somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ জলিল
জন্ম-মৃত্যু ও ভালোবাসার পাশাপাশি

উপন্যাসের(?) খসড়া-১

০৮ ই মে, ২০০৭ রাত ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প-উপন্যাসের(?) খসড়া-১/ শেখ জলিল

নিজেকে নায়ক ভাবতে কার না ভালো লাগে? কম-বেশি সবার মনেই থাকে আমার আমিত্বকে বড় করে দেখানোর বাসনা। ছোটবেলায় মা-বাবার কোলে শুয়ে রূপকথার গল্প শুনেছি অনেক। শুনতে শুনতে হয়ে গেছি দাতা হাতেম তাই বা ডালিম কুমার। বড় হয়ে বই পড়া শিখে গল্প বা উপন্যাস পড়তে গিয়েও একই অবস্থা। আরও একটু বড় হয়ে সিনেমা দেখে সকল সিনেমার নায়ক ভাবতাম নিজেকে। নাটক-সিনেমা দেখে নিজেকে নায়ক এখনও ভাবি, তবে একটু পরিমিতবোধে, ভাবনার অগোচরে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি- যার গল্প শোনাবো আপনাদের, সে কাহিনীর নায়ক হবো আমি নিজেই। মানে, আমার লেখা এ গল্প জগতের একচ্ছত্র নায়ক আমি। বাদ বাকি সবাই হবে পার্শ্বচরিত্র।

গল্পের নায়ক মানে এই আমি একটু বাউন্ডুলে স্বভাবের। পড়ালেখায় খুব একটা মনোযোগ নেই। বয়স হবে ১৮ কিংবা ২০। মা-বাবা অনেক আশা নিয়ে দূরের শহরে উচ্চশিক্ষায় পাঠিয়েছে আমাকে। কিন্তু পড়াশোনায় আকর্ষণ নেই আমার। মনে আমার কবি কবি ভাব, সাংস্কৃতিক জগতের তুখোড় কর্মী হয়ে ওঠার বাসনা। ফলাফল উচ্চশিক্ষার ফাইনাল পরীক্ষায় নির্ঘাত ফেল, জীবন থেকে ঝরে যায় বেশ ক'টি অমূল্য বছর। এ ঝরে যাওয়া অমূল্য শিক্ষাজীবনের একরত্তি মূল্যও নেই আমার কাছে। কারণ আমি তখন নামকরা কবি, সংস্কৃতিসেবী, শহরের প্রিয়মুখ।

প্রেম না করলেও আমার এ কবি মনের মানসপটে একজন নায়িকা ঠিকই আছে। যেমন প্রিয়কবি জীবনানন্দ দাশের ছিলো, আমারও আছে। প্রিয়কবির ভাষায় আমার নায়িকার চোখ হবে পাখির নীড়ের মতো, টানা টানা, গভীর সমুদ্রের আহ্বান থাকবে তাতে। মনে মনে বহু বছর ধরে এরকম একজনকে পাবার আশা পুষে রেখেছি বুকে। ব্যস্ত শহরে মানুষের ভীড়ে, সাংস্কৃতিক মিছিলে, অনুষ্ঠানের ফাঁকে সেরকম চোখ খুঁজি। কখনও কবিতা পড়ার ফাঁকে, কখনও অনুষ্ঠান উপস্থাপনার অবসরে দর্শকদের মাঝে তন্ন তন্ন করে খুঁজি সে স্বপ্নের নায়িকাকে। আর অপেক্ষায় থাকি আমার সেই মধুক্ষণের, মহামলিনের।

তার সাথে প্রথম দেখার দিনক্ষণ মনে আছে এখনও। ১৯৮৫ সালের একুশের রাতে, প্রভাত ফেরীতে। তার বড় ভাই ছিলেন সাংস্কুতিক জগতের বন্ধু। বন্ধু মানে কবিতায় আমার সিনিয়র সহযাত্রী। আমার বন্ধুর ভাগ্নীর বর ছিলেন তার খুব কাছের বন্ধু। সেজন্য আমি তাকে মামু ডাকতাম। উনিও আমাকে মামু ডাকতেন একইভাবে। মনে পড়ে সেই মামু বন্ধু তার ছোট দু'বোনকে নিয়ে প্রভাতফেরীতে এলেন। একটু পড়ে শুরু হবে প্রভাতফেরী। প্রেসকাব থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আমার বন্ধুর ছোট দু'বোন সারাহ ও ফারাহ রিক্সায় বসে। মাইক রেডি, মিছিল রেডি। সমবেত মিছিল এবং দু'বোনের কণ্ঠে বেজে উঠলো- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?

সমবেত মিছিলের সাথে আমিও গাই। সারাহ, ফারাহ দু'বোনের কণ্ঠ ভেসে আসে কানে। ওদের কণ্ঠসৃত সুর মর্ম ভেদ করে হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে আমার। আমি আড়চোখে ওদের দেখার চেষ্টা করি। ওরা রিক্সায় বসে হারমোনিয়াম কোলে রেখে গান গায়। আর আমি তাদের পাশে পাশে থাকার চেষ্টায় মিছিল ঠেলে সামনে আগাই। সারাহ-ফারাহ দু'জনারই চোখ সুন্দর, টানা টানা। যাকে বলে ডাগর কালো হরিণী নয়ন। তবে বয়সে ছোট ফারাহকে আমার বেশি ভালো লাগে। আমার প্রিয় কবির কবিতার উপমায় পাখির নীড়ের তুলনা খুঁজে পাই তার চোখে। আমি আমার ঈপ্সিত কিছু একটা খোঁজার চেষ্টায় থাকি সে চোখে। মিছিল এগিয়ে যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে।

শহীদ মিনারের বেদীমূলে সবাই ফুল দেয়। আমিও দেই, ফারাহও দেয়। তবে আমার এ ফুলদানের একমাত্র উপলক্ষ্য আজ ফারাহ। যার চোখে আমি সাগরের গভীরতা দেখি। সবার অলক্ষ্যে ওর দিকে তাই বারবার তাকাই। মিছিল শেষে সবার সাথে আলাপ পরিচয় হয়। সারাহ ফারাহর চেয়ে দু'বছরের বড়। সারাহ পড়ে ক্লাস নাইনে আর ফারাহ ক্লাস সেভেনে। ওদের বড় ভাই আমাকে নামকরা কবি বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। শুনে ফারাহ ফিক করে হাসে। আমার একটু লজ্জা লাগে, আবার খুব ভালোও লাগে। বুকের মাঝে হদয়টাতে একটু ধাক্কা অনুভব করি ফারাহর জন্য। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই সারাহ-ফারাহদের বাড়িতে যাবো। যে করেই হোক ওদের সাথে ঘনিষ্ঠ হতেই হবে আমাকে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৭ রাত ১২:১৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×