আমার মত অধম গোনাহগার বান্দার পক্ষে কোন সম্মানিত আ’লেম সম্পর্কে সমালোচনা করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা সম্ভব নয় । কেননা আমি আ’লেমদের জুতা বহণ করারও যোগ্যতা রাখি না । তারপরও বাস্তবতার নিরিখে এ বিষয়ে আমি কলম হাতে নিয়েছি একমাত্র আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য । সম্মানিত আ’লেমদের আমার কলিজার টুকরোর চেয়েও বেশী ভালোবাসি বলে । আল্লাহ ! আমার কথা দ্বারা কোন মানুষকে যদি এতটুকু কষ্ট দিয়ে থাকি, তাদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এবং আমার ‘রব’ আপনিও আমাকে ক্ষমা করে দিবেন ।
এই প্রশ্নের সত্য সঠিক উত্তর দিতে গেলে আমাদের সম্মানিত হানাফী মাযহাবের আ’লেমগণ অনেকেই ক্ষেপে যাবেন । অল্প সংখ্যক আ’লেম ক্ষেপে যাবেন না । তারা সংখ্যায় খুব কম এবং দুর্বল । ঈমানের জোর কম বলেই তারা নিরবে সে বাস্তবতা স্বীকার করে নেন । আর এই আ’লেমগণের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়, আর তাদের দাওয়াতী প্রোগ্রামে গিয়ে তারা নসিহত করেন, “ আহলে হাদীস নাম” দিয়ে মসজিদের নামকরণ করবেন না । তাতে হানাফীরা যারা বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছেন, তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে আরো দূরে সরিয়ে দেয়া হবে । কথা যৌক্তিক । কিন্ত কেন তারা নাম পরিবর্তন করছেন না ? তার জন্যও কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাবের মুসল্লীগণ যারা ভুল করে এই মসজিদে স’লাত আদায়ের জন্য প্রবেশ করেন, তারাই দায়ী । কেন ? কারণ আপনাদেরকে উানারা যখন কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর আদেশ পেয়ে মহব্বত করে কাছে টেনে নেন, তাতে আপনারা বিব্রত হন এবং বেশ উত্তেজিত হয়েই দূরে সরে দাঁড়ান । উনারাতো আপনাদের কষ্ট দিতে চান না, কিন্তু আপনারা যাতে কষ্ট না পান, তার জন্যই উনারা তাদের মসজিদের নামকরণ এভাবে পৃথকী করতে বাধ্য হয়েছেন । কেন আপনাদের এই অবস্থা ? কারণ আপনারা সলাত “প্রতিষ্ঠার” জন্য মসজিদে প্রবেশ করেন না, আপনারা অধিকাংশই প্রবেশ করেন স’লাত ঠোট নাড়িয়ে বিড় বিড় করে “পড়ার” জন্য । অথচ আপনারা জানেনই না যে, স’লাত কেবলই কিছু শব্দ, বাক্য উচ্চারণ করে “পড়া” নয় । স’লাত ব্যক্তি পরিবার , সমাজে প্রতিষ্ঠার বিষয় ।
আমাদের হানাফী মাযহাবপন্থী যারা আছেন, তারা সহীহ্ হাদীস গ্রন্থ সমূহের স’লাত অধ্যায় এবং স’লাত প্রসংগে অন্যান্য যত ধরনের হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো যদি খুব মনযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ পড়েন, তারা যদি সত্যিকার অর্থে স’লাত ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে আদায় করতে যে কোন হানাফী আ’লেমদের পেছনে ইকতাদাহ্ করেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি , আল্লাহর ভয় যদি আপনার অন্তরে থাকে, তাহলে আপনার হৃদয় ভয়ে কেঁপে উঠবে । আপনি ছট ফট করবেন, আর বলতে ইচ্ছে করবে, “ হুজুর , আপনি এ কি স’লাত আমাদের নিয়ে আদায় করলেন ? এই স’লাততো রাসুল(সঃ) এর স’লাত নয় । আপনার হৃদয়ে স’লাতের প্রতি সত্যিকার মহব্বত, দরদ থাকে, যদি আল্লাহকে ভয় করে স’লাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন, আপনার মনে হবে যে করেই হোক এই মসজিদের স’লাতকে রাসুল(সঃ) এর স’লাতে পরিণত করার জন্য আমাকে জিহাদ করতে হবে । সেই জিহাদ তরবারি দিয়ে নয় । আপনার মন চাইবে কলম দিয়ে জিহাদ শুরু করতে ।
অধম চেষ্টা করছি । দোয়া করবেন । কিছু দাওয়াত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কলম তুলতে বাধ্য হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে লিখেছি । লিংক সংযুক্ত করলাম । এই লেখাটা পড়ে যারা কষ্ট পাবেন, তাদেরকে অনুরোধ করব, আমাকে দোষারোপ না করে বরং আপনারা এই জিহাদে সামিল হোন, একমাত্র আল্লাহর জন্য । Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

