় লিখেছে! বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষার প্রকাশ প্রসংশনীয় দৃষ্টান্ত।
বেশ কিছু সময় ধরেই আমাদের দেশে সংখ্যাগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোকে রক্ষার জন্য একটি প্রচেষ্টা চলমান। মূলত, বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভাষা তথা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতীগোষ্ঠীর ভাষাকে সম্মান ও স্বীকৃতিদান বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের ওপরেই সর্বাগ্রে বর্তায়। কারন বিশ্বব্যাপী কেবলমাত্র এই জাতীটিই মাতৃভাষার জন্য স্থাপন করেছে অনন্য নজির। যার স্বীকৃতি মিলেছে খোদ জাতীসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মাধ্যমে। ৮ই ফাগুনের সেই বিপ্লবী আন্দোলই আমাদের অনুভূতিকে অন্যান্য জাতীর ভাষার প্রতি সম্মান দেখানোর এই গর্বিত পথে ধাবিত করে।
তাই সেদিক থেকেই অন্যান্য প্রচেষ্টার পাশাপাশি রবির এই প্রচেষ্টাকেও স্বাগত জানাই। তবে দুঃখিত, সাধুবাদ জানাতে হচ্ছে, নিম্নবর্নিত অসাধুতা ব্যাতীরেকেই ! যেখানে যথেষ্ট "কিন্তু"র সুযোগ রয়ে গেছে। সুযোগ রয়ে গেছে উদ্বেগ প্রকাশের; খোদ ভাষা নিয়ে ষড়যন্ত্র অনুসন্ধানেরও!
ধারাবাহিক ভাবে তা নিম্নরুপ-
১- গোটা বাংলাদেশের সকল ভাষাকে বিবেচনাহীন রেখে, সংখ্যাগত ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষার প্রচেষ্টা মূলত পার্বত্য অঞ্চলভিত্তিক হওয়াটা, চরম পক্ষপাতদুষ্ট ও একই সাথে ঐ অঞ্চলে বিবেচ্য চলমান বিচ্ছিন্নতাবাদের আশংকাকেই সমর্থন করে।
২- সংখ্যাগত ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষার নিমিত্বে করা প্রচেষ্টা, যখন সংখ্যাগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতীগোষ্ঠি গুলোর মাঝেও 'সংখ্যাগত বৃহত্তর'- হিসাবকে 'প্রাধান্য দেয়', তখন তা পুনরায় আরেকটি বঞ্চনার জন্ম দেয়!
৩- হারিয়ে যেতে বসা ভাষা রক্ষার নামে তুলনামূলক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভাষা গুলোকে উপস্থাপন করা একটি কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়।
৪- একদল আহত ব্যাক্তিদের চিকিৎসা বিবেচনায় সবসময় মৃত্যুপথযাত্রীকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। এটাই মানবাধিকার। এবং মানবতার দাবিও। "ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষার প্রশ্নে" একেবারে প্রান্তিক ভাষাগুলোকেই অগ্রাধিকার দেয়াটাই স্বাভাবিক! ৭ লাখ লোক যে ভাষায় কথা বলে সেটাকেই জরুরী ভিত্তিক স্থান দেয়াটা বিবেক প্রসূত নয়, যেখানে মাত্র কয়েক হাজার লোক নিয়ে গঠিত সংখ্যাগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতীসত্ত্বার অনেক গুলো ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বাকীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে!
৫- বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাকে রক্ষাচেষ্টায়, বাংলাদেশের অন্যান্য ৪৫ টি জাতীগোষ্ঠীর সব গুলো ভাষাকেই বিবেচনায় রেখে যথাযথ জরিপ এবং গবেষণার মাধ্যমে তুলনামূলক জরুরি ভিত্তির প্রাধান্যের তালিকা প্রনয়ন প্রাথমিক কাজ এবং সেই পরিকল্পনাকেই বাস্তবায়ন করা উচিৎ ছিলো।
সংখ্যাগত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতীসত্তার ভাষাকে রক্ষার নামে তুলনামূলক বৃহৎ গোষ্ঠী চাকমা, মারমা, রাখাইন, মনিপুরী বা সাঁওতালদের গুরুত্ব দেয়ার পৌনঃপুনিক 'সংখ্যাগুরু বিবেচনা'কে সত্যিকার অর্থেই বর্জণ করা হোক।
জয় হোক মানুষের!
জয় হোক মানবতার!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



