somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের জীবন, আমাদের হতাশা

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা বয়সের পর দেখবেন আপনার সামনে শুধু মরীচিকা কিংবা ধূ ধূ করা প্রান্তর । আপনার শরীরের নয় মনের নার্ভ সিস্টেমগুলো আপনাকে সাহস জোগাচ্ছেনা‚ আপনি একটি কোণে স্থবির হয়ে পড়ে আছেন ।

এই সমাজ‚ এই দেশ বড়ই অদ্ভুত । এখানে আমাদের রাস্তকয় পড়ে থাকা আধূলির মতোও মূল্য নেই । আপনার ইচ্ছা‚ আকাঙ্খা‚ চাহিদা‚ স্বপ্ন এসবের কোনো মূল্য নেই এদেশের অধিকাংশ পরিবারে‚ এই সমাজে‚ এই রাষ্ট্রে । বেঁচে থাকবার মতো সামান্য সাহস সঞ্চার করে দেবার মতো মানুষ এখানে নেই ।

এখানে যা আছে তা শুধুই শূন্যতা যা ফাঁপা‚ ফলস‚ ব্ল্যাঙ্ক । এটা একটা কৃষ্ণগহ্বর । এই কৃষ্ণগহ্বরে তলিয়ে গেলে ফেরার রাস্তা আর নেই । তবে ত্রুটি-বিচ্যুতিগত দু-একটা রাস্তা হয়তো আছে তবে সেটা গৌণ বিষয় ।

আমরা কত উদ্দীপনা নিয়ে মায়ের জরায়ুতে একটা দীর্ঘকাল থাকি তারপর সময়মতো পৃথিবীর আলো দেখি । মায়ের মুখে কি স্বচ্ছজল হাসি । যেন মায়ের আর কোনো ভাবনা নেই‚ জন্ম দিতে পেরেই ক্ষান্ত হয়েছেন । আসলেই কি? না! সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা বাড়ে । সন্তানদেরও বাড়ে সমানুপাতিক হারে ।

সমাজে একটা প্রতিষ্ঠিত মর্যাদার দরকার পড়ে । শৈশবে যেই ছেলেটা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে‚ যৌবনের প্রাচুর্যে যে ছোঁটে লাগামহীন টাট্টু ঘোড়ার মতো । অথচ ভুল একটি এড্রেসে জন্ম নিলে সেই আশার প্রদীপটা দপ করেই নিভে যায় ।

এই দেশীয় পরিবারের কালচার‚ সমাজ‚ রাষ্ট্রের কাছে ক পয়সার মূল্য আমাদের? আমাদের চাহিদার‚ আমাদের স্বপ্নের আমাদের বাক স্বাধীনতার? এখানে যেসকল ইস্যু ক্রিয়েট হয় তা মনে হয়না পৃথিবীর অন্যকোনো দেশের তুলনায় কম বড় । সামাজিক স্বীকৃতি না পেলে পরিবার থেকে লাঞ্চনা‚ সমাজের কানকথা‚ রাষ্ট্রের নানাবিধ সমস্যা ।

এখানে আমাদের হতাশা বয়সের সাথে সমানুপাতিক হারে বাড়ে । এখানে শিক্ষা‚ স্বাস্থ্য‚ অর্থনীতি ব্যবস্থা এমন যে মৃত্যুই একমাত্র সফলকামী চিন্তা । সমাজ‚ রাষ্ট্রের বৈপরীত্যে আমাদের যখনতখন মৃত্যু আসে‚ হঠাৎ হঠাৎ গুম হয়ে যাই আমরা । আমাদের মানসিক মৃত্যু এখানে বহুকাল আগেই ঘটে‚ এ ধরনের মৃত্যু অন্যদেশে তূলনামূলক কম ।

জার্মান সভ্যতাতে এরকম মানসিক মৃত্যুর নজির খুবই কম বলে মনেহয় । এখানে সবটা ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক বিস্তার‚ প্রহসন । স্বার্থান্বেষী সর্ব মহলের রাজনীতি থেকে নিস্তারের পথ নেই । এখানে রাজনীতি শুধু একটি দেশ গঠনের জন্য নয়‚ সংস্থা‚ সংঘ‚ ক্লাব‚ সংগঠন সবকিছুতেই রাজনৈতিক বিস্তার লক্ষ্যনীয় ।

এইরকম হতাশাব্যাঞ্জক সমাজ‚ রাষ্ট্রে কিছু সময় বেঁচে থাকাটাই বড় একটা ক্রেডিট । নয়তো আমাদের জন্য জন্মের পরবর্তী সোডিয়াম ক্লোরাইড খাওয়ায়ে মেরে ফেলাটাই হলো বাস্তবাদী চিন্তা ।

অসুখী নানা প্রভাবন সবসময় যেখানেই ওতপ্রোতভাবে বিরাজমান । সেখানে কিইবা আর করবার থাকে...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৬ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ হেমন্তকাল | ১৩ সফর ১৪৪৩ হিজরী | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং | মঙ্গলবার | রাত্রি ০৩ টা ৫৮ মিনিট | ময়মনসিংহ
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার কথা : তৃতীয় পর্বের পর

লিখেছেন সুম১৪৩২, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩০



“আসলে উনি কে…?”
এই শিরোনামের একটি লেখা দিয়েই আমার লেখালেখির শুরু।
সামুতে।
এটার পর, আমি এই গল্পের কয়েকটা পর্ব লিখেছিলাম। মোট তিনটি । শেষ পর্বটির নাম ছিল—“পশ্চিম পাড়ার পথে”।

গল্পটার সময়কাল ১৯৯০ সাল।
রহস্য আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধ ভাঙার আওয়াজ আজ আর কেন আ্ওয়াজ করছেনা ?

লিখেছেন সূচরিতা সেন, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩০



সত্যি করে বলছি মাঝে মাঝে ভাবি এটা কি সেই বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ? একটা সময় যে বাঁধ ভাঙা আওয়াজের
একটাই পরিচয় ছিল,বিশ্বের সব থেকে বড় বাঙলা ভাষীর ব্লগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৯



মুনা, আজ ঢাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম।
যদিও অনেকের কাছে এই শীত টুকুই অনেক শীত। আমার আবার শীত কম। তুমি শুনলে অবাক হবে এই শীতে আমি পাতলা একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান - বাংলাদেশ

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একেবারে উথাল পাথাল অবস্থা। যেকোন সময়ে সরকার পতন হয়ে যেতে পারে।
এর আগে কয়েক বছর আগেও এমনটা হয়েছিল, হিজাব ইস্যু নিয়ে লোকজন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শীতার্ত একটি শিশু ও দুটি কুকুর

লিখেছেন ইসিয়াক, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩২


রাত বাড়ে যত তাপমাত্রা নামে তত,
পা ফাটে, ঠোঁট ফাটে গভীর হয় ক্ষত।

একটা শিশু কাঁপছে শীতে ছাতিম গাছটার নীচে।
দুটো কুকুর গা ঘেঁষাঘেসি করে তাকে ছুঁয়ে আছে।

শীতার্ত সবাই তারা,সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×