somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেয়াল (পঞ্চম পর্ব)

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাঁচ।

আজকাল নিজেকে লুকিয়ে রাখে পিউয়ের মা সুনন্দা রায়। বিশেষ করে পাড়া প্রতিবেশিদের কাছ থেকে।

পরিচিত কারও সাথে দেখা হলেই বলে উঠবে, ‘মেয়েটা ফিরে এসেছে তাই না! তাতে কি হয়েছে। ওইটুকু বয়স। বিয়ে দিয়ে দাও বউদি, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

কথাগুলো শুনে রাগে গা জ্বলে যায় তার। মনে হয় উত্তরে দু’কথা শুনিয়ে দিতে। কিন্তু চেপে যান তিনি।
ভাবেন, ওরা তো খারাপও কিছু বলেনি। কারও জীবন তো কারও জন্য থেমে থাকে না। যে যার মতো সুখ খুঁজে নেয়। তাহলে পিউ কেনো দুঃখের বোঝা বয়ে বেড়াবে!

মেয়েটি যখন পালিয়ে গিয়েছিল, তখন মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল সুনন্দা রায়ের। কাউকে বুঝতে দেয়নি সে ব্যথা। মায়েরা ব্যথা প্রকাশ করে না। নীরবে একা ব্যথা পুষে যায়।

তার ইচ্ছে ছিল, ধুমধাম করে এলাকার মানুষ জানিয়ে মেয়ে বিয়ে দেবে। সব মায়েদের যেমন ইচ্ছা থাকে। পদ্মায় যে সে ইচ্ছার শলীল সমাধি হবে, তার সে কখনও ভাবেনি।

ইচ্ছাটা যে কেবল সুনন্দা রায়ের ছিল তা নয়। পিউয়ের বাবারও একই রকম ইচ্ছা ছিল। প্রায়ই বলত, ‘দেখে নিও সুনন্দা, মেয়ের বিয়েতে কি করি! এলাকার মানুষ তাকিয়ে থাকবে।’

মেয়ের বিয়ের জন্য আগে টাকা জমিয়ে রেখেছিল। পেনশনের টাকাও তুলে নেবে বিয়ের সময়। একমাত্র মেয়ে বলে কথা।
‘কি ভাবছ মা?’—পিউ পেছন থেকে এসে ডাক দিয়ে বললো।
‘কিছু না। সারাদিন একা একা বসে থাকিস। যা না বাইরে থেকে ঘুরে আয়। পাশেই তো পল্লবীর বাসা। যা একদিন দেখা করে আয়। পরশু তোকে ফোন করে খুঁজেছিল। তোকে বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম।’
‘যাব মা। তার আগে চলো তোমাকে নিয়ে হেঁটে আসি। অনেক দিন তোমার সাথে হাঁটি না। মনে আছে মা, ছোটাবেলা আমাকে হাঁটিয়ে স্কুলে নিয়ে যেতে। রিক্সায় যাব বললে বলতে, ওইটুকু তো পথ। রিক্সায় যাবার কি দরকার!’
‘অথচ সেই হাতটা তুই ভার্সিটিতে উঠে ছেড়েই দিলি।’
‘আমি আবার তোমার হাতটি ধরতে চাই মা।’

মায়ের হাত ধরলো পিউ। টেনে উঠিয়ে বাইরে নিয়ে এলো। মায়ের সাথে হাঁটা যে পৃথিবীর সবথেকে বড় সুখ সেটা আজ অনুভব করছে সে।

ওরা দু’জন পার্কের ভেতর হাঁটছে। এই পার্কটিতে সচারচর তেমন লোক থাকে না। হাতে গোনা কয়েকজন লোক হাঁটতে আসে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা।

‘মা তোমার ডায়াবেটিস কতো এখন?’
‘১৪’
‘এত কেনো? নিজের খেয়াল কেনো রাখছ না ? আমি আসার পর একদিনও তো হাঁটতে দেখলাম না।’
‘তোর বাবার সাথে হাঁটতে আসতাম। চলে যাওয়ার পর একা আর আসতে ইচ্ছা করে না।’
‘এখন আমি আছি মা। আমি তোমাকে প্রতিদিন হাঁটতে নিয়ে আসব।’

সুনন্দা রায় খেয়াল করলো, সামনে থেকে মিসেস মজুমদার হেঁটে আসছেন। ওনার ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পিউ রাজি ছিল না। পিউয়ের বাবাও রাজি ছিল না। বলত, মজুমদার বাবুর লাফাঙ্গা ছেলের সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে কখনও দেব না।’

ওনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। কথাবার্তার ইঙ্গিত ভালো না। ঠ্যাস মেরে কথা বলেন। দেখা হলেই নানারকম কথা বলবে। যা সহ্য করা সম্ভব নয়।

‘বউদি কেমন আছেন? অনেকদিন পর দেখা। সেই কবে দেখা…! ভুলেই গেছেন।’

মিসেস মজুমদার কথা বলার সময় থুতু ছিটে। যা দেখলে যে কারও ঘেন্না ধরে যাবে। সুনন্দা রায়ের তেমনটাই লাগছে। তবুও মুখে হাত দিয়ে বললো,

‘আমি ভালো আছি। ভুলে যাইনি। আসলে পিউয়ের বাবা চলে যাওয়ার পর সেভাবে বাইরে বের হওয়া হয় না।’
‘পিউ তুমি কেমন আছে? চেহারা দেখে তো মনে হচ্ছে ধকল গেছে জীবনে।’
‘না তেমন কিছু না। মা তোমরা কথা বলো। আমি সামনে এগোচ্ছি।’
‘তখন যদি আমার ছেলের সঙ্গে বিয়েটা দিতেন তাহলে আজ এই দশা হতো না। সুখেই থাকত।’

তার কথার উত্তর না দিয়ে সুনন্দা রায় বললো,

‘আমার একটু কাজ আছে। যেতে হবে। পরে কথা হবে। আপনি বাসায় আসবেন।’

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা কাঁটা ঘায়ে লবনের ছিটা দিতে ভালোবাসে। এটা করে তারা পৈশাচিক আনন্দ পায়। মিসেস মজুমদার ওইরকম মানুষ।

(চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×