somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুধু চোরের মন পুলিশ পুলিশ নাকি সাধুর মনও পুলিশ পুলিশ

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




‘‘চোরের মন পুলিশ পুলিশ’ এটি একটি সাধারণ সত্য কথা । কিন্তু তাঁর থেকেও বড় সত্য হলো ‘চোর’ অপেক্ষা সাধুরা-ই পুলিশকে দেখে বেশী ভয় পায় । এই ব্যাপারটি আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এই ভয়টা যেন আরও তীব্রতর । কখনও যদি গ্রামে পুলিশের গাড়ি ঢুকতো তখন একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করতো । লোকেদের কানে কানে কানাঘুষা চলতো যে ঘটনা কি‚ পুলিশ কি আমাকে ধরতে এলো নাকি ।

আমার কয়েকজন পরিচিত বড়ভাই‚ সহপাঠী এবং জুনিয়র ছোটভাই পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করেন । প্রয়োজন পড়লে নির্দ্বিধায় শরণাপন্ন হই । কোনোকিছু জানার থাকলে ডিটেইলস জেনে নিই । শুধু পরিচিত-ই নয় আমি যখন ঢাকাতে থাকতাম তখন সাহায্য নেওয়ার জন্য বেশিরভাগ সময় পুলিশের সাহায্য নিয়েছি । কোন রাস্তা কোনদিকে গেছে‚ কোন বাস কোনদিকে যায় আবার আদাবর থানাতে জিডি করতে গেছি আমি একাই ।

থানায় যাওয়ার আগে নাজমুল ভাইকে বললাম এই-এই ব্যাপার কোন থানাতে জিডি করবো । ভাই বললেন যেকোনো থানা থেকে করলেই হলো । যেই কথা সেই কাজ‚ আদাবর থানায় গিয়ে বললাম জিডি করতে চাই‚ জিডির বিষয়বস্তু জানালাম তারপর জিডিটা নিজের হাতেই লিখলাম । অতঃপর তিনি সাক্ষর ও সীল দিয়ে বললেন আমার কাজ শেষ আমি আসতে পারি ।

আলহামদুলিল্লাহ বড় ভালো খবর যে ঢাকার কোনো পুলিশ দ্বারা সাহায্য পাইনি এমনটি কখনও ঘটেনি । তাঁরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে । এতে আমার কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বা উৎকোচও চাননি বা দিতে হয়নি ।

আসলে ‘পুলিশ’ সম্পর্কিত নেগেটিভ ভাইব আমাদের ছোটবেলা থেকেই গেঁথে দেয়া । যেন আমরা এই পেশাকে সবথেকে নিকৃষ্ট করে দেখি । এটি আমাদের দোষ না‚ এই সমাজের প্রথার দোষেই আমরা সবসময় এরকমটা ভাবি ।

যখন কনস্টেবল পদে পুলিশের সার্কুলার হতো তখন সেই সার্কুলার আমি কখনও পড়েও দেখিনি । আমার ইনটেনশন ছিলো সেনাবাহিনীতে কাজ করার । ছোটবেলা থেকেই এই স্বপ্ন লালন করতাম আমি । শতভাগ সৎ উপার্জন আবার প্রতিপক্ষের গুলিতে মারা গেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন । দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার থেকে মহৎ আর কি হবে পারে?

আমি চাইলেও আল্লাহ পাক চাননি । তবে আমার পরিবারেই আমার লালন করা স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিয়েছে আমার ছোটভাই । হালাল খাবার খায়‚ হালাল উপার্জন করে; কি দারুণ একটা ব্যাপার । আমার সমগ্র জীবনকালেই সৎপথে থাকার চেষ্টা করেছি-করি-করে যাবো । অসসতা যেন আমাকে না ছোঁয় সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি সবসময় । আমার সমস্ত ইবাদতে এই বিষয়টির ধারাবাহিকতা ছিলো-আছে ।

পুলিশ প্রসঙ্গে ফিরি‚ মোহাম্মদপুরে ও ধানমন্ডিতে অনেক পুলিশের সাথেই দেখেছি । তাঁরাও যে হোটেলে চা‚ নাস্তা করতেন সেখানে আমিও করতাম । কথা প্রসঙ্গে একদিন বগুড়ার এক পুলিশের সাথে কথা হলো‚ তাঁর কথা শুনেই বুঝতে পারলাম বগুড়ার মানুষ । আধাপাকা দাঁড়ি‚ ধানমন্ডি ২৭ এ ডিউটি করেন ।

তো বিষয় হলো পুলিশ দেখলেই মনেহয় তিনি আমাকে আটক করবেন । তবে হ্যাঁ সংবাদপত্রের মাধ্যমে জেনেছি বগুড়াতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসেছিলেন যিনি পকেটে গাঁজা‚ ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে অর্থ আদায় করতেন । যদিও পরে তাকে অন্য স্থানে ট্রান্সফার করা হয়েছিলো । এক্ষেত্রে গণমাধ্যম বিশেষকরে প্রথম আলো‚ কালের কণ্ঠ‚ দৈনিক করতোয়া‚ চাঁদনি বাজার পত্রিকা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলো । গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসলে এবং ট্রান্সফার কাজ সম্পন্ন হলে বগুড়াবাসী প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন । সেই কর্মকর্তা থাকাকালীন আমিও অনেক ইনসিকিউরড ফিল করতাম । কে জানে কখন কি হয়‚ কখন কে ফেঁসে যায়; এমনকি শহর থেকে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরতাম ।

এই পুলিশভীতিকে কাজে লাগিয়ে একটা বিশেষ মহল স্বার্থের জন্য সবকিছু করে । সেটা হোক অনলাইন ভুঁইফোড় সাংবাদিক‚ হোক কোনো চামচা বা তেলবাজ চাটুকার । এঁরা প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক দেখিয়ে জিম্মি করে সাধারণ মানুষকে । কারণ সাধারণ মানুষগুলোকে তো বাঘের মতো ভয় পায় । এমনকি সে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও থানায় যায়না অভিযোগ দিতে । কি এক ভয়ংকর অবস্থা!

সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৪ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ শরতকাল | বুধবার | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং | ময়মনসিংহ
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মীয়তা বজায় রাখা ইসলামে ফরজ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) একটি মৌলিক নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও হাদীসে বারবার আত্মীয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×