মাছরাঙা টেলিভিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখলাম যেখানে, রাজধানীর ইংরেজী মাধ্যম স্কুলগুলোর লাগামহীন ব্যবসা, যেখানে শিক্ষা পণ্য, মুনাফা লাগামহীন, তাদের প্রধান শিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
তবে তাদের এই মুনাফা করার জন্য আমাদের অভিভাবকরাই দায়ী। কারন বাঙ্গালী মহিলাদের চাহিদা তৈরি হয় পাশের বাসার ভাবী অথবা নিজের আত্মীয় স্বজনেরটা দেখে। একজন অভিভাবক যখন দেখে তার পাশের বাসার অথবা আত্মীয় স্বজনের সন্তান একটা তথাকথিত বড় স্কুলে পড়ে অথবা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে তখন তার মধ্যেও একটা প্রবল আগ্রহ জাগে তার সন্তানকেও সেই স্কুলে পড়াতে হবে। সেটা ঘুষ বা ডোনেশন যেভাবেই হোক। এরপর সন্তানকে ৬/৭ টা টিচার এর কাছে পড়ানোতো এখন একটা গৌরব ও গর্বের ব্যাপার।
কিন্তু সন্তানদের মৌলিক শিক্ষা বা বেসিক নলেজ এই নামকরা স্কুল বা কোচিংগুলো দেয় না। কারণ শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করা দরকার তাদের শিক্ষা দেওয়া না।
মানসম্মত শিক্ষা, উপযুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষকদের ভালো বেতন কোনটাই নিশ্চিত করছে না এই তথাকথিত স্কুল ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে চড়া টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে তারও কোনও হিসেব নেই।
শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য করার অধিকার রাষ্ট্র তাদের দেয়নি। কিন্তু যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এটা দেখার সেই শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিদর্শককে বলা হল এই ব্যাপারে কোনও খোঁজ খবর রাখেন কিনা?? "সে এক কথায় বলল না।" এরপর কেলিয়ে কতক্ষণ হাসল। কি পরিমাণ অপদার্থ হলে সে এমন করে হাসতে পারে???? এদেরকে এই পদে যারা বসায় তারাই এটা ভালো বলতে পারবে। যারা তাদের লাগাম টেনে ধরবে তারা যখন ঘুমায় তখন শুধু শিক্ষা না সাথে আরও অনেক মৌলিক চাহিদাও পণ্য হয়। আফসোস স্বাধীনতার এতো বছর পরেও আমরা কোনও সঠিক শিক্ষা নীতি পাইনি।
এভাবেই দিন গড়াবে, এবং তাদের হাতেই জিম্মি হয়ে থাকবে বাচ্চাদের উন্নত শিক্ষার আসায় থাকা মধ্যবিত্ত সমাজ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



