somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"লং ট্যুর" একটা স্বপ্নের নাম-৩ !!

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"লং ট্যুর" এর চতুর্থ ধাপ !! বান্দরবান থেকে সোজা কক্সবাজার, কক্সবাজার রাত্রি যাপন করে ভোরেই টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা, কারন নির্দিষ্ট সময়ের (সকাল ৯.৩০) মধ্যে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ ছেড়ে যায়,এই সময় না হলে যাওয়া যাবেনা, আবার পরেরদিন যেতে হবে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই টেকনাফ পৌঁছে গেলাম, জাহাজের টিকেট আগেই কাটা ছিলো। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগে জাহাজে উঠা যাবেনা, নাস্তা করে সবাই অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে অপেক্ষা ফুরিয়ে ৯.৩০ টা বাজলো, আমরাও সবাই একে একে জাহাজে উঠে গেলাম। যে যার মতো সিটে বসলাম।

কিন্তু সিটে কি আর মন বসে? একে একে সবাই জাহাজের উপরে ডেকে চলে গেলাম, আবার কেউ কেউ সিটেও বসে ছিলো, কেউ কেউ ঘুমাইছে আবার কেউ কেউ ফোনে গ্যাঁজাইছে !! সত্যিই অসাধারণ লাগছিলো যখন জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে থেকে মায়ানমারের সীমান্ত দেখা যাচ্ছিলো, নাফ নদীতে ছোট ছোট নৌকায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, সাদা বকের উড়োউড়ি, ট্রলারে করে মাছ ধরার দৃশ্য, সবকিছুই ছিলো উপভোগের মতো। আর এমন জার্নি যদি লাইফে প্রথমবারের মতো হয় তাহলেতো আনন্দের সীমানা থাকার কথাই না, যেমনটা আমার হয়েছিলো।

আড়াই ঘন্টা পরেই আমরা সেন্টমার্টিন পৌঁছে গেলাম, তারপরে আগ থেকেই বুক করা হোটেলে চেক ইন করালাম। তারপরেই আমরা সোজা চলে গেলাম দ্বীপের মাঝে, আমাদে খুব সুবিধা হয়েছিলো, কারন আমাদের রিসোর্টটা ছিলো দ্বীপের পাশ ঘেষেই। শুরু করলাম সেন্টমার্টিন এর নীল জলরাশির ঢেউয়ের সাথে মাতলামি। পানিতে নামতে গিয়ে অবশ্যই আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, নয়তো ভয়ঙ্কর ধারালো কোরাল(প্রবাল) এর একটু স্পর্শে আপনার পা কেটে যেতে পারে, একটু জোরে আঘাত লাগলে কাটা যাবেই যাবে। কিছুক্ষন জলকেলি খেলে আমরা সব বন্ধুরা চলে এলাম উপরে। এবার হবে ফুটবল খেলা। রোল নাম্বার জোড় আর বিজোড় ভাগ করে দুই টিম করা হলো। প্রায় আধা ঘন্টার ম্যাচে জোড় দল বিজোড় দলকে ১ গোলে পরাজিত করে।

কিন্তু এই জয়ে জোড় দলের কোন মাহাত্ম্য নেই, কারন জোড় দলে স্যার খেলছিলো তাই আমরা বিজোড় দল ইচ্ছে করে গোল দেইনি, অবশ্য জোড় দলের সবার মধ্যে স্যারই ভালো খেলছিলো, স্যারের শর্ট, পাসিং, বল রিসিভ, ড্রিবলিং সবকিছুই ছিলো দূর্দান্ত। আমরা গোল না দেওয়ার আরেকটা কারন ও ছিলো কারন শর্ত ছিলো যারা গোল খাবে তারা টি শার্ট খুলে ফেলতে হবে, তাই স্যারকে লজ্জা থেকে বাঁচাতে গিয়ে পুরো জোড় দলটাই বেঁচে গেলো। আর তারাই কিনা পরে বাহাদুরি দেখায় আমাদের সাথে...

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে সবাই রিসোর্টে ফিরে গেলাম, লান্স শেষ করলাম যে যার মতো গ্রুপ করে। বিকালে যে যার মতো গ্রুপ করে বা অনেকে মিলে প্লান করে বের হলো, একদল ছেঁড়া দ্বীপ গেলো সাইকেল যোগে, কেউ কেউ সেন্টমার্টিনের একপ্রান্ত থেকে শুরু করে অপর প্রান্ত ঘুরে বেড়ালো। এই দুয়ের মাঝে দুটোই ছিলো খুব মজার, বিকালের সূর্য ডুবে সন্ধ্যা নামতে লাগলো, আর ঠিক সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে চন্দ্রে আকর্ষনে জোয়ার আসতে লাগলো। স্কুলে থাকতে পড়েছিলাম, সূর্যের টানে ভাটা পড়ে, আর চন্দ্রের টানে জোয়ার আসে। যার বাস্তব প্রমান সেন্টমার্টিন গিয়ে পেলাম।

সন্ধার পরে রাত্রির দৃশ্য আরো মুগ্ধকর, আরো রোমান্টিক। নিরিবিলি রিসোর্টের পাশে দোলনায় শুয়ে সমুদ্রের গর্জন, যুবতী নারীর কোমরের মতো সমুদ্রের ঢেউ, সাথে হালকা মিউজিকের শব্দ নয়তো পাগুলে বন্ধু গুলার ঢোল আর বিভিন্ন গানের শব্দ। আহ এ যেনো মুগ্ধতায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া....

