ভূগোলে আমি বড়ই খারাপ ছিলাম মাধ্যমিকে ;
উত্তর গোলার্ধ আর দক্ষিন গোলার্ধের সীমারেখার পরিধি মা্পতে পারিনি কিছুতেই ,
দ্রাঘীমাংশের হিসেব গণনা করতে গিয়ে ভীষন রকম হিমশিম খেয়েছি ।
টেমস নদীর পাড় ঘেসে কোন শহরটি গড়ে উঠেছে ওটা মুখস্থ করতেই দশ দিন;
আর ডিম্বাকৃতির গ্লোব দিয়ে বাবা যখন বলতো-উত্তর আমেরিকা কোথায় দেখাতো মা ,
লজ্জায় আমার মাথা হেট হয়ে যেতো-ইস, ছোট ভাইটার সামনে কি যে হেনস্থা।
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক ; মনে রাখতে গিয়ে সেকি করুন দশা ;
কলম্বাস কোন পথে হেঁটে হেঁটে আস্ত একটা আমেরিকা আবিষ্কার করে ফেলেছে –
তা কেবল রূপকথা্র গল্পই মনে হয়।
আমার ভালো লাগতো অংক কষতে ,তা যতোই কটড় মটড় হোক না কেন।
বামপক্ষ সমান ডানপক্ষ প্রমানিত করতে তখন বেশ লাগতো,
জটিল যতো বীজগনিত করে ফেলতাম এক নিমিষেই।
এখন আমি গুগল ম্যাপ নিয়ে বসে থাকি –
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিন মেরুর হিসেব কষি ;
এখানে যদি হয় রাত তবে ওইপ্রান্তে কয়টা বাজতে পারে তাই গুনতে থাকি বার বার ।
এখন আমি ম্যাট্রিক্স পারিনা, পারি ম্যাপ আকতে ,
অনেক রকম তার আকার ,কখনো গোল আবার কখনো বা চ্যাপ্টা।
কোন জায়গার আকৃতি যে কেমন হবে তাই বিশ্লেষন করি ,
বোঝার চেষ্টা করি তোমার শহরটি কতো বড় ;
কোন সাগড়ের পাড় ছুঁয়ে গেছে আধুনিক প্রযুক্তির ওই সব রাস্তা ,
শীত আসলে কি ওখানে বরফ পড়ে,নাকি বৃষ্টি হলে ঢেকে যায় প্রানান্ত ।
শুনেছি ওখানেও নাকি ছয়টি ঋতূ খেলা করে ,
ঘন সাদা মেঘ ঘুরে বেড়ায় পাখনা মেলে ।
রডডেন্ড্রন স্পর্শ করে যায় ভোরের স্নিগ্ধ আলো।
যার পরিধি কেবল অফিস থেকে বাসা সে কি করে এমন বিস্তীর্ন জলাশয়ের নাগাল পেতে পারে ;
জানি , এ জানতে চাওয়া কেবল প্রহোসন নিজের সাথেই ।
ঞ্জানের ভান্ডার জমিয়ে রেখেছি-ঋতূপর্ন আর অপর্না সেনে ,
বিশালাকার হিমালয় এই জীবনে দেখা হয়নি কোন দিন।
অন্দরমোহলে শুয়ে নায়াগ্রার জল প্রপাতে ভাসতে চাওয়া বোকামী ছাড়া আর কি ;
তবু আমি ভেসে যেতে থাকি ...
নাগাল পাবোনা জেনেও হাত বাড়িয়ে রেখে দেই দূরের কোন সূর্যাস্তের আশায়।।

--
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



