
বর্তমান মিডিয়ায় তারকাদের মধ্যে সবথেকে শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি হলেন Tahsan সাহেব । আমি মনে করি তিনি মিডিয়াতেও যেমন হিরো‚ বাস্তব জীবনেও একজন হিরো । পত্রিকাতে দেখলাম অভিনেতা Ziaul Faruq Apurba তৃতীয় বিয়ে করেছেন এবং তাঁর সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী Audriana Exclusives এর নাজিয়া হাসানও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ।
একজন মানুষ বিবাহ বিচ্ছেদের পরে আবার বিয়ে করতে পারেন । সেটা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় দুই সংবিধানেই বৈধ । সেটি নিয়ে আমি বিদ্রুপ করবোনা কিংবা সেসবে আমার কোনো বিরোধও নেই । দ্বিতীয়‚ তৃতীয় বিয়ে করতেই পারেন । একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্র তাকে সেই বৈধতা দিয়েছে ।
কিন্তু আমি অবাক হলাম অপূর্বর দ্বিতীয় সাবেক স্ত্রীর কর্মকাণ্ড দেখে । তিনি ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় অপূর্বকে নিয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করছেন । সম্ভবত অপূর্বও তাঁর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর সাবেক স্ত্রীর বিভিন্ন সমালোচনা করবেন-করতে পারেন ।
তাহসান-Rafiath Rashid Mithila’র মেয়ে সন্তান আছে । অপূর্বরও একটা ছেলে সন্তান আছে । মিথিলা ডিভোর্সের পরে অন্য ধর্মের(ধর্মান্তরিত না হয়েই) বিয়ে করেছেন । যদি তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করতেন তবে আমি তাকে ভৎসনা করতামনা‚ কারণ একজন মানুষ হিসেবে তিনি সেই অধিকার রাখেন; রাষ্ট্র তাকে সেই অধিকার দিয়েছে । কিন্তু ধর্মান্তরিত না হয়ে বিয়ে করাটা যেকোনো ধর্মের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকারক । কোনো ধর্মই সেটা সাপোর্ট করেনা ।
তাহসান-মিথিলার ডিভোর্স হওয়ার পর কিন্তু দু’জন দু’জনকে কখনও কটাক্ষ করেননি বা সমালোচনা করেননি । এদিক থেকে দু’জনেই দু’জনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । এমনকি Evaly.com.bd ’র একটি প্রোগ্রামে তাহসান-মিথিলা একত্রে লাইভ অনুষ্ঠান করেছেন । তবুও তাঁরা দু’জন শ্রদ্ধার জায়গা রাখতে ভোলেননি ।
অথচ অপূর্বর স্ত্রী কি করলেন? তিনি অপূর্বর সমালোচনা করে কি নিজেকে শ্রদ্ধার জায়গায় রাখতে পারলেন? কিংবা অপূর্বকে শ্রদ্ধা আসনে রাখতে পারলেন? পারলেননা!
দেখুন আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি একজন নারীর সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অপর একটি নারী । কাপুরুষ কতৃক ধর্ষণ হওয়া ছাড়া নারীর পদে পদে বাঁধা অপর নারীই করেন-করে থাকেন ।
কি সুন্দর একটা সোনার সংসার ছিলো অপূর্বর । মিডিয়াতে সবসময় সরব থাকতেন দু’জনেই । অথচ তাঁরাই এখন অশ্রদ্ধার নিম্নস্তরে জায়গা করে নিলেন-নিচ্ছেন নিজেদের কর্মকাণ্ডের কারণেই । এত বছর ধরে একই বিছানায় থেকেও শ্রদ্ধার জায়গাটা কেউ-ই তৈরি করতে পারলেননা ।
আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই জানেন যে আমি অপূর্ব কত বড় একটা ভক্ত ছিলাম । অপূর্বর জন্য কতকিছু করেছি । অথচ ভাবতে অবাক লাগতেছে তাঁদের পুরাতন সম্পর্কের শ্রদ্ধার জায়গাটা ভেবে । আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ যে তাঁরা একজন অপরজনকে এভাবে ট্রিট করবেন ।
আরেকজন তারকা আছেন Afran Nisho তিনি কখনও তাঁর স্ত্রী‚ সন্তানকে মিডিয়ায় ফেস করাননি । মিডিয়া এবং সাংসারিক জীবনকে একত্র করেননি । কত অভিনেত্রীর সাথে কাজ করেন অথচ তাঁর কোনো ক্লেইম নেই । সেক্ষেত্রে নিশোও অন্যতম শ্রদ্ধার পাত্র ।
বিচ্ছেদ ভয়ানক জিনিস । তাঁর থেকে ভয়ানক হলো বিচ্ছেদের পর শ্রদ্ধার জায়গাটা ধরে রাখতে না পারা । সেটা বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোক‚ প্রেমের ক্ষেত্রে হোক‚ ভালোবাসার ক্ষেত্রে হোক‚ বিয়ের ক্ষেত্রে হোক বা অন্যকোনো সম্পর্ক...
শ্রদ্ধাটা ধরে রাখতে জানা উচিত । একবার শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেললে তাকে আর নতুন করে শ্রদ্ধার আসনে বসানো যায়না । কখনোই যায়না...
সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৮ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ শরতকাল | বৃহস্পতিবার | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং | কারওয়ান বাজার এলাকা‚ ঢাকা
#সাব্বিরসাকিল #শ্রদ্ধা #অশ্রদ্ধা #অপূর্ব #নাজিয়া #তাহসান #মিথিলা #আফরাননিশো #ডিভোর্স #বিচ্ছেদ #সংসার #ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



