somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোটার বিষয়ে ইকুইটি দরকার

০৯ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা মাঠে খেলা চলছে৷ মাঠের চারদিকে দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে৷ দেয়ালের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি৷ দর্শকদের দেয়ালের বাইরে দাড়িয়ে দেয়ালের উপর থেকে খেলা দেখতে হয়৷ তিনজন ব্যক্তি খেলা দেখছেন৷ একজনের উচ্চতা অামার মতো৷ ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি৷ সহজেই খেলা দেখতে পারছেন৷ অারেকজনের উচ্চতা ৫ ফুট ছয় ইঞ্চি৷ বেচারা পায়ের অাঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে বহু কষ্টে দেয়ালের উপর গলা বাড়িয়ে খেলা দেখছেন৷ কখনো দেখতে পান, কখনে হাল ছেড়ে দেন৷ তৃতীয় ব্যক্তির উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট৷ তিনি কোনমতেই খেলা দেখতে পারছেন না৷ অথচ একই টিকেট কেটেছেন৷ এই অবস্থানের নাম ইনইকুয়ালিটি৷ ইনজাস্টিস৷

যারা খেলার অায়োজক ৫ ফুটের ব্যক্তিটারে দেখে তাদের মায়া লাগলো৷ তার সুবিধার জন্য কিছু করতে চাইলেন৷ মাথায় অাইডিয়া নিয়ে অাসলেন৷ ১০ ইঞ্চির একটা টুল তৈরী করলেন৷ ৫ ফুট উচ্চতার ব্যক্তিকে টুলটা দিলেন৷ ওই ব্যক্তি তার উপর দাড়ালেন৷ ফলে সহজেই খেলা দেখতে লাগলেন৷ এই অবস্থার নাম ইকুয়ালিটি৷ সমান সমান অবস্থা৷ এ অবস্থায়ও মাঝের অারেক ব্যক্তি যার উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি তার কষ্টের কথা কেউ ভাবেনা৷ এরা মধ্যবিত্ত৷ বেচারা৷ কষ্ট করেই তাকে খেলা দেখতে হবে৷
অায়োজক কমিটির মুখ পাল্টে গেলো৷ যারা অাসলেন সিচুয়েশন দেখে তারা অারেকটি উদ্যোগ নিতে চাইলেন৷ একজনের মাথায় অাইডিয়া অাসলো৷ দেয়ালের দরকার নেই৷ এখানে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে টুল দরকার না হয়৷ অাইডিয়া বাস্তবায়ন করে মাঠের চারদিকে লোহার জাল স্থাপন করে দিলেন৷ তিন জনই জালের ফাঁকা দিয়ে খেলা দেখতে পাচ্ছেন৷ এই অবস্থার নাম ইকুয়িটি৷ সাম্যতা যাকে বলে৷ তবুও ফাঁকা দিয়ে খেলা দেখার কষ্ট দেখা যায়৷

অাবার খেলার অায়োজক হলেন অন্যরা৷ তারাও দেখলেন লোহার জালের ফাঁকা অংশ দিয়ে কষ্ট করে খেলা দেখতে হয়৷ অাবার অাইডিয়ার বিষয়টি মাথায় অাসলো৷ একজন চিন্তা করলেন, জালের দরকার কি৷ যেই ভাবা সেই কাজ৷ মাঠের চারদিক থেকে জাল তুলে দেয়া হলো৷ তিন জন দর্শকই কোন বাঁধা ছাড়া খেলা দেখতে লাগলেন৷ এই অবস্থার নাম জাস্টিস৷
বুঝতেই পারছেন৷ জাস্টিস কি৷

মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করলেন, দেশের জন্ম দিলেন, অথচ পরে তারাই হলেন দয়ার পাত্র৷ কয়েক যুগ ধরে তারা দয়ার দাক্ষিণা পেয়েছেন৷ যা দিয়ে সংসার তো দূরের কথা৷ চিকিৎসাও চলেনি তাদের৷ ফলে তাদের রিকশা চালাতে হয়েছে৷ মজুর খাটতে হয়েছে৷ ভদ্রস্থ জীবন যাপনের জন্য তাদের ভাতাও দেয়া হয়নি৷ সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তারা বৃদ্ধাবস্থায় তাকে দেখেনি৷ সম্প্রতি তারা যেটা পাচ্ছেন তা অাগে দেয়া হলে অাজ তাদেরকে কোটার দয়া দিতে হতোনা৷ রাষ্ট্র তাদের প্রতি এতদিন জাস্টিস করে নি৷ তাদের ৫ ফুট উচ্চতার ওই ব্যক্তির মতো করে রাখা হয়েছে৷

এখন কোটার নামে ইকুয়ালিটি অানয়নের চেষ্টা করা হয়েছে৷ অাগের ভুলের প্রায়শ্চিত্য করতে গিয়ে এখন যারা সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত অংশ, ভালো খেয়ে, ভালো পড়ে, মেধা বাড়িয়ে নিজেদের ৫ ফুট ১০ ইঞ্চিতে রূপান্তর করেছেন, যারা সরকারি চাকরি নিয়ে খুব একটা ভাবেন না, ৫ ফুট উচ্চতার ব্যক্তিকে তাদের সমান করা হয়েছে৷ ফলে মাঝারি ব্যক্তি নিজেকে বঞ্চিত মনে করছেন৷

কোটাবিরোধী অান্দোলন করা করছে? জেনে নিন নিজেদেরকে বঞ্চিত মনে করা এরাই এই অান্দোলনে যুক্ত হয়েছে৷ তবে এখনো সুযোগ অাছে৷ অারো দুটি ধাপ অাছে৷ ইকুয়িটি৷ জাস্টিস৷ অামি অাইডিয়া নিয়ে কাজ করি৷ অাইডিয়া পারে এ সমস্যার সমাধান করতে৷ অামরা জাস্টিস করতে না পারি অন্তত ইকুয়ালিটি থেকে ইকুয়িটির পর্যায়ে নিতে পারি৷ যাতে সব পক্ষ খুশী থাকেন৷

কাজী সায়েমুজ্জামান
খুলনা, ৯ এপ্রিল ২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:২৮
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী হত্যায় সম্ভবত আপনিও জড়িত

লিখেছেন অপলক , ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

আপনি আমি প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ ভাবে নদীকে হত্যা করি। হয় রাতারাতি বা তিলে তিলে। কিন্তু কিভাবে, সেটাই দেখাবো।



সবার আগে জানা দরকার কোন জলাশয় বা জলাধারকে নদী বলব?

দুনিয়ার বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×