somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেয়াল

২০ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক।

পিউ ফিরে যাচ্ছে। ফিরে তাকে যেতে হচ্ছে।

জীবনে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, যখন কোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়। আজ পিউকে তাই করতে হচ্ছে। তিন বছর সংসারের ইতি টানতে যাচ্ছে সে। একটু একটু করে বাড়তে থাকা অবিশ্বাস যখন বিরাট আকার ধারণ করে, তখন দু’জনের মাঝে অদৃশ্য এক দেয়াল তৈরি হয়। সেই দেয়াল না যায় সরানো, না যায় ভাঙা।

সংসার টিকিয়ে রাখতে নাকি মেয়েদের সবথেকে বেশি স্যাক্রিফাইজ করতে হয়। পিউও তাই করেছে। ওর স্যাক্রিফাইজেই তিন বছর অব্দি টিকেছে সংসার। নতুবা ভেঙে যেত সেই কবেই।

রাহুলকে বাবা—মায়ের অমতে বিয়ে করেছিল পিউ। বাংলাদেশি মুসলিম ছেলের সাথে বিয়ে দিতে মোটেই রাজি ছিল না তারা। রাহুলের ভালোবাসায় পিউ এতটাই অন্ধ ছিল যে, এক কাপড়ে রাহুলের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি।

এই তিন বছরে বাবাকে হারিয়েছে পিউ। অথচ দেখতে যেতে পারেনি সে। মায়ের কাছে জেনেছে, মৃত্যুর আগে একমাত্র মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিল বাবা। সেই কথা ভাবতেই পিউয়ের মনটা হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে। তখন বাবার ছবি বের করে একটা কথাই বলে, ‘আমাকে ক্ষমা করে দিও বাবা। আমাকে ক্ষমা করে দিও…..।’

শোবার ঘর, ব্যালকনি, রান্নাঘর—সবখানে গিয়ে হাত বোলাতে লাগলো পিউ। একটু একটু করে যে সংসার সাজিয়ে তুলেছিল, সেই সংসার ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে চিরতরে। একটা জোরে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে পিউ।

রাতে বাসায় ফেরেনি রাহুল। যাওয়ার আগে হয়ত শেষ দেখা হবে না তার সাথে। তবুও মন মানছে না। ফোন থেকে রাহুলের নম্বর ডায়াল করলো। বেজে গেলো। ধরলো না। উপায় না পেয়ে রাহুলকে মেসেজ করলো, ‘আমি চলে যাচ্ছি রাহুল। ভালো থেকো। জীবনে সুখি হও।’

তিন ঘন্টা পর ফ্ল্যাইট। এখনই বের না হলে দেরি হয়ে যাবে। ব্যাগ রাতেই গোছানো ছিল। উবার ডাকলো পিউ। গাড়িতে উঠতে ফোন বেজে উঠলো। রাহুল ফোন করেছে ভাবল। কিন্তু না, কলকাতা থেকে মা ফোন করেছে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মা বললো, ‘কখন আসছিস ?’ মলিন কণ্ঠে পিউয়ের উত্তর, ‘এই তো বের হয়েছি। আমি আসছি। কতদিন তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাই না।’

ফোন কেটে দিলো পিউ। দু’চোখ থেকে পানি পড়ছে অঝোরে। নিঃশব্দে কাঁদছে সে। বুকটা ফেটে যাচ্ছে কষ্টে। দেখার কেউ নেই। এই শহর তার অচেনা। শহরের মানুষ তার অচেনা। যে ছিলো চেনা, সেও অচেনা হয়ে গেলো নিমিষেই।

গাড়ি ছুটে চলছে এয়ারপোর্টের দিকে। গাড়ির কাঁচের ভেতর দিয়ে শহরটা শেষবার দেখে নিচ্ছে পিউ। হয়ত আর কখনও আসা হবে না এই শহরে। ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে হাঁটা হবে না টিএসসি, হাতিরঝিল কিংবা ধানমন্ডি লেক।

(চলবে....)

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:০৯
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ISD মোবাইল, TNT ফোন।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৮

২০০১ সালে কম মানুষের হাতেই মোবাইল ছিলো। মোবাইল ছিলো বড়লোকী পরিচয়। সে সময় সকল মোবাইল থেকে ইন্টারনেশন্যাল ফোন ও টেলিফোন থেকে কল আসার সুবিধা ছিলো না। মুষ্টিমেয় সিমের বিদেশ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×