somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নির্বাক কাকতাড়ুয়া
জীবন একটা অদৃশ্য শিরোনাম । যার বিস্তারিতই দেখে শুধু মানুষ, মূল শিরোনাম দেখেনা কেউ । কেউ কেউ আবার বিস্তারিত সংবাদের মাঝেই হার মেনে যায়...

মূলা ঝোলানো

০৭ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মূলা ঝোলানোর ব্যাপারটা আমরা অনেক পরে বুঝি । তবে সবসময় মূলা ই নয় বেগুন হতে পারে, গাজর হতে পারে বা শসাও হতে পারে । তবে উদাহরণের ক্ষেত্রে 'মূলা'কে ব্যবহার করাই হলো সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ।
ছোটবেলা থেকেই আমাদের মূলা ঝুলানোর ব্যাপারটি শেখানো হয় । পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র আর শিক্ষানীতিতে তো আরও বড়সড় মূলা ।
ভালোমত পড়াশুনা করো মূলা পাবে । তবে সবাই আবার মূলা পায়না । আমার প্রাইমারি, হাইস্কুল লেভেলের অনেক বন্ধুই এই মূলার দিকে বেশিদূর হাত বাড়াতে পারেনি । কারণ এদের নাকের উপর বড়সড় একটা লাউ পড়েছিল(লাউ মানে বুঝেছেনতো? লাউ মানে হলো দারিদ্র্যতার কষাঘাতে পড়ে এরা সেখানেই থেমে গেছে ।)
আমরা সবাই মূলাপ্রিয় । সব শ্রেণীর মানুষ মূলা খেতে পছন্দ না করলেও স্বপ্ন দেখে বড়সড় মূলার । মূলা ধরতে হবে...মূলা ধরতে হবে...
আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বপ্ন দেখার বিরুদ্ধে । তবে আমাকেও মূলা ধরতে হবে । কারণটা বলছি কিছু সহজ কথায়-
খুব কম সংখ্যক মানুষ আছে যারা ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখে তার বাস্তবের রূপ দিতে পারে ।
বাস্তবিকভাবে কিছু প্রেমের সম্পর্ক দেখা যায় । এক মাস-দু মাসস-ছ মাস আবার বছরের পর বছরও গড়ায় এসব সম্পর্কের । এত দিনের সম্পর্ক যখন কোন কারণে ছিন্ন হয়ে যায় তখন দুজন দুজনকে দোষারোপ করতে থাকে । "কেন সে জীবনটা নষ্ট করে দিল, কেন সে স্বপ্নটা নষ্ট করে দিল, কেন এতটা সময় বেগার খাটাইলো, কেন মূল্যবান সময়গুলোকে এভাবে অপচয় করালো ব্লা ব্লা ব্লা..." তাহলে এতদিনের বিশ্বাস ভাঙ্গার পিছনে কার উপর দায় পড়বে? প্রশ্ন...
আবার জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিয়ে । বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের ব্যাপার থেকে হলো মেয়ে সুন্দরী হতে হবে, ফর্সা হতে হবে । সেক্ষেত্রে মেয়ে যদি গরীবও হোক বা হোক কোন ফকিরনীর মেয়ে এইসব মুখ্য নয় ।
আবার মেয়েদের ব্যাপার থেকে হলো ছেলের অনেক টাকা পয়সা থাকতে হবে । এখানে ছেলের বাহ্যিক কোনো বদাভ্যাস সব মার্জনীয় । আর ছেলের ভালো ক্যারিয়ার হতে হবে, তাছাড়া বলবে ফা* ইওরসেল্ফ ।
খুবই সাধারণ কথা । সেইক্ষেত্রে ছেলে যদি সুন্দরী বউ না পায় বা মেয়ে যদি টাকাওয়ারা বর না পায় তাহলে দোষটা কার ঘাড়ে চাপবে? প্রশ্ন রইল...
একটা সময় পার করার পর মানুষ শুধু নিজেকে এবং পরিবারকে চালানোর পথ খোঁজে । এখানে মুখ্য হিসেবে কাজ করেনা কে এসএসসি তে জিপিএ ফাইভ পেয়েছে নাকি ভার্সিটিতে প্রতি সেমিস্টার/বর্ষে সিজিপিএ ফোর পেয়েছে! এগুলো তখন ম্যাটার করেনা । আবার কে কিরকম পড়াশুনা করা বিসিএস দিলো আবার কেউ কিভাবে টিকলো তাও বলা যায়না ।
ছোটবেলায় যখন ভাবসম্প্রসারণ পড়েছি, তখন বলা হত ভাগ্য বলে কিছু নেই । ভাগ্য বিশ্বাসী লোক এগোতে পারেনা ব্লা ব্লা ব্লা অনেক কথা...
আমি এদিক থেকে উল্টো! আমি ভাগ্যকে বিশ্বাস করি, প্রচুর বিশ্বাস করি তারচেয়ে কোটিগুণ বিশ্বাস রাখি আমার স্রষ্টার উপর । তিনি আমার সবকিছুর সমাধান করে দেন । তিনিই খাওয়ান, তিনিই পড়ান ।
টু দ্যা পয়েন্ট; কেন আমি এসব কথা বলছি - কারণ সব বাবা-মা ই চায় তার সন্তান স্বপ্ন দেখুক তারচেয়ে বড় স্বপ্ন দেখান স্কুল মাস্টাররা । তারা নিজেকে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ভাবতে বলেন কিন্তু কখনোই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলেননা কারণ এখানে হয় আপনাকে বঙ্গবন্ধুর কেউ হতে হবে অথবা শহীদ জিয়ার কেউ হতে হবে । এ বেড়াজাল কেউ টপকাতে পারবেনা । সে কারণেই স্বপ্নটা বানানো হয় এরকম, মঙ্গলগ্রহের এলিয়েনদের সাথে সেল্ফি তোলার । দ্যাটস ঈট! এর চেয়ে আরকিছু হতে পারেনা । কল্পনাটা আকাশ-কুসুম করে দেখান তারা ।
শুধু যে তারাই দেখিয়েছেন এমনটি নয় । এখন আমাকেও দেখাতে হয় আমার ছাত্রদের । তাদের সামনে মূলা ঝুলিয়ে রাখতে হয় আমার, যদি সে মূলাকে ধরতে পারে তবেই তার এই দৌঁড়াত্ন্য সার্থক । সে ছুটুক তার মত করে, যদি নাগালে পায়, যদি তার নসীব/ভাগ্যে থাকে তবেই সে পাবে ।
তাদের বাবা-মা তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন এবং দেখান । আমি স্বপ্নবিরোধী বলেই তাদের তো আর বলতে পারিনা যে আমার দলে এসো, স্বপ্ন দেখোনা । আমার কাজ হলো তার পাঠ্যবইকে তার অন্তস্থ করে দেওয়া । তাকে পাশ করিয়ে ভালো রেজাল্ট করানো । তাকে প্রকৃতঅর্থে পাশবিদ্যা শেখানো । সবাই সেটাই চায় সো সেটাই আমাকেও করতে হবে । সহজ হিসাব ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৮ রাত ১১:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×