somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমার ব্লগে ঘুরতে আসায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আশা করছি আমার লেখালেখি, ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লাগবে । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https://www.facebook.com/SA.Sabbir666

মেয়েদের শিক্ষা, স্বপ্ন ও বাস্তবতা যেরকম অমসৃণ

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার স্কুল‚ কলেজ‚ ভার্সিটির মেয়ে সহপাঠীদের প্রায় সবাই-ই চাকরি করতে চায় । সংসারের হাল ধরতে চায় । যদ্দুর জানি যেসকল মেয়েরা পড়াশোনার সাথে সম্পৃক্ত তাঁরা সবাই অপার এক সম্ভাবনা নিয়েই কাজটা করে । জীবন ও যৌবনের এক তৃতীয়াংশ সময় আমাদের পড়াশোনার পিছনেই চলে যায় ।

মেয়ে সহপাঠীদের অধিকাংশের ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে-যাচ্ছে । স্বামী‚ সেই পরিবার‚ সন্তানাদির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ অনেক বেড়ে গেছে । ক্লাসে যেই মেয়েটি সবথেকে প্রফুল্ল ছিলো দেখা যায় সেই মেয়েটি এখন কত নীরব কত নিশ্চুপ । অনেকেই ভালো স্বামী পেয়েছে‚ ভালো একটি পরিবারে[শুধু অর্থনৈতিক নয় মনঃতাত্ত্বিক দিক থেকেও ভালো] ঘরনি হয়ে গেছে ।

স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে যেই মেয়েগুলো এই যে এতবছরের দীর্ঘ একটা পথের যাত্রা শুরু করেছিলো তাঁদের ক’জনার স্বপ্ন‚ ইচ্ছে ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সবকিছু পেয়ে গেছে? যদিও পত্রিকাতে এরকম কোনো জরিপ প্রতিবেদন পাইনি বলে সেটা উল্লেখ করতে পারছিনা ।

যাইহোক চাকরি মানে আমাদের ধরেই নিতে হয় স্থানান্তর । এই দেশে খুব সামান্যকিছু চাকরি-ই আছে যেগুলো নিজ জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে হয়ে থাকে তাছাড়া বেশিরভাগই বাহিরে ।

আমরা যাঁরা অনার্স শেষ করেছি বা করছি যাঁদের উঠে আসা মধ্যবিত্ত‚ নিম্নবিত্ত থেকে আমরা খুব ভালো করেই জানি এই পথটা কত অমসৃণ‚ এই ম্যাথমেথিক্যাল সমীকরণটা কিরকম বিরূপ আকারের ।

চাকরিসূত্রে বাহিরে লাইফ লিড করার দু’টো উদাহরণ দিচ্ছি যেটি আমি ঢাকাতে স্বচক্ষে দেখেছি । বিশ্বাস করবেন কি-না আমি যখন এখানে-সেখানে বাসে ট্রাভেল করি তখন আমার ভিতরে এক অজানা ভয় কাজ করে । আমি একবার বাসে করে কল্যাণপুর থেকে শাহবাগ যাচ্ছিলাম তো বাসের মধ্যে তিন থেকে চারজন লোক । আমার ভিতরে এক আকস্মিক ভয় লাগা কাজ করছিলো । তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে । আমি ভাবছি এই বাসে কোনো সমকামী উঠলো কি-না‚ আমার ফোন‚ মানিব্যাগের থেকেও বড় ভয় হচ্ছিলো ঐটা ।

এ দেশে নারী ধর্ষণকারীর সংখ্যাও যেমন অধিক তেমনি সমকামী লোকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয় । আপনি কারোর চেহারা দেখতে বুঝতে পারবেননা তাঁর ভিতরে আসলে কি । সেই বাসের যাত্রীগুলোর চেহারাতে কিরকম যেন একটা ছাপ । আমি ট্রুলি বলছি সেদিন আমি খুব ভীত ও সন্তস্ত্র হয়েছিলাম ।

এছাড়াও ঢাকাতে থাকার সময় দেখেছি বাংলা সিনেমার মতো কিভাবে একদল ছেলে রামদা‚ চাপাতি নিয়ে প্রতিপক্ষকে দৌঁড়ানি দেয়া হয় । আমি একজন সুঠামদেহী পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও ভীত দিশাহীন হয়ে পড়েছিলাম । অতঃপর সেখানকার একজন স্থানীয় লোকের থেকে শুনলাম ঘটনার পিছনের কারণটা । তিনি জানালের এটা হলো আধিপত্য বিস্তারের নমূনা । এরকম ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে ।

আমি বেশ অবাক হলাম প্রত্যেক বয়স তেরো থেকে বিশের মধ্যে । অথচ এঁদের এতটা দাপট । শোডাউন দেয়ার সময় দোকানের গ্লাস ভেঙ্গে দিয়ে যায়‚ হোটেলের খাবার নষ্ট করে যায়‚ বাসার গেটে অস্ত্রের কোপ দিয়ে যায় ।

যাঁরা মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে কখনও গেছেন তাঁরা জানেন সেখানকার মানুষদের চেহারার অবয়ব কেমন‚ দৃষ্টিভঙ্গি কেমন । কোনো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ওঁদেরকে দেখলেই ভয়ে জবুথবু হয়ে যাবে । যেখানে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি চলে । এছাড়াও মারপিট তো সেখানকার নিত্যদিনের ঘটনা ।

এই যে শুধু দু’টো খুব ছোট উদাহরণ দিলাম তা থেকেই কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারবেন এখানে জীবন ও জীবিকা কতটা কঠিন । সবসময় কিরকম আতঙ্ক নিয়ে মানুষকে বাঁচতে চায় । আমি চাই আমরা সবাই একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছাই কিন্তু এইসব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে একজন নারী কিভাবে এগিয়ে চলবে । যদি জানে বাস্তব চিত্রটা কলেজের রুমে ক্লাসরুমের মতো নিঃসংকোচের নয়‚ নির্ভয়ের নয় । বাস্তব চিত্রটা এরকম । এভারেস্ট জয়ী ওয়াসফিয়া নাজনীন বলেছিলেন‚ “এভারেস্টে ওঠাটা যতটা না কষ্টকর বা ভয়ংকর তাঁর থেকেও ভয়ংকর ঢাকাতে চলাফেরা করা ।”

ভার্সিটির সুন্দর ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে এই দূর্গম নগরীতে পা বাড়ালেই মানুষ আন্দাজ করতে পারে যে কোথায় ছিলাম আর কোথায় আসলাম । এখানে মানুষকে বিশ্বাস করাটা কতটা কঠিন রাত জেগে পড়াশোনা করে সিজিপিএ বাড়ানোর চাইতেও । আমাদের একাডেমিক বইবন্দী জীবনের থেকে অন্য জীবনটা কিরকম কণ্টকযুক্ত‚ অমসৃণ‚ অমাত্রিক...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
১১ ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ শরতকাল | শনিবার | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং | ময়মনসিংহ

#সাব্বিরসাকিল #জীবন #শিক্ষা #মেয়ে #নারী #স্বাধীনতা #স্বপ্ন #ইচ্ছা #ভয় #রিয়েলিটি #জীবনথেকেনেয়া #ঢাকা #ময়মনসিংহস্বপ্ন
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:৫৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন সমগ্রঃ পর্ব ২

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



আকবর শেঠ।



'বৈঠকি খুনের জনক' আকবর শেঠ এর জন্ম ১৯৫০ এর দশকে। আকবরের প্রথমদিককার জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না। আকবর শেঠ প্রথম লাইমলাইটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×