মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আরো মামলা হতে পারে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যে কোনোভাবে সরকার তাকে আটকিয়ে রাখতে চেষ্টা করবে-ই। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাউকে আটকিয়ে রাখতে হলে ষড়যন্ত্র মামলা কোনো নতুন বিষয় নয়। আমার পরিবারের সাথে-ই এমন অনেক মামলার ঘটনা আছে। আমি তখন কৈশোরে, যখন বাংলাদেশে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিলো। আমার এখনও স্মরণ আছে সেই দিনগুলোর বিভিন্ন চিত্র। আমার চাচাতো ভাই তখন ছিলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিলেট জেলা কমিটির অন্যতম একজন নেতা। সিলেটে তখন চলছিলো এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের মুখে এরশাদ সিলেট আসতে পারছিলেন না। এরশাদ ঘোষণা দিলেন সিলেট আসবেন। স্বৈরাচারী এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন শ্রদ্ধেয় মরহুম হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। চৌধুরী মহুদয় সিলেট এসে তাঁর দরগাগেইটস্থ বাসায় সিলেটের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদেরকে নিয়ে একটা বৈঠক করে অনুরোধ করলেন এরশাদকে সিলেট আসতে দেওয়ার জন্য। কেউ কেউ মৌন রাজী হলেও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে একটা হালকা কর্মসূচী শেষ পর্যন্ত দেওয়া হলো। এদিকে একই সময়ে সিলেট জেলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক চলছিলো (আজকের দানবীর বলে খ্যাত) ভূমিখেকু রাগীব আলীর বিরুদ্ধে আন্দোলন। স্বৈরাচারী এরশাদের সাথে রাগীব আলীর সম্পর্ক ভালো ছিলো। অনেকের মতে এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ রাগীব আলীর ব্যবসায়িক পাটনার ছিলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (অবশ্য এই কথার সত্য-মিথ্যার কোনো তথ্য আমার কাছে নেই)। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনকে থামানোর জন্য তখন সংগ্রাম পরিষদের নেতাদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে শুরু করলো। আমার চাচাতো ভাই সৈয়দ হাসান আহমদও এক সময় গ্রেফতার হলেন। গ্রেফতার হলেন তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে। পরে মামলা দেওয়া হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ীতে আক্রমন করে ভাঙচুরের। প্রায় দু,তিন মাস তিনি জেলে থাকলেন। অথচ আমরা ভালো করে জানি, এমন কোনো ঘটনাই তখন সিলেটে ঘটেনি। একই ভাবে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ের একটি ঘটনা আমার এই মূহুর্তে স্মরণ হচ্ছে। তখন আমার ছোট চাচা সৈয়দ মুজিবুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কমিটিতে। পরে তিনি সিলেট এমসি কলেজের ভিপিও ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়া আসবেন সিলেটে হ্যাঁ, না ভোটের প্রচারানুষ্ঠানে। এর দুএকদিন আগে কিংবা এই দিন-ই চাচাকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেলো । পরে মামলার নকল উঠিয়ে দেখা গেলো কোন এক অনুষ্ঠানে নাকি তারা অস্ত্রসহ আক্রমণ চালিয়েছেন বলে তাদেরকে গ্রেফতা করা হয়েছে। অথচ আমি যতটুক আমার ছোট চাচাকে জানি তিনি জাসদের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও অস্ত্র জীবনে হাতে উঠানোর মতো মানুষ নয়। এই উদাহরণগুলো নিজের পরিবার থেকে এই জন্য দিলাম যেহেতু নিজের জানা ঘটনার সত্যতা বুকে হাত দিয়ে বলা যায়। অনেকের কাছে হয়তো এমন আরো অনেক ঘটনা আছে। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক আগতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিলো আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধেয় পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাই রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র মামলা নতুন কোনো বিষয় নয়। আমি বলছিলাম, মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা হওয়াটা আশ্চর্যের কিছু নয়, যেহেতু প্রচারিত আছে তিনি বিএনপি সমর্থক কলামিস্ট। তবে ভিন্নমতের বক্তব্য স্তব্ধ করার যে প্রবণতা সরকারের মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে তা আওয়ামীলীগ সরকারের ইতিহাসকে কলংকিত করছে বলে আমরা মনে করি। তা ছাড়া মাহমুদুর রহমানের সাথে আওমীলীগের আদর্শিক সংঘাত থাকতে-ই পারে, কিন্তু আমারদেশের সাত শ সাংবাদিকের সাথে কোন শত্রুতা? ওদেরকে বেকার করলে দেশের কতো মানুষের রুটি-রুজী বন্ধ হচ্ছে তার কি হিসাব সরকারের কাছে আছে? সরকার মাহমুদুর রহমানকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জেলে রাখলে রাখুন, কিন্তু আমারদেশ পত্রিকা খুলে দিয়ে সাধারণ সাংবাদিকদের কে বাঁচতে দিন, মানবিক কারণে। যতটুক জানতে পেরেছি, সরকার আমারদেশ পত্রিকার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উঠাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় আমারদেশের সাংবাদিক-কর্মচারীরা এই মাসের বেতন উঠাতে পারেননি। ফলে অনেকে ঘর ভাড়া, বাজার খরচ, বিদু্ৎ বিল, বাচ্চাদের ইস্কুলের ফিস ইত্যাদি দিতে পারছেন না। এ বিষয়টি সরকারের মানবিক বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিলো। আমারদেশের চিন্তা-চেতনার সাথে যে কারো মিল-বেমিল থাকতে পারে। তাই বলে কর্মজীবী সাংবাদিকদের ভাগ্য নিয়ে খেলার অধিকার কারো নেই। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী-যতোদ্রুত সম্ভব আমারদেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক এবং যে ব্যাংক একাউন্ট থেকে সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় তার ওপর থেকে খবরদারী প্রত্যাহার করা হোক।
আমারদেশ পত্রিকা খুলে দিয়ে সাধারণ সাংবাদিকদের কে বাঁচতে দিন
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।