অগ্নিঝরা এই মার্চের শুরুটা আমাদের ভাল হইল না। এমন পরিস্থিতিতে আমার মনে কিছু প্রশ্ন উদ্রেক হইল কিন্তু জানি না কেউ উত্তর দিবে কিনা-
১। আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ চাই নাকি ধর্মহীন বাংলাদেশ চাই?
২। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি ধর্মনিরপেক্ষতা নাকি ধর্মহীনতা ছিল? বর্তমান বুদ্ধিজীবীগণ যদিও শুধু Secularism কথাটুকুন ই বলতে অভ্যস্ত কিন্তু এর আকারে ইঙ্গিতে যে ব্যাখ্যা দেন তা আসলে ধর্মহীনতা বা Impiety ই বুঝায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন “ধর্ম নিরপেক্ষতা মানেই ধর্মহীনতা নয়”। তাহলে এই চেতনাজীবীরা কি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আসল উদ্যেশ্যকে বিকৃত করে শিখাচ্ছে না? যদি শিখায় তাহলে তাদের উদ্যেশ্য কি?
৩। বাংলাদেশ যদি একটি উদার ইসলামিক রাষ্ট্র হয়ে থাকে তাহলে সেই দেশে কিভাবে মুক্তমনা ব্লগের মত নামকরা কয়েকটি নাস্তিকতাবাদি ব্লগকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার মাপদন্ড হিসেবে দেখা হয়? যেখানে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান সহ সকল ধর্মের লোকজন যে ব্যক্তিকে সর্বকালের সর্বসেরা মহামানব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নামে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়? মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিশ্বাস হইল তার ধর্মীয় বিশ্বাস কিন্তু এই সকল ব্লগাররা সকল ধর্মের মানুষের মনেই যে আঘাত করছেন এ ব্যাপারে কি তাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা যায় না? যেই দেশে একজন মন্ত্রী বা আমলার নামে কটু কথা বলার অপরাধে জেল জরিমানা হয় সেই দেশে মহামানবদের নিয়ে কটূক্তি বা মন্দির ভেঙ্গে শুধু এই দল সেই দলকে সেই দল এই দলকে অভিযুক্ত করতে করতেই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, এটা কি আমাদের জন্য খুবই অপমানজনক নয়?
৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত যায়গাতে একজনকে মৃতপ্রায় করে রেখে খুনি নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়া বা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অথবা পেট্রোল বোমাতে নিরপরাধ মানুষ মারা যাওয়া কি আমাদের জাতীয় দৈন্যদশা তুলে ধরেনা? গণপিটুনিতে নিহত তিন জনের শরীরে ৪৫/৫৪ টি বুলেট কি আমাদের হিংস্রিতার বহিঃপ্রকাশ নয়? উদর পিণ্ডী বুদর ঘাড়ে চাপিয়ে কি আমরা একপ্রকার খুনের অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করছি না?
এবার একটি সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের বা দেশের ইতিহাসের জ্ঞানের পরিধি জেনে আসি-
শেরেবাংলা কিন্ডারগার্টেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এক শিক্ষার্থী কে এক প্রতিবেদকের প্রশ্নঃ আচ্ছা আপু আমাদের ১৬ ই ডিসেম্বর কে কিবলে?
ছাত্রীঃ ২৬ শে মার্চকেই ১৬ই ডিসেম্বর বলে।
প্রতিবেদকঃ আচ্ছা আপু তুমি কি বলতে পার আমাদের স্বাধীনতা এবং বিজয় দিবস কবে?
ছাত্রীঃ ১৬ ডিসেম্বর এবং ২৬ মার্চ !
প্রতিবেদকঃ আচ্ছা আপু তুমি কি বলতে পার ১৯৫২ সালে কি হয়েছিল?
ছাত্রিঃ ১৯৫২ সালে আমাদের মা বাবা ভাই বোনকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল।
আরও দু এক শিক্ষার্থী এমন উত্তর দেওয়ার পরে হতাশ প্রতিবেদক প্রধান শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার সাহেবকে প্রশ্ন করলেনঃ স্যার আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নাম?
প্রধান শিক্ষকঃ অম, এম , ... মুখস্থ নাই তো দেখে বলতে হবে !!!
এই হইল আমাদের চেতনাজিবিদের চেতনা চেতনা চিৎকারের ফসল। আমাদের সময় তো এমন চিৎকার কারি কেউ ছিল না তাও তো আমরা এই ব্যাপার গুলো অন্তরের অন্তঃস্থল হতে উপলব্ধি করেছি এবং আজও ধারন করতেছি। তাহলে আমরা কি একটি ইতিহাস অজ্ঞ জাতী তৈরির চেষ্টাতে আছি যে জাতীর লোকেরা বাহাদুর শাহ, তিতুমির, হাজি শরিয়ত উল্লাহ, রাজা রাম মহন রায়, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, হোসেন শহীদ সহ্রেওয়ারদি, মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানিদের নাম তো জানবেই না উপরুন্ত মুক্তিযুদ্ধকেও ভুলে যাবে।
আমি লজ্জিত, স্তম্ভিত, সঙ্কিত সরবপরি বেদনাহত এই ভেবে যে তিল তিল করে চেতনার নাম করে আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
আপনি কি জানেন এই প্রশ্ন গুলর উত্তর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



