ব্যাপার হচ্ছে এরা বা এই ধরনের লোকজন নিজে নিজেই সুশীল। এরা ধর্মকে নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেয়। এরা যে কোনও পরিবর্তনকে ভয় পায় অথবা পরিবর্তনের সুবিধাজনক দিকটা নিতে চায়। অর্থাৎ এককথায় এরা সুবিধাবাদী সুশীল।
এই সুবিধাবাদী সুশীল সমাজের লোকজন কারা আগে একটু দেখে নেই।
১। ফেসবুকে গরুর ছবি দিয়ে বলবে আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ আমাদের কুরবানী কবুল করুন।
২। ফেসবুকে হাদীস এর বানী দিয়ে শুরু করে গরুর ছবি ও দাম সহ লিখবে।
এই ধরনের সুশীলদের প্রচণ্ড বিশ্বাস, ফেসবুকে আলহামদুলিল্লাহ্ ও গরুর ও দাম সহ ছবি দিলে ও আল্লাহ আমার কুরবানী কবুল করুন লিখলে, আল্লাহ শুনবেন ও কুরবানী কবুল করবেন।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের সুশীলদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা আসলে আমাদের জিনগত সমস্যা,মাঠে কিংবা ফেসবুকে...
এই ধরনের সুশীলদের কাছে, গরু ছাগলের ছবি দেওয়া এখন আভিজাত্যের লক্ষণ।
আরেহ, সত্যিকারের কুরবানী তো দেয় সেই কৃষক, যে ২/৩ বছর নিজে খেয়ে না খেয়ে তার সন্তানের মত পালিত পশুকে, হাটে বিক্রির পর শেষ বারের মত নিজ সন্তানের মত আদর করে সন্তান ত্যাগের কষ্টের অনুভূতির মত নিরবে চোখের জল ফেলেন।
অন্তরীক্ষের একজন ঠিকই এই অনুভূতি বুঝেন, কারণ তিনিই তো অনুভূতির সৃষ্টি করেছেন।"
কখনো কি ভেবে দেখেছি, আমরা আসলে কী কুরবানী করছি?
আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর নিকট তাদের গোশত এবং রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদের।’ (সূরা হজ,আয়াত নং ৩৭)
কারণ কুরবানী করার আদেশ যিনি জারি করেছেন, তার সামনে কিছুই লুকাতে পারবে না। আমাদের সকল সিক্রেট চিন্তাভাবনা তিনি ট্র্যাক করতে পারেন।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এখনো সময় আছে আমাদের মানুষ হয়ে উঠার। সুতরাং মানুষের খোলস পরে পশুর পরিচয় দিবেন না। কুরবানীর পবিত্রতা রক্ষা করুন।
যাই হোক, আমাদের সত্যিকার ত্যাগে হোক মানবিকতার বিকাশ।
ঈদ মোবারক।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



