somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধ মেজর জলিল ছিলেন ভারত ও শেখ মুজিবের ২য় শিকার

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ রাত ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




মোহাম্মদ আবদুল জলিল (জন্ম: ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২ - মৃত্যু: ১৯ নভেম্বর, ১৯৮৯) যিনি মেজর জলিল নামেই বেশি পরিচিত, বাংলাদেশের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তা৷ তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯নং সেক্টরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও এই মুক্তিযোদ্ধাকে তার প্রাপ্ত সম্মান দেয়নি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরবর্তী কোন সরকার। তিনিই একমাত্র সেক্টর কমান্ডার যিনি দেশ স্বাধীন করেও তার প্রাপ্য সম্মান পাননি। তবে এ নিয়ে তার আফসোস বা আক্ষেপ ছিলো না। দুনীতিবাজদের দেওয়া সম্মান তিনি লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন মেজর জলিলকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি? কারণ তার রাজনৈতিক আদর্শ ছিল, শেখ মুজিবের নতজানু আদর্শের চেয়ে ভিন্ন। শেখ মুজির যুদ্ধ না করেও একাই সব কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন। পক্ষান্তরে মেজর জলিল সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেও সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন একমাত্র ভারতের বিরোধিতা করার কারণে ৷স্রোতের বিপরীত একা চলা এক অকুতোভয় সেনার নাম হচ্ছে, মেজর আবদুল জলিল৷

তার প্রথম অপরাধ ছিল, তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, "জেনারেল ওসমানী থাকতে কেন পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের জেনারেলের কাছে আত্মসমর্পণ করলো? সেই সময় জেনারেল ওসমানী কোথায় ছিলেন?" শেষের প্রশ্নটিতে ভারত বিব্রতবোধ করতো কারণ, সেই সময় ধারণা করা হয়, "জেনারেল ওসমানীকে ভারতে নজর বন্ধি করে রাখা হয়েছিলো।"

তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিয়েও শুধুমাত্র গাদাবন্দুক চালাবের প্রশিক্ষন দিয়ে কি করে এতো বড় একটি জয়ের কৃতিত্ব ছিনিয়ে গেলো? জলিলের এই প্রশ্ম হুজুগে প্রধানমন্ত্রী হওয়া শেখ মুজিব আর তার চাটুকারদের ভালো লাগেনি।

এছাড়াও মেজর জলিলের, আরো একটি অপরাধ ছিলো,স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানিরা চলে যাবার পর ভারতের সৈন্যরা যখন এ দেশে লুটপাট চালাচ্ছিল, মেজর জলিল তখন তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, দেখা মাত্র ভারতীয় সৈন্যদের গুলি করার হুকুম দিয়েছিলেন। শুধু তা না, সে কথা ভারতীয় কমান্ডারের কাছে ফোন করে জানিয়েও দিয়েছিলেন। বাথরুমের কমট থেকে আয়না সব খুলে নিয়ে গিয়েছিলো ভারতীয় বাহিনী।

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, মিল ফ্যাক্টরির মেশিনাদি যন্ত্রাংশ পর্যন্ত লুটপাট করে ভারতীয় সেনারা। পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও খাদ্যশস্য, পাট, সুতা, যানবাহন, এমনকি সমুদ্রগামী জাহাজ, কারখানার মেশিনপত্র, যন্ত্রাংশ পর্যন্ত লুট করে। এই লুটের সম্পদের পরিমাণ ছিলো সবমিলিয়ে সেইসময়ের হিসাবে ২.২ বিলিয়ন ডলার।

এই যেমন হাসিনার পালানোর পর গণভবনের দৃশ্য আমরা দেখেছি অনেকটা সেরকম। এ দুটি অপরাধ খুনি শেখ মুজিবের ভালো লাগেনি। কত্ত বড় সাহস মনিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে? জলিল যদি সেনা অফিসার না হতেন তাহলে তাকেও সিরাজ সিকাদারের মতো হত্যা করা হতো।

সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে তার প্রাপ্য সম্মান দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যদিও তিনি শেখ মুজিবের মতো ক্ষমতালোভী এক ভারতীয় দালালের কাছ থেকে সম্মান নেওয়ার চেয়ে সম্মান না পাওয়াটাকেও বেশি সম্মানের মনে করতেন। এখন সময় এসেছে এই বীরকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার৷তাই এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মরোণোত্তর সম্মান দেওয়া হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সকাল ৯:৫৪
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=যতই মোহ জমাই দেহ বাড়ী একদিন ঝরবোই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৯



আমিও ঝরা পাতা হবো, হবো ঝরা ফুল,
রেখে যাবো কিছু শুদ্ধতা আর কিছু ভুল,
কেউ মনে রাখবে, ভুলবে কেউ,
আমি ঝরবো ধুলায়, বিলীন হবো,
ভাবলে বুকে ব্যথার ঢেউ।

সভ্যতার পর সভ্যতা এলো,
সব হলো এলোমেলো;
কে থাকতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×