somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বগুড়া: স্বল্প টাকায় যেখানে জীবন-জীবিকা নির্বাহ, আনন্দ-বিনোদন সব পাওয়া যায়

২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অন্য জেলাগুলো থেকে যাঁরা বগুড়ায় চাকরি করতে যান এবং চাকরিসূত্রে দীর্ঘদিন সেখানে থাকেন তাঁদের একটা বড় জনগোষ্ঠীই বগুড়ায় সেটল হয়ে যান । এছাড়াও বগুড়ায় যাঁরা চাকরি করেন তাঁর বেশ মজাতেই থাকেন । কারণ সেখানে সস্তায় ভাত-তরকারি পাওয়া যায় । আছে আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা ।

নেসকোর গলিতে ৮০ টাকা হলে তিনি খাসির গোশতের বিরিয়ানি পেয়ে যান । পাশেই ৪০-৫০ হলে ডিম, ভর্তা, ভাজি দিয়ে পেটপুরে খেতে পারেন । টেম্পল রোডে ৩০ টাকা দিয়ে ২টা গমের রুটি খেয়ে দিন পার করে দিতে পারেন । এছাড়াও বিভিন্ন হোটেলে ১০০ টাকার মধ্যেই খুব ভালোভাবে খেতে পারেন ।

এমন গরমের দিনে সাতমাথায় ১০ টাকাতেই ট্যাঙ্ক, চিনি, বিটলবণ মিশ্রিত পানি খাওয়া যায় । এছাড়াও ফতেহ আলী রাস্তার পাশে বিভিন্ন ভেষজ গুণসম্পন্ন পানি ২০ টাকাতেই পাওয়া যায় ।

এ তো গেলো খাওয়ার ফিরিস্তি । থাকার ক্ষেত্রেও রয়েছে চরম সুবিধা । সিঙ্গেল হলে জহুরুল নগর, পুরান বগুড়া, সেউজগাড়ী, সবুজবাগে মেসে থাকলে ১০০০-১৫০০ টাকায় ভালোমতো থাকতে পারেন ।

বিবাহিত হলে রহমান নগর, কানছগাড়ি, কলোনী এসব এলাকায় কম খরচে সাবলেট নিয়ে ৪-৫ হাজার টাকার মধ্যেই থাকতে পারেন । এছাড়াও বগুড়ায় সুপেয় পানির অভাব নেই ।

বগুড়ায় সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অনন্য এক দৃষ্টান্ত । কম খরচেই ভালো টিউটর যেমন পাওয়া যায় তেমনি কোচিং সেন্টারগুলোতেও ভালো গাইড করানো হয় । তবে কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কথা ভিন্ন ।

এবার আসি বাজার-সদাইয়ের খরচে । শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার কিংবা কলোনী এলাকায় কম খরচেই ব্যাগভর্তি বাজার করতে পারেন । এছাড়াও কেউ যদি টাটকা সবজি চান সেক্ষেত্রে সুলতানগঞ্জ, বনানী বাজারে তরতাজা শাক-সবজি কৃষকের হাত থেকেই নিতে পারবেন । শহরের অদূরে মহাস্থানগড় বাজারেও আরও বেশী ফ্যাসিলিটিস পান ।

এছাড়াও কলা, পেঁপে, লেবু, শসা এসবও টাটকা এবং গাছপাকা ফল পাওয়ারও সুযোগ আছে ।

পোশাক-পরিচ্ছদ কেনার ক্ষেত্রেও রয়েছে দারুণ সুবিধা । শহরে উচ্চ-নিম্ন দু’ধরনের মার্কেট রয়েছে । শোরুম ব্যতীত আলতাফ আলী, আলামিন কমপ্লেক্স এসবে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই পোশাক পাওয়া যায় । এছাড়াও হকার্স মার্কেট থেকে খুব স্বল্প দামে পোশাক কেনার সুবিধা তো আছেই ।

বগুড়ায় যেকোনো জিনিসের দামাদামি করা যায় । যাঁরা ভালো দামাদামি করতে পারেন তাঁরা খুব কম খরচেই যেকোনো জিনিস কম মূল্যে পেয়ে থাকেন ।

এবার আসি যাতায়াত খরচে, বগুড়ায় এখনও রিক্সায় ১০ টাকা ভাড়া আছে । মোটামুটি আধা-এক কিলো রাস্তা ১০ টাকাতেই যাওয়া যায় । রয়েছে সিএনজির ব্যবস্থা ৬-৭ কিলোমিটার রাস্তায় ২০ টাকা ভাড়া দিয়েই চলাচল করা যায় । এছাড়া একটু দূরের রাস্তার জন্য রয়েছে বাসের ব্যবস্থা ।

বোরিংনেস কাজ করলে সাতমাথা, পৌর পার্ক, জেলা পরিষদ এলাকায় ঘোরাফেরা করলেই চোখে পড়বে নানা ধরণের অনুষ্ঠান । কোথাও গান হচ্ছে আবার কোথাও নাটক । আবার বগুড়ায় তো একটার পর একটা মেলা লেগেই থাকে ।

গায়ে একটু ফ্রেশ হাওয়া লাগাতে ইচ্ছে হলো পৌরপার্ক, খোকনপার্ক, মমইন ইকোপার্কে গিয়ে গা এলিয়ে বসে থাকার ব্যবস্থা আছে ।

বউয়ের সাথে সস্তায় খাবার-দাবারের জন্য সাতমাথায় নানা পদের বার্গার, রোল, পিঁয়াজি, বেগুনি, বটভাজি, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়িসহ নানারকম বাহারি খাবারের পসরা সাজানো থাকে ।

ঘুরতে যেতে ইচ্ছে হলে মহাস্থানগড়, খেরুয়া মসজিদ, ভাসু বিহার, শান্তাহার জংশন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, মমইন, মশলা গবেষণা কেন্দ্র, ওয়ান্ডারল্যান্ড, কচুয়াদহ, বিউটি পার্ক, ডানা পার্ক, বেতগাড়ী ২য় বাইপাসসহ নানা জায়গা রয়েছে ।

একটা মানুষের জীবন ধারণের জন্য এত সস্তা রেট আর কয়টা জেলাতেই আছে । বগুড়া যেন একটা প্যাকেজ । বগুড়ায় যাঁরা দূর থেকে গিয়ে থাকেন তাঁরা সাধ্যের মধ্যে সুখ-শান্তি খুঁজে পান । বলা চলে অন্য জেলায় একসাথে এতকিছু পাওয়া কোনো ক্রমেই সম্ভব নয় ।

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | সোমবার | ২২ এপ্রিল ২০২৪ ইং | ফেনী সদর থেকে
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ রাত ১:৪৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মনা মামার স্বপ্নের আমেরিকা!

লিখেছেন কৃষ্ণচূড়া লাল রঙ, ১৪ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

শুরুটা যেভাবে



মনা মামা ছিলেন একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মনা মামা তার বাবার ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল অনেক টাকা কামানো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭



জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি। আমরা কী খেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×