রোহিঙ্গা ইস্যু তৈরি হবার পর থেকে ফেসবুকে/ ব্লগে ঢুকতেই ভয় করে, যেই ভয়ংকর সব ছবি পাবলিক গনহারে শেয়ার করে যাচ্ছে তাতে সত্যি আমাদের কুশিক্ষা, আবালিয় চেতনা, কপূরের মত অনুভূতি আমাদের কোথায় নিচ্ছে সেটা ভাববার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা অনেকেই বুঝে না বুঝে,জেনে না জেনে,দেখে না দেখে কোনকিছু পেল অমনি বিবেক বিবেচনা ছাড়াই গনহারে লাইক শেয়ার করতে থাকি। একটি বারের জন্যও মাথা খাটানোর চিন্তা করি না যেটা করতেছি সেটা কি আসলেই ঠিক করছি কিনা, কতটা যৌক্তিক আমাদের এইসব আচরন?
ইদানিং রোহিঙ্গাদের নিয়ে যা হচ্ছে এটা যে মানবতার চরমতম অবমাননা সেটা যদি কেউকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বোঝানো লাগে তাহলে তার DNA টেষ্ট করা আমার মতে অপরিহার্য। তাই বলে আপনি আপনার অবস্থান থেকে মানবিক ও মুসলিম হিসেবে কি করবেন, আপনার কি করা উচিত সেটা নিয়ে পরিস্কার ধারনা থাকতে হবে। না বুঝলে যারা বুঝে তাদের থেকে জেনে নিবেন কিন্তু আন্দজের উপর বোকামি করবেন না প্লিজ।
আপনারা যেইসব ছবি/ভিডিও লাইক শেয়ার দিচ্ছেন সেগুলোর কতভাগ সত্যি, কতভাগ ফটোশপ এডিটিং, কতগুলো অন্য দেশে অন্য প্রেক্ষাপটের এগুলো বুঝার মত পরিপক্কতা না থাকলে আপনার স্যোশাল সাইট ব্রাউজিং করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। এতে করে নিজেও বিভ্রান্ত হবেন না অন্যরাও বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবে। অনেকেই এমন আছে যারা কিনা এসব ছবি/ভিডিও লাইক শেয়ার করেই ঈমানি দ্বায়িত্ব পালন করতে পেরেছে ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। অথচ তাদেরকে রোহিঙ্গাদের জন্য ১০০/৫০০ টাকা দান করতে বলেন তখন সরাসরি “না” করতে পারবে না ভেবে শত অজুহাত দাড় করিয়ে দিবে এই হল তাদের ঈমানের দৌড়।
সহজ একটা কথা মাথা মোটা পাবলিকরা কেন যে বুঝে না, আপনাদের এইসব আজগুবি লাইক শেয়ারে রোহিঙ্গাদের কিছুই আসবে যাবে না তাদের একবেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন সেটাই তাদের কাজে আসবে। তবে, রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের প্রমানিত সত্যি ছবি/ ভিডিও অব্যশই প্রচার করতে পারেন যেন আর্ন্তজাতিকভাবে তাদের জন্য সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়, তা না হলে ভূয়া ছবির মাধ্যমে নিজেদের গবেট হিসেবে প্রমানিত করা থেকে বিরত থাকুন।
কোনকিছু করার আগে কাউকে অন্ধ অনুসরন না করে আল্লাহ প্রদত্ত নিজের দামি মাথাটা একটু খাটানোর চেষ্টা করুন। আর যদি সেই যোগ্যতাও না থাকে তাহলে নিরব থাকুন দয়া করে নিজেকে হাসির পাত্রে পরিনত করবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