রাত বাড়তে লাগলো, আর রাতেই আমাদের মাছের বার্বিকিউ'র পার্টি ছিলো, শরীর অসুস্থতার কারনে আমি দশটায় ঘুমিয়ে গেলাম।সম্ভবত রাত দুইটায় বার্বিকিউ পার্টির জন্য ডাক পেলাম, কিন্তু উঠে যাওয়ার সাধ্য আমার ছিলোনা। আমি সেই একই ঘুমে সকাল আট টায় জেগে উটলাম। ফ্রেশ হয়ে নাস্তা শেষে দিনের শুরুটা নারিকেল জিঞ্জিরার কচি ডাব দিয়েই শুরু করলাম !! দিনের আলো বাড়তেই আবার শুরু আমাদের মাস্তি, সেন্টমার্টিন আসলাম, বীচের পাড়ে, বালুর উপর সাইকেল না চালালে যে চলেইনা, সাইকেল ভাড়া নিয়ে সাইকেল চালানো, সেতো শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর কয়েকজন মিলে একসাথে চালালে সেই মজাতো লিখে কিংবা বলে প্রকাশ করা যাবেনা।

গেলাম স্যার হুমায়ুন আহমেদের "সমুদ্র বিলাস" নামক রিসোর্টে দেখতে, কিন্তু শুধু বাহির থেকে দেখেই খুশি থাকতে হয়েছে, ভিতরে ডুকার অনুমতি নেই, অনেক কাকুতি মিনতি করেও অনুমতি পাওয়া গেলোনা। ফিরে এসে সবাই চলে এলাম রিসোর্টে। সময় যে অনেক হলো এবার ফেরার পালা, ব্যাগ গুছিয়ে যে যার মতো লান্স করে এলাম। কারন তিনটায় জাহাজ টেকনাফের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। আমরাও আড়াই টায় রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে পড়লাম। দিনভরা মাস্তি, উচ্ছ্বাস, আনন্দ, রাতভরা বিভিন্ন লিজেন্ডের লিজেন্ডারি বানী, বিভিন্ন মজার মজার গল্প, দেখে আসা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, নীল জলের ঢেউয়ের স্পর্শ, সবকিছু অসাধারণ হলেও অপ্রাপ্তি কিংবা আপসোস একটা জাগায় এসে একটা সময় থেকেই যায়, বেড়েই যায় !!
#সেন্টমার্টিন
#LongTour2K18
#Dept_of_CSE_DUET

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একদিন ভালো লাগার দিন.....

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১৭



সময়ের অনেক আগেই পৌঁছে গেছি। রোববার বলেই সম্ভবত রাস্তাটা ফাঁকা। সকাল সাড়ে ন’টায় জামাত শুরু হবার কথা। লোক আসতে শুরু করেছে। মেয়েকে বললুম, মসযিদের কোথায় তোরা নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু ব্যাবসা - মানুষের মৃত্যুও একটি ব্যাবসা কর্ম হতে পারে !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:২৪



আমি লেখক বা সাহিত্যিক নই, কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক সাহেব ও নই যে, দোকান - রেষ্টুরেন্ট - পার্লার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মডেল মেয়ে - মহিলা নিয়ে লাল ফিতা কেটে কেক খাবো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগলী’র মা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯

তাঁরও একটা নাম ছিল,
সে নামেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল,
যদিও তখন কোন জন্ম সনদপত্র রাখা হতো না।
তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যান নি, তাই তাঁর কাছে
কোন বিদ্যালয়ের একটাও সনদপত্র ছিল না।
তবুও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গোলমাল’ না হলে ফুটবল খেলা কঠিন হত। =p~ =p~

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৪


রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর – ৬



লিখাটা যখন ‘রঙ্গ ভরা অঙ্গনে মোর’ সিরিজে লিখছি তাই শুরতেই ফুটবল নিয়ে একটা কৌতুক-
প্রেমিকার বাড়িতে বসে নতুন কেনা থ্রিডি টিভিতে ফুটবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিবর্ণ জীবন

লিখেছেন মুক্তা নীল, ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:০৮



কেস স্টাডি ১ : কণা ও আবিরের সাত বছরের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে দুই পরিবারের বিয়ের সম্মতিতে।আবির চাকরি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আর কনা বেসরকারি ব্যাংকে। বিয়ের চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×