somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধু, তোমাদের মিস করছি ভীষণ

২৩ শে মে, ২০১১ রাত ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব মিস করি কলেজ লাইফটা। কলেজে খুব ভালো কিছু বন্ধু পেয়েছিলাম। বলতে গেলে ওদের জন্যই কলেজ লাইফটা খুব চমৎকার গিয়েছে। কলেজ ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি ২০০৯ সালে। কিন্তু সত্যি বলতে, ওদের অভাব আজও পূরণ হয়নি। আর আমি এমনি দুর্ভাগা যে কলেজের কোন বন্ধুর সাথে এক ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হবার মত সৌভাগ্য হয়নি। সবাই আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছি। অবশ্য এটা ভাবতে ভালোই লাগে যে প্রায় সবাই খুব ভালো ভালো জায়গায় ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এক সাথে বসা, দুষ্টুমি করা, টিচারের সামনে লক্ষ্মী ছেলে সেজে থাকা, জনৈকা ক্লাসমেটের সাথে অ্যাপ্রোচ করার পরিকল্পনা, প্র্যাকটিকাল ক্লাসে মজা করা(আর্টসের স্টুডেন্টদেরও কিছু প্র্যাকটিকাল থাকে),টিফিনের বিরতিতে আড্ডা দেয়া, সদ্য সেলফোন ইউজার হিসেবে সব বন্ধুদের ‘ভাবের’ মেসেজ পাঠানো,পরীক্ষার আগে সাজেশন বিনিময়, মাঝে মাঝে মন কষাকষি, পরীক্ষার পর দল বেঁধে প্রশ্নের গোষ্ঠী উদ্ধার করা, এগুলো এখনো ভুলতে পারি না। ফর্মমাস্টার নাসিমুন নাহার ম্যাডামকেও খুব মনে পড়ে, আমার দেখা সেরা শিক্ষক এবং চমৎকার একজন মানুষ।এখনো অনেকের সাথেই যোগাযোগ আছে। কিন্তু কলেজে পড়ার সময় নিজেদের কেমন যেন একটা পরিবারের মত মনে হত। সেই অনুভূতিটা এখন আর আসে না। কলেজে পরার সময় বিধি-নিষেধের ব্যাপার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে সে তুলনায় আমি অনেকটাই স্বাধীন। কিন্তু কলেজে চমৎকার কিছু মানুষের সাথে এতো চমৎকার কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছি যে সেই শৃঙ্খলটাই এখন অনেক মধুর মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় টাইম মেশিন বলে কিছু থাকলে চমৎকার হত। কলেজ লাইফে আবার ফিরে যেতাম। কলেজে যেদিন শেষ ক্লাস হল সেদিন মনটা ভীষণ ভারী হয়ে ছিল। আর যেদিন বিদায় সংবর্ধনা হল সেদিন তো মনে হচ্ছিল নিজ বাড়ি ছেড়ে অনিশ্চিত পথে পা বাড়াচ্ছি, নিজের আপন মানুষগুলোকে ছেড়ে এখন আলাদা পথ চলতে হবে। কলেজ ছাড়ার পর অনেকটা সময় গড়িয়েছে, অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতির চাহিদায় আমাদের মধ্যে এসেছে অনেক পরিবর্তন। অনেকের সাথেই এখন যোগাযোগ নেই, অনেকেই আমার কলেজের সেই লক্ষ্মী বন্ধুটি নেই যার কষ্টে অনেক সময় বুক ফেঁটে যেত একসময়, আমি যাকে খুব মিস করি সে হয়তো আমাকে আগের মত ফিল করে না। কিন্তু তারপরেও বলব কলেজ লাইফ এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা সময়।কিছু অসাধারণ মানুষ যারা আমাকে বন্ধু মনে করেছেন তাদের জন্যই আমার মুহূর্তগুলো অনেক সুন্দর কেটেছে। হুমায়ূন আহমেদ তার প্রতিটি বইয়ের শুরুতে চমৎকার করে বইটি কাউকে উৎসর্গ করেন। লেখকের সাথে নিজেকে তুলনা করার ধৃষ্টতা আমার নেই। এটি আমার প্রথম ব্লগ। আমি এই ব্লগটি আমার কলেজের সকল বন্ধুকে উৎসর্গ করছি। তাদের জন্য অসংখ্য ভালবাসা।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×