কোন এক সঙ্গীত শিল্পী তার গানের কথায় বলে গেছেন “এই দুনিয়া, এই দুনিয়া পিতলের”। এটা আমাদের অভ্যেস যে আমরা সবকিছুতেই সোনা রুপা পিতল এসব খুঁজি। আর কখনো কখনো যুগ খুঁজতে গিয়েও আমরা সোনা যুগ আই মিন স্বর্ণ যুগ রুপা যুগ এসব খুঁজি। তেমনি এক টান টান পরিস্থিতিতে যখন ব্লগিং শুরু করি কবি অলরেডি গাহিয়ে ফেলিলেন “ব্লগের সেই সোনা যুগ কি আর আছে পাগলা?!”। তার মানে? তার মানে হল ব্লগের স্বর্ণ যুগ নাকি শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন রিসিশনে।
বোমিং যুগের পাঠক হলাম রিসিশন যুগের লেখক। সামু ব্লগ ফলো করি আজ প্রায় ৫ বছর। কিন্তু কখনো ভাবিনি এখানে লিখব। কোন এক লেখায় কমেন্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায় এখানে রেজিস্টার করা। কিন্তু এরপর কবি বললেন “ঘোমটা যখন তুলেই ফেলেছিস নাচতে আর লজ্জা কিসের”। এবং এরপর লেখা শুরু। বাট বাট এটা সত্য আমি কোন ব্লগার নই। না, ব্লগার ব্যাপারটা নিয়ে কিছু মানুষের ভুল ধারনা আছে বলেই নিজেকে ব্লগার বলতে ভয় পাচ্ছি না।আর যাদের ভুল ধারনা আছে আমি জানি তারা কেউ ব্লগে আসেনা বা ব্লগ ব্যাপারটা কি জানেনা। আমার কাছে ব্লগার ব্যাপারটায় বিশাল। আমার কাছে ব্লগার হল যারা সত্যিকার অর্থে লেখক, যাদের লেখায় থাকবে সমাজ উন্নয়নের ছাপ, যারা একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরবে তাদের লেখায়, যাদের লেখনির কারনে জনসচেতনতা বাড়বে, যাদের লেখায় অনেকের ধ্যান ধারনার পরিবর্তন হবে, লেখা হবে উচ্চমার্গ সম্পন্ন ইত্যাদি ইত্যাদি। সো সে অর্থে আমি মোটেও ব্লগার নয়। হ্যাঁ এই পর্যন্ত সামু ব্লগে এরকমই একটি পোস্ট না করতে পারাটাই হচ্ছে আমার না পাওয়া। সামু ব্লগে এই পর্যন্ত এটাই আমার না পাওয়ার হিসেবে থাকবে। তবে অবশ্যই অবশ্যই আমার চেষ্টা থাকবে এরকম কিছু লেখার।
আর পাওয়ার পাল্লাটা আমার বিশাল। অন্যদের মত সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার আঁতুড় ঘর ফেইসবুক। ফেইসবুক কে যদি আমি প্রাইমারী স্কুল মনে করি তাহলে ব্লগ হল গ্রাড স্কুল। তাই নিঃসন্দেহে আজ আমার গ্রাজুয়েশনের এক বছর পূর্তি। ফেসবুক প্রাইমারী স্কুল হওয়ার কারন আপনি কাবঝাপ লেখে পাড় পেয়ে যাবেন। কিন্তু ব্লগ? নো ওয়ে ম্যান!!! লাইনে থাকুন, নাহয় বেইজ্জতি করে লাইনে নিয়া আসা হবে!!! তো ইজ্জতের সাওয়াল যেখানে সেখানে তো আর কাবঝাপ লেখা যায়না। হ্যাঁ সামুতে এই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া যে আমাকে লাইনে থাকতে বাধ্য করেছে।
সামুর কাছে আরেকটি বড় পাওয়া হল “কমেন্ট ওয়িথ ফুল ম্যানার”। আপনি যখন আপনার লেখায় একটি সুন্দর কমেন্ট পাবেন দ্যাট ওয়িল এঙ্কারেজ ইয়ু টু রাইট ব্যাটার। এমন কিছু কমেন্ট আমি পেয়েছি যেগুলো মনে করে দুএকদিন ভাতও না খেয়ে থাকতে পেরেছি। ইয়ে মানে কমেন্টগুলা পেটে রয়ে গিয়েছিল। আবার মজার কমেন্টও অনেক পেয়েছি। তবে আসল কথা যে ধরনের কমেন্ট হোক না কেন কমেন্ট গুলোই প্রমান করেছে কি পরিমান মার্জিত রুচির লেখক এই সামুতে আছেন।
আমি যখন লেখালেখি শুরু করি ‘টু বি অনেসট টু সে’ তখন সামুতে বেশি বেশি ভাব গম্ভীর লেখা পোস্ট হত। শিক্ষামূলক, বিশাল বিশাল চিন্তার, সাহিত্য মুলক। দুঃখজনক ব্যাপার হল সারাজীবন (মানে আজ পর্যন্ত) ফান খুঁজে ফিরা আমার সেইসব লেখা মাথার দুই হাত উপরে দিয়ে যেত। তবে এটা ঠিক ব্লগের আসল প্রান ছিল অইসব লেখা এবং এখনো পর্যন্ত ব্লগের আসল প্রান ওই ধরনের লেখা। কিন্তু ম্যান, হালকা বিনোদন যদি আপনি না পান তাইলে ক্যামনে কি? সেই চিন্তা থেকেই আমি ভাবতাম খালি হিউমার টাইপ লেখা লিখব। কিছু হিউমার করতে গিয়ে আমার বেশির ভাগ লেখায় ১৮+ ক্যাটাগরিতে পড়ে যেত। তবে দোজ আর ওয়েল একসেপ্টেড। সামুকে অসংখ্য ধন্যবাদ সে জন্য।
লিখতে গিয়েই এখানে অনেক অনেক ব্লগারের সাথে আমার পরিচয়। যদিও সামুর কোন ব্লগারের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমার যোগাযোগ নেই। কিন্তু স্টিল আই ফিল এ ফ্যামিলি হিয়ার। কারো সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ না থাকার পরও যখন আমি নিজেই এখানে ফ্যামিলি ফ্যামিলি ফিল করে তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে ‘হুয়াট আই গট ফ্রম সামু’।
মানুষ নাকি পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলাতে গেলে না পাওয়ার পাল্লাটাই ভারী থাকে। তবে সামুতে আমার পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মিলাতে গিয়ে পাওয়ার পাল্লাটাই আমার ভারী হয়ে যাচ্ছে।
আশা করব আমার পাওয়ার পাল্লাটাই ভারী হবে অদূর ভবিষ্যতে।
যেতে যেতে একটা জোকস বলি-
দিল্লীর একটি জায়গার নাম “বড় খাম্বা”। কিন্তু ইন্ডিয়ানরা তো আমাদের মত “বড় খাম্বা” বলে না। তারা যা বলে দয়া করে এইটা কেউ হিন্দিতে উচ্চারণ করবেন না। তাহলে হিন্দি চুল হয়ে যাবে
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


