somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গায়েন রইসউদ্দিন
আমি রইসউদ্দিন গায়েন। পুরনো দুটি অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে না পারার জন্য আমি একই ব্লগার গায়েন রইসউদ্দিন নামে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছি এবং আগের লেখাগুলি এখানে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আবার প্রকাশ করছি।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে--একটি ঐতিহাসিক দলিল (২য় পর্ব)

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্মু-কাশ্মীরের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। সেই দীর্ঘ ইতিহাস চর্চার কাজ মূলত ইতিহাসকারদের। আমরা শুধু একনজরে দেখে নেব, এই অঞ্চল কোন‌্ কোন্ শাসকের হাতে কখন কীভাবে এল আর গেল, তারই সংক্ষিপ্ত রূপরেখা। খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে শ্রীনগর শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট অশোক। কাশ্মীরের রাজা হয়েছিলেন সম্রাট অশোকের উত্তরাধিকারী 'জালুক'। সে সময় বৌদ্ধদের প্রাধান্য ছিল।...কুষাণ থেকে হুণ সাম্রাজ্য-ইতিহাসের সময়ক্রম পেরিয়ে ৬২৭ খৃস্টাব্দে 'কার্কোট' রাজবংশ'র প্রতিষ্ঠাতা 'দুর্লভবর্দ্ধন' তাঁর শুভ-বিবাহ'র যৌতুক হিসেবে লাভ করেন 'কাশ্মীর'। এ সময় বেশ কিছু হিন্দু-মন্দির নির্মিত হয়। 'মার্তন্ড মন্দির' সেগুলির অন্যতম। ইতোমধ্যে হিন্দু-ধর্ম'র প্রবক্তা শঙ্করাচার্য ধর্মীয় প্রচারের পর হিন্দু ধর্ম'র শৈবরাই (শিবের উপাসক) প্রাধান্য পায়। বৌদ্ধও হিন্দু ধর্ম'র পর ইসলামের আগমন ঘটে ১৩৩৯ খৃস্টাব্দে। 'শাহ মির্জা' কাশ্মীরের কিয়দংশ দখল ক'রে রাজত্ব শুরু করেন। কাশ্মীরের বাকি অংশে তখনও ছিলেন, 'উদয়ন দেব' নামে একজন হিন্দু রাজা। 'আমির শাহ' নামে একজন রাজমন্ত্রী তাঁকে হত্যা ক'রে উক্ত কাশ্মীরের সিংহাসনে বসলেন, ১৩৪৬ খৃস্টাব্দে। আবারও দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস। সম্রাট আকবর কাশ্মীরকে মুঘল সাম্রাজ্য'র অধীনে নিয়ে আসেন ১৫৮৬ খৃস্টাব্দে। মুঘল রাজত্বকালে কাশ্মীরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পুনরায় দীর্ঘ ইতিহাসের সময়ক্রম পেরিয়ে এল ১৭৫১ খৃস্টাব্দ। আফগান রাজত্ব'র সূচনা করেন শাহ-আবদালি। ১৭৮৯ থেকে কাশ্মীর, শিখদের অধীনে আসে। কিন্তু ১৮৪৬ খৃস্টাব্দে ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে শিখরা পরাজিত হন। সন্ধি হ'ল। শিখদের কাছ থেকে ইংরেজরা পঁচাত্তর লক্ষ টাকা দাবি করল। টাকা দিতে না পারায়, ব্রিটিশদের হাতে চলে গেল, কাশ্মীর উপত্যকা। ইংরেজরা এই কাশ্মীর উপত্যকা এক কোটি টাকার বিনিময়ে ডোগরা রাজ 'গুলাব সিং'-এর কাছে বিক্রি করে দেয়। তবে, শর্ত ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য ব্রিটিশদের কর দিতে হবে। রাজা গুলাব সিং-এর মৃত্যুর পর ১৮৫৭ থেকে ১৮৮৫ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত বংশ পরম্পরায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছেন রণবীর সিং, ১৮৮৫ থেকে ১৯২৫ পর্যন্ত প্রতাপ সিং, ১৯২৫ থেকে ১৯৪৯ পর্যন্ত হরি সিং।
খৃস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দীর্ঘকালব্যাপী জম্মু কাশ্মীর নানাজনের হস্তান্তরিত হলেও সে দেশ যে একটি স্বাধীন দেশ ছিল, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু তারপর কী হ'ল?...(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৫২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×