আমি কাশ্মীর ১
পৃথিবীর কাছে আমি
এক অনিন্দ্য-সুন্দর
স্নিগ্ধ-শীতল শ্যামলিমা ।
তাই সবাই আমাকে বলে ‘ভূ-স্বর্গ’।
আমার এই সবুজে-শিশিরে ঢাকা
বন-বীথিকার পথে দেখেছি
অগণ্য অচেনা মানুষ।
শুনেছি তাদের অসির ঝনঝনানী,
আর হিংস্র পদধ্বনি !
আমার সন্তানরা ঘুমের ঘোরে
শিউরে শিউর ওঠে আজও।
ভয় পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে
বলে—মাগো ওরা কা’রা?
উত্তর ছিল না আমার মুখে !
আমার দু-চোখে জলের ধারাই ছিল
তাদের কাছে না-বলা উত্তর ।
আমার ডান চক্ষুর অশ্রুধারা আজও
অবিরাম বয়ে চলেছে সিন্ধু-নদীর পথে,
আর বাম চক্ষুর অশ্রুধারায় পূর্ণ হয়েছে
গঙ্গা থেকে পদ্মা ।
আমি কাশ্মীর ২
আমি কাশ্মীর—
আমার সন্তানরা তাই কাশ্মীরী—
না হিন্দুস্তানী, না পাকিস্তানী ।
আমার সন্তানরা শুধু আমারই ।
কিন্তু ওই কালো মানুষরা তা’ বুঝতে চায়নি ।
যুগ যুগ ধ’রে তারা অত্যাচার চালিয়েছে ।
অগণ্য ক্ষতচিহ্ন আমার বুকে ।
সন্তানহারা মা-ই কেবল জানে
তার কী দুঃসহ যন্ত্রণা !
সন্ত্রাসীদের তো ভাষা নেই,
সমবেদনার ভাষা নেই,
মানবিকতার ভাষা নেই
বিবেক নেই রোবটের মত ।
আছে শুধু মারণাস্ত্র’র অহঙ্কার
আর হিংস্র হুহুঙ্কার ।
সেইসব কালো মুখ,
দেখতে দেখতে দেখতে
পার হয় সীমাহীন সময়চক্র ।
অহরহ শুনি আমার দশদিক ঘিরে
অবিরাম সন্ত্রাসী-শব্দ ।
আজ আরও ঘন অন্ধকার—
অনাহারে, অর্ধাহারে, গৃহবন্দী
আমার সন্তানরা ।
জানি না, কবে স্বাধীন-সূর্য
ঘোষণা করবে—
‘কাশ্মীরের ভাগ্য,
কাশ্মীরের জনগণই
নির্ধারণ করুক—’
না ভারত, না পাকিস্তান ।
আমি শুধু আমারই –
এই হোক সত্য-প্রতিষ্ঠা !
আর প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকুক
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


