কতদিন হলো কাগজের পত্রিকা পড়া হয়না‚ পঁচা কাগজের গন্ধ শোঁকা হয়না । গত চার সেপ্টেম্বরে আমার নিউজ এসেছিলো বলে বহুদিন পর একটা পত্রিকা কিনেছিলাম‚ যদিও ইচ্ছে করছিলো দোকানের সমস্ত পত্রিকাগুলো কিনে ফেলি; কিন্তু ফিনানশিয়াল ক্রাইসিস তা হতে দেয়নি । একটাসময় ছিলো যখন প্রতিদিন এক কিলোমিটার দূরে গিয়ে পত্রিকা নিয়ে আসতে হতো । মেইনরোড থেকে বাড়িটা একটু দূরে হওয়ায় এবং এলাকাতে কেউ পত্রিকা নিতোনা বলে পত্রিকাওয়ালা এলাকাতে ঢুকতোনা ।
প্রতিদিন গ্রামীনফোন অফিসে আমার জন্য আমার প্রিয় পত্রিকা দৈনিক প্রথম আলো রেখে যেতেন । আমার খালাতো ভাই তখন গ্রামীনফোনে চাকরি করতেন‚ মাঝেমধ্যে ভাই পত্রিকাটা বাড়িতে দিয়ে যেতেন । সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেকসময় চার-পাঁচ দিনের পত্রিকা জমা হয়ে যেত । তখন বিছানার উপরে সবগুলো পত্রিকা খুলে পজিটিভ নিউজগুলো পড়তাম ।
আমার প্রিয় একজন লেখক ছিলেন প্রয়াত সৈয়দ আবুল মকসুদ স্যার । পত্রিকা নেয়া শুরু করার পর তাঁর কোনো কলাম পড়িনি এমনটা বোধহয় কখনও হয়নি । কি নিদারুণ ভাবনা‚ লেখার কি শৈল্পিক গঠন । আমারও ইচ্ছে করতো-করে তাঁর মতো লেখাগুলো পত্রিকাতে প্রকাশ করতে । যেখানে সাধারণ মানুষের কথা স্থান পাবে‚ কৃষি‚ স্বাস্থ্য‚ রাজনীতি‚ অর্থনীতি‚ গুম‚ খুন‚ ধর্ষণ‚ দুর্নীতি স্থান পাবে ।
আমি নির্দিষ্ট বিষয়কেন্দ্রিক কোনো লেখক হতে চাইনা । লেখালেখির প্রসারতা ছড়াতে চাই সবটা ক্ষেত্রেই ।
আমার আম্মাও পত্রিকা পড়তেন । চোখে কম দেখতে পান বলে চোখে চশমা লাগিয়ে পড়তে হতো তাকে । মা’র চোখের চিকিৎসাটা তাড়াতাড়ি করে ফেলা দরকার । এত স্বল্প বয়সেই চোখটা খুইয়েছেন । আমি জানিনা আল্লাহপাক কবে সেই সামর্থ্য দিবেন আমাকে । আমি দেখতে পারবো মা চশমা ছাড়া সকালবেলা কুরআন পড়ছেন‚ অবসরে দৈনিক প্রথম আলো পড়ছেন‚ নিজেই সুঁইতে সুতা লাগাচ্ছেন ।
বর্তমানে পত্রিকা পড়ার জন্য এখন অনলাইন ভার্শনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া অন্যকোনো উপায় নেই । ব্যস্ততা ছাপিয়েও কলামগুলো পড়ি যত্ন সহকারবারে । সারাক্ষণ নিউজফিডে কতরকম খবরের লিংক ভেসে আসে । অথচ তাঁর কয়টাইবা পড়া হয়‚ জানা হয়; তবুও চেষ্টা করি দেশ-বিদেশের খবরাখবরগুলো জেনে রাখতে ।
প্রথম আলো বন্ধুসভা করার সুবাদে সাপ্তাহিক আড্ডার দিন গিয়ে মাসুদ ভাইকে বলতাম পত্রিকাগুলো কই । স্টোররুমে পত্রিকা থাকতো‚ মাসুদ ভাই খুব ভালো করে সাজিয়ে রাখেন পত্রিকাগুলো । আমিও পড়ে পড়ে সেগুলোকে আবার সাজিয়ে রাখতাম । সেদিনের পত্রিকা ছাড়া অন্যদিনের পত্রিকাগুলো স্টোররুমেই পড়তাম । অন্যরা কি ভাববে না ভাববে সেই কারণে । তখন শেরপুরে রোডে অফিস ছিলো । এরপর সেখান থেকে ট্রান্সফার করা হলো কালীমন্দিরের পিছনে রেজাউল বাকি সড়কে ।
সাংগঠনিক কত সুন্দর দিনকাল কাটিয়েছি কত জ্ঞানগর্ভ মানুষদের সাথে‚ কত কিছু জেনেছি-শিখেছি‚ কত নিরহংকার‚ কত বিনয়ী বন্ধুসভার সেই পুরোনো-নতুন মানুষগুলো । খুব মিস করি সময়গুলোকে । মিস করি প্রথম আলোকে ।
সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৬ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ শরতকাল | শুক্রবার | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং | রাত্রি ০১ টা ১২ মিনিট | ময়মনসিংহ
#সাব্বিরসাকিল #লেখালেখি #পত্রিকা #মা #প্রথমআলো #বন্ধুসভা #বগুড়া #ময়মনসিংহ
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



