somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রিদওয়ান হাসান
বিন্দুর মাঝে সিন্ধু দর্শনের আশায় পথ চলি...

করোনার দিনগুলোতে নিকাব : স্বস্তি নাকি অস্বস্তি!

১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি প্রশ্ন করা হয়—এই সময়ে ব্যাপকভাবে মাস্ক পরা দেখে সবচে’ বেশি খুশি কারা? নিশ্চয় নিকাব পরুয়া নারীরা। মুখে না-বললেও মনে মনে নিশ্চয় বলেছেন, এইবার তো বুঝলেন নিকাবের কী মাজেজা। বিশেষ করে পশ্চিমা নওমুসলিম নারীরা—যারা এতদিন নিকাব পরার কারণে নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। ‘মুখোশ সুরক্ষা’ তাদের জন্য শাপে বর হয়ে এসেছে।

যারা ভাবছেন, ‘নিগ্রহ’ বলাটা একটু বেশি হয়ে গেছে, বরং ওসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা—তাদের উচিত আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার ড. অ্যানা পিয়েলা’র (Anna Piela) প্রবন্ধটা পড়া। তিনি নিকাব পরিধানকারীদের ওপর লেখা তার আসন্ন বইয়ের জন্য ৩৮ জন মুসলিম নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারদাতারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ও বর্ণের। আছেন শ্বেতাঙ্গ, নিগ্রো, আরব, আফ্রিকান, এশিয়ান এবং তারা খ্রিষ্টান, ইহুদি বা নাস্তিক অবস্থা থেকে ইসলামে এসেছেন।

নারীরা তাকে বলেছেন, নিকাব পরার ফলে তারা কী কী আত্মিক সুবিধা পেয়েছেন, কিভাবে তা তাদেরকে গভীরভাবে ইসলাম অনুশীলনে সাহায্য করেছে। এবং একই কারণে রাস্তায় তারা কতটা ইসলামফোবিক, বর্ণবাদী ও যৌনতাবাদীদের হয়রানির শিকার হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫% নিকাবি নারী মৌখিক সহিংসতা এবং ২৫% শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তরা তাদেরকে নিপীড়িত, পশ্চাৎপদ, বিদেশী, সামাজচ্যুত বা হুমকি হিসেবে দেখেছে।

কিন্তু এখন সেই নিকাবই সবার ওপর ‘অপ্রত্যাশিতভাবে’ চড়াও হয়েছে। পশ্চিমারা রাস্তাঘাটে বা সুপারশপগুলোতে মুখোশ ছাড়া বের হওয়া অনিরাপদ ভাবছে। নিকাব এখন তাদের সুরক্ষা-বর্ম।

মার্কিন মুসলিমা আফ্রাহ বলেছেন : ঠিক একই সুরক্ষার জন্য এতদিন তিনি নিকাব পরেছেন—মানে নোংরা দৃষ্টি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে। এখন সবাই হঠাৎ ‘কারণ’টা মিলাতে পেরেছে। ফ্রান্সের জামিলা বলেছেন : ফ্রান্সের বেশিরভাগ সরকারি স্পটে নিকাব নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু তিনি আজ নিকাব পরে সেখানে গিয়েছেন, কেউ তাকে দোষী ভাবে নি। ক্রোয়েশিয়ান রুমানা বলেছেন : মুখ ঢাকার ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা তাকে নিকাব ব্যবহারে অনীহা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

এমনকি অমুসলিম নারীরাও এখন নিকাব পরতে চান। কেননা, মাস্ক পরে থাকাটা তাদের কাছে অস্বস্তিকর লাগে—তার চেয়ে নিকাব সুন্দর। আমেরিকার সাজিদা বলেছেন তার নওমুসলিমা বন্ধুর কথা, যার বাবা প্রচণ্ড ইসলাম বিরোধী—তিনিও এখন তার মেয়েকে ভাইরাস থেকে রক্ষায় নিকাব পরতে উৎসাহিত করেছেন।

মুসলিম নারীদের ভয় হলো, মহামারী চলে গেলে এই অবস্থা সত্যিই অব্যাহত থাকবে কি না। যদিও তারা আশা করছেন, যে বোনেরা আগে নিকাব বিরোধী ছিলেন এবং পরে প্রয়োজনের সময় গ্রহণ করেছেন, তারা যেন নিকাব থেকে ফিরে না আসেন।

নিকাবের কারণে মুখের অভিব্যক্তি বোঝা যায় না বলে যে অভিযোগ করা হয়, তার জবাবে তারা বলেন : মুখের আবরণ আসলে কার্যকর যোগাযোগে বাধা দেয় না। স্কটল্যান্ডের সোরায়া বলেছেন : নিকাব পরে আপনি হাসুন, চোখের চাহনি দেখলেই মুখের অভিব্যক্তি আপনি বুঝতে পারবেন। যদি আমি কোনও বাস স্টপে দাঁড়িয়ে বলি ‘হাই’, চোখ দেখলে তা-ও বুঝতে বেগ পেতে হবে না।

তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:২৬
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×