
যদি আপনাকে প্রশ্ন করি যে, বাংলাদেশের সেরা চাপাবাজ কে ?
তাহলে আপনি নিচ্ছই বলবেন আপনার কোন বন্ধুর কথা কিংবা পরিচিত কারো নাম।
কিন্তু আমি আপনার এই উত্তরের সাথে একমত নই কেননা বাংলাদেশের সেরা চাপাবাজ বলতে যদি কেউ থেকে থাকেন তবে তারা রাজনীতিবিদগণই হবেন। সবার কথা বলছিনা তবে এরা সংখ্যায় একের অধিক।
কী আশচর্য হচ্ছেন? আচ্ছা পরিষ্কার করেই বলছি শুনুন তাহলে-
সামনেই বাংলাদেশের নির্বাচন। প্রত্যেক রাজনীতিবিদগণই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তাহার ভালো কীর্তি দেখানোর জন্য। টিভিতে যেমন একটা ছক্কা মারলে কয়েকবার রিপ্লাই দেখায় ঠিক তেমনি রাজনৈতিক ব্যক্তিগণও তাদের একটি ভাল কর্ম বারবার রিপ্লাই দেখায়। অবশ্য এর টিভির খেলা সাথে এখানকার পার্থক্য একটা আছে সেটা হলো টিভিতে ছক্কা মারলে যেমন রিপ্লাই দেখায় ঠিক তেমনি উইকেট পড়লেও বারবার দেখায় কিন্তু রাজনীতিবিদগণ এখানে শুধু ছক্কাটাই দেখান আর উইকেট পতনের খবর গুজবে উড়িয়ে দেন।
গত পাঁচ বছর এলাকা থেকে অলিখিত ভাবে নিখুজ ব্যক্তিগণ আবার ফিরে এসেছেন নতুন সাজে। চিনতাম না এলাকার অনেক আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাদের কিন্তু এখন দেখি অনেকেই রোজ সন্ধ্যায় বসে চায়ের দোকানে। আলোচনা আর পক্ষ-বিপক্ষের সমালোচনা হয়।
প্রত্যেক দলের নেতাকর্মীরাই প্রমাণ করে যাচ্ছেন হ্যাঁ আমরাই সেরা।
নির্বাচন সামনে রেখে প্রত্যেক দলই তার বিপক্ষ দলের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত।
সত্যের চেয়ে মিথ্যাচারের জনপ্রিয়তাই বেশি।
এই সত্যের বিপরীত রোগে আক্রান্ত হলে তাকে কোনো ঔষধ দিয়ে সারানো যায় না। এটা অনেক বড় একটা রোগ বা ক্ষমতায় বসার লোভ।
রাজনীতিতে চলছে সব সময়ই মাস্টার প্লান নিজের দলের জন্য শোডাউন করা। নির্বাচনের সময় মানুষের মাঝে সব সময়ই একটা থমথম অবস্থা বিরাজ করে।
নির্বাচনের সময় রাজনীতিবিদরা আমাদের বলেন কালই এলাকার উন্নয়ন হবে আজ ভোট দিন। কিন্তু এই আশা ভরসা কিসের প্রয়োজন?
তাদের আগের রেকর্ড যদি ভালো হতো তাহলে আমাদের ধারে আসতে হতো না।
চাইতে হতো না ভোট, আমরাই তাদের স্বইচ্ছায় ভোট দিতাম।
অবশ্য প্রবীণদের মুখে আগে একটা কথা শুনতাম প্রায়ই কথাটা ছিলো কিছুটা এইরকম ' আরে কিসের নির্বাচন? গিয়ে দেখ আমার নামে ভোট হয়ে গেছে '। কথাটা কী একটা স্বাধীন দেশের জন্য মানায়?
ভোটের আগে শুনি কেউ গরিবদের জন্য এটা করবে সেটা করবে কিন্তু ভোটে জেতার পর কেউ আর গরীবদের দিকে তাকায় না কেননা তারা এখন উঁচু পাহাড়ের মানুষ নিচে তাকানোর সময় কোথায়? ঢাকার শহরেই এমন অনেক স্থান আছে যেখানে এক দুপুর টানা বৃষ্টি হলে হয়ে যায় পুকুর। বাসের কন্ট্যাক্টারের মুখে শোনা যায়, ' ওস্তাদ সামনে পুকুর!.
.
',কী হাস্যকর?
.
হাস্যকর হলেও সত্যি! নেই কোনো উদ্যোগ রাস্তা ঠিক করার।
মাঝে মাঝে শোনা যায় টেন্ডার বরাদ্দ হয়েছে কাজও হয়েছে কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে যেই লাউ সেই কদু, রাস্তায় পানি উঠে সাগরে পরিনত হয় ।
টাকাগুলো যায় কোথায়???
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের কিছু লোক আছেন যারা আমাদের বলেন সবকিছুর দাম কম হবে সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে অনেক দামী জিনিস, রাস্তার পাশে থাকবে না কোনো ময়লা হবে না, দেখবেন পরিস্কার বাংলাদেশ।
কিন্তু তা কী আর হয়?? কোনো দলের নাম বলবো না কারণ নাম বললে চাকরি থাকবে না ।
তারা প্রত্যেকবার আমাদেরকে তাদের চাপাবাজির বশে এনে নিয়ে নিচ্ছে তাদের ভোট কিন্তু ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের দেওয়া সেই মূল্যবান ওয়াদার বেশির ভাগই বাস্তবতায় রূপ নেয় না। থেকে যায় স্বপ্নের সোনার বাংলা নামের সেই স্বপ্নেই।
চায়ের দোকানে দেখা যায় সংবাদ চ্যানেলের বদলে ক্রিকেট খেলা অথবা মারামারি খেলা চলছে।
থাকে না কোন নেতা কিংবা কোন সভাপতি।
খোঁজ নেওয়ার মতো থাকে না কেউই যেখানে নির্বাচনের সময় তারাই খোঁজ নিতো। আর কতদিন এইরকম চলবে??? বদলাতে হবে আমাদের তাহলেই তো বদলাবে দেশ৷
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



