অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে বাংলাদেশে আর্মির বাড়ি কেন যেন খুব বেশি কার্যকর । রাস্তাঘাটে কোথাও কোন নিয়ম নাই, এলোপাথাড়ি অবস্থা – দিনের পর দিন অব্যবস্থা । কিন্তু সেনাবাহিনী নামলেই শৃঙ্খলা যেন কোত্থেকে উদয় হয় ।
সবাই ইতিমধ্যে জেনে গেছেন যে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লাগার হৃদয়বিদারক ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠতে না উঠতেই আবারো আগুন লাগল উত্তরার দক্ষিণখানের একটি গার্মেন্টস কারখানায় । আশুলিয়ার ঘটনায় কোথায় গার্মেন্টস মালিকপক্ষ বাড়তি সচেতন হবে তা না, একটি মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো আগুন লাগার পুনরাবৃত্তি ।
আশুলিয়ার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ পড়ে আমার কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে । শ্রমিকরা নামতে চাইলেও তাদের তালা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল । একজন কলিগ নাকি জেনেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন আগুন লাগার সময় জোরে ডিজে গান বাজছিল যাতে শ্রমিকরা টের না পায় । এখনও প্রমাণ হয়নি আশুলিয়ার আগুন সর্ট সার্কিট বা অন্য কোন অসাবধানতার জন্য কিনা । কিন্তু মালিক পক্ষ বা ম্যানেজমেন্ট যদি শ্রমিকদের ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হত তাহলে তাদের এভাবে তালা দেওয়া গেট খুলে না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবার সঠিক কারণ কি ?
আমার সন্দেহ, মালিক পক্ষ নিজেদের দেউলিয়া প্রমাণ করতে নাশকতামূলক ভাবে এসব করছে না তো ? কিংবা ঈর্ষান্বিত অন্য কোন পোষাক রপ্তানির দেশ আমাদের দেশের লোকদের টাকা খাইয়ে এসব করাচ্ছে না তো ?
তবে কারণ যাই হোক আগুন লাগাটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে এটা তো ঠিক ।
জানি না , এরকম করা যায় কিনা – যেসব গার্মেন্টস কারখানা ভাল লাভ সহ চালু আছে সেক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক রোস্টার ভিত্তিতে চার/পাঁচ জন সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা যায় কীনা । এক্ষেত্রে অন্তত নাশকতামূলক আগুন লাগার ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে । এবং নজরদারিও বাড়বে ।
আর গার্মেন্টসের প্রতিটা ফ্লোরে ফ্লোরে কেন তালার ব্যবস্থা থাকবে ? তথাকথিত সামান্য দু একটা চুরি ঠেকাবার জন্য ? এ যেন মশা মারতে কামান দাগানো । এত ফ্লোরে তালা না থেকে মূল গেটে নজরদারি আরো বাড়ালেই তো হয় ।
এখন পর্যন্ত এই শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি । সরকারের এ ব্যাপারে আরো যত্নবান হওয়া প্রয়োজন ।
সেই সব নিহত শ্রমিকরাও মানুষ ছিল । কিন্তু তাদের অপরাধ তারা ধনী মানুষ নয় ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

