‘শুক্রবার থেকে জঙ্গি দমনে সাঁড়াশি অভিযান’। গতকাল সারাদিন প্রায় সব গণমাধ্যমেই ঘুরেফিরে এই সংবাদ। ‘জঙ্গি দমন’, ‘সাঁড়াশি অভিযান’ বিষয়গুলো দিনের আলোর মত পরিষ্কার হলেও ‘শুক্রবার’ বিষয়টায় আটকে গেলাম। রোজা-রমজানের দিনে পেট এক্কেবারে ফাঁকা, আর খালি পেটে আমার মস্তিষ্কও কাজ করে না, তাই অপেক্ষা করতে হলো ইফতার পর্যন্ত।
ইফতারের পর ফোন দিলাম এক বড়ভাইকে। জ্যেতিষবিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী সেই ভাইকে শুক্রবারের মাজেজার কথা জিজ্ঞেস করতেই উনি খ্যাঁক খ্যাঁক করে উঠলেন।
: তোদের মাথায় কি কিছুই খেলে না?
: এত দিন থাকতে শুক্রবার কেন? আর দিনক্ষণের বিষয়টাও ঠিক...
: আরে ছাগল। রাষ্ট্রের কর্তা-ব্যক্তিরা তো তোর আর আমার মত যখন তখন যা খুশি তাই করতে পারেন না। তাদের সাজিয়ে গুছিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কাজে নামতে হয়। আর জনগণকে সব তথ্য জানানোর স্বচ্ছতার একটা বিষয় তো আছেই। আর শুক্রবার বিষয়টা তো দিনের আলোর মত পরিষ্কার।
: সেটাই তো জানতে চাইছি।
: আমাদের জাতীয় কবি কে?
: কাজী নজরুল ইসলাম।
: উনার একটি কবিতা আছে না? ‘আসিতেছে শুভ দিন /দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা/ শুধিতে হইবে ঋণ।’
: হ্যাঁ, কিন্তু জঙ্গি দমনের সাথে কবিতার কি সম্পর্ক?
: আরে, জাতীয় কবির কবিতায় অণুপ্রাণিত হয়েই তো উনারা জঙ্গিদের সাথে দেনা-পাওনার হিসেব মেটাতে শুভদিন হিসেবে শুক্রবার বেছে নিয়েছেন। শুক্রবার যে শুভদিন সে বিষয়ে তোর কোন সন্দেহ?
বড় ভাইয়ের যুক্তিতে আমি লা-জওয়াব। তবু বললাম : সরকার অবশ্য একটা কাজ করতে পারতো?
: কী কাজ?
: পত্রিকায় একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জঙ্গি দমনের স্থান, কাল, পাত্র সব ঘোষণা দিয়ে দিতে পারতো। তাহলে তাদের কাজের স্বচ্ছতা আরো বেশি প্রমাণ হোত।
বড় ভাই ভিলেনের মত হাসি দিয়ে বললেন, বিষয়টি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবেচনার জন্যই ছেড়ে দে।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



