somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মদন মফিজ

১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহু সংখ্যক মদন মফিজকে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলছে এমন সম্মান দেখিয়ে ডেলিগেট করার পর নিজেকে স্মার্ট মদন মফিজ ভেবে বিগলিত ভঙ্গিতে কায়সার যখন বাসে উঠতে যাচ্ছিলো তখনই বিপত্তিটা ঘটে। বলা নেই কওয়া নেই স্যান্ডেলটা কোন পূর্ব সংকেত ছাড়াই হঠাৎ ছিঁড়ে যায়।

অন্যান্য আদমসন্তানের মতো কায়সারেরও কতো কিছুই এই এক জীবনে ছিঁড়েছে। তার মধ্যে বেশীরভাগের কথাই সরাসরি উল্লেখ করা যায়। বাকিগুলো জনসমক্ষে উল্লেখ করলে পরিশীলিত, ভদ্র, সৌম্যকান্তি সমাজের অমায়িক স্বভাবের নাগরিকদের কাছে সে অশ্লীল বলে বিবেচিত হতে পারে বলে সেগুলো অপ্রকাশিতই থেকে গেছে। কিন্তু এই যে, মে মাসের মাঝামাঝি চাঁদি থেকে শুরু করে শরীরের অন্যান্য নানাবিধ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফেটে যাওয়া গরমে স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেলে যেই মানসিক ক্রিয়া হয় তার সাথে প্রটেকশন নিয়ে যৌনক্রিয়া করার পরেও প্রেমিকা প্রেগনেন্ট হয়ে পড়লে যেই পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে শুধু তারই তুলনা হতে পারে। তিন ঘন্টা ধরে কতো তাবড় তাবড় ক্ষমতাশালী খচ্চরকে সে কতোটা পরিপক্কভাবেই না সামলালো। অথচ এখন? এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে ফট করে স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেলো। এই বিষয়টাকে কায়সার কিছুতেই বাগে আনতে পারছেনা। কেবল একজনই পারবে। মুচি।

আজকে খুব কম করে হলেও তাপমাত্রা ছত্রিশ কি সাঁইত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতো কিছুদিন ধরে মাছ না ছুঁই পানি মার্কা বৃষ্টির পরে এ অনিবার্যই ছিলো। এই গরমের কারনেই রাস্তায় আখের রস বিক্রেতার দোকানে ভীড় জমেছে। স্মার্ট পোশাকের লোকজন থেকে শুরু করে নাক ঝেড়ে লুঙ্গির খুঁটায় মোছা আশরাফুল মাখলুকাত প্রত্যেকেই আজ আখের রসের ভোক্তা। কায়সার মুচির খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে।

ট্রাফিক জ্যামে প্রতিটি বাস নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সবুজ সাদা রঙের মিডওয়ে বাস থেকে পাঁচজনকে হুড়মুড় করে নামতে দেখা গেলো। প্রত্যেকেই রাগত এবং বাসের হেলপারের উপরে মারমুখো। ভাড়া নিয়ে গতানুগতিক ক্যাচাল। যাত্রীদের নেমে যাওয়াতে হেলপার উচ্ছ্বসিত। নিশ্চিত ধারণা করেছে যে তারই জয় হয়েছে। ফুটপাথ দিয়ে একজন সুদর্শনা তরুণী সানগ্লাস পরতে পরতে চারপাশকে থোড়াই কেয়ার করি ভঙ্গিতে হাঁটতে হাঁটতে একটি ছোট ফাস্টফুড শপে ঢুকে পড়লো। তার পিছন পিছন যেই তিনজন তরুণ পিছু নিয়েছিলো তারা তাকে অতিক্রম করতে করতে শেষবারের মতো তরুণীর পেছনের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মুখোমুখি বরাবর এক বয়স্ক ভদ্রলোক রোদের ঝাঁঝ থেকে নিজের মাথা বাঁচাতে উপরে দৈনিক পত্রিকা উঁচু করে ধরে রেখেছেন। নিশ্চয়ই পত্রিকার প্রতিটি সংবাদ ইতোমধ্যেই দুই থেকে তিনবার করে পড়া হয়ে গেছে। গীতাঞ্জলি নামক গানের দোকানের দোকানদার বেজায় রসিক মানুষ বোঝাই যাচ্ছে। কারণ দুপুর আড়াইটায়, গরমে প্রতিটি মানুষের শরীর বেয়ে অবিরাম পড়তে থাকা ঘামের স্রোতের মাঝে, ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বিপর্যস্ত বীতশ্রদ্ধ মানুষদের কনামাত্র পাত্তা না দিয়ে মান্না দে ভরাট কন্ঠে গেয়ে চলেছেন ‘খুব জানতে ইচ্ছা করে, খুব জানতে ইচ্ছা করে। তুমি কি সেই আগের মতোই আছো? নাকি অনেকখানি বদলে গেছো?’ তিনটি রিকশা পরস্পরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। কেউই প্যাসেঞ্জার নিতে আগ্রহী নয়। একজন যাত্রী সাহস করে শাহবাগ মোড়ে যাবে কিনা এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করে বসেছিলো। সেই রিকশাওয়ালা তড়িৎ গতিতে জবাব দেয় “যামু, চল্লিশ টাকা ভাড়া।”

কায়সার সবই দেখতে পায়। পায়ের নিচটা তার জ্বলে যাচ্ছে। ছেঁড়া স্যান্ডেলজোড়া হাতে নিয়েছিলো। এক্সপেরিমেন্টটা ব্যাকফায়ার করেছে। সকালবেলায় মোজাম্মেল সাহেব কথায় কথায় বলছিলেন মাঝেমাঝে পরিচিত পথগুলোকে এড়াতে হয়। নতুন কিছু এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে হয়। ইনোভেশনের গুরুত্ব পৃথিবীব্যাপী এই কথাটাই অনেক সময় ধরে কায়সারসহ অন্যান্য এমপ্লয়ীদের বুঝিয়েছিলেন। ছেঁড়া স্যান্ডেল নিয়ে কথাগুলা একেবারেই খাটেনি। বাটা সিগনাল মোড়ের কোনায় বিরস মুখে বসে থাকা এক মুচিকে দেখে কায়সারের মুখের রেখাগুলো আশাবাদী হয়ে উঠতে চায়। এই সময়ে প্রবল শব্দে মোবাইল বেজে উঠে। পিঙ্কি ফোন করেছে নিশ্চিত। গতোরাতে তুমুল ঝগড়া করেছিলো কায়সারের সাথে। নিশ্চয়ই এখন রাগ ভাঙ্গাতে ফোন দিয়েছে।

কায়সার ফোন ধরতে পকেটে হাত দেয়। কিন্তু তার ফোন ধরা হয়না। অথচ অপর প্রান্ত থেকে পিঙ্কি ক্রমাগত বেজেই চলেছে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে নিলেই তা ওজনহীন শূন্য হয়ে যাবে। শার্টের পকেটে কিছু খুচরো পয়সা ছিলো বলে এই যাত্রায় রক্ষা। নয়তো মুচির কাছে বেইজ্জতি হয়ে যেতো। গলা শুকিয়ে আসলে কায়সার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজায়। আবিষ্কার করে সদ্যই মানিব্যাগ খোয়ানো নিজেকে মদন মফিজের শিরোমনি বলে মনে হচ্ছে। তুমুল শব্দে ট্রাফিক সার্জেন্টের বাঁশি বাজে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৮:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×