somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শিবলী নোমান
আমি অপেক্ষা করি ...

দারিদ্র্য আর শান্তি নিয়ে বাতচিত

০৬ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিং ভয়াবহ একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমি যেখানে যে বিষয় নিয়েই কাজ করতে যাচ্ছি, কেবলই ঘুরে ফিরে আমার স্টোরির সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষগুলো আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, টাকা-পয়সার অভাবই যতোসব সমস্যার তৈরি করছে। আমি মাঝে মধ্যেই বিভ্রান- হচ্ছি। টাকা-পয়সার অভাবের হিসাব বের করার চেষ্টা করছি।
সেদিন এক স্টোরির পেছনে ছুটলাম, এক সাবেক সরকারি আমলা, যিনি কি না অবসর জীবনে যাবার আগেই রাজশাহী শহরে শানদার বাড়িসহ নানা স'াপনার মালিক হয়ে বসেছেন, তিনি একখণ্ড খাস জমি দখল করেছেন। কারণ? তিনি সেখানে গরু-ছাগলের খামার গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চান! ভদ্রলোকের এক ঘনিষ্ঠ জন আমাকে হাসতে হাসতে বললেন, উনার টাকা টান পড়েছে তো তাই জমি না কিনে খাস জমির দিকে হাত বাড়িয়েছেন! তাদেরও টাকার টান পড়ে! শ্রীরামপুর বসি-র যে মানুষগুলোকে খাস জমি থেকে আমাদের সরকার বাহাদুর উচ্ছেদ করেছেন, তাদের টাকার এতো বেশি টান পড়েছে যে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও মিলছে না।
কাজেই বিশ্বজুড়ে এবার যখন আলোচিত ইস্যুটি হলো, দারিদ্র্য দূর করার মাধ্যমে শানি- স'াপন করা সম্ভব, তখন ধন্দ আরো বাড়ে। দারিদ্র্য দূর করে কে কবে শানি- স'াপন করতে পেরেছেন, সে আলোচনায় কেউ যাচ্ছেন না। শুধুমাত্র তারা বলছেন, এর মাধ্যমে শানি- সম্ভব? আসলে সেই শানি-টা কোন জাতের শানি-? দারিদ্র্যের সংজ্ঞা আপেক্ষিক। দেশ, কাল, জাতি, সমাজ ভেদে এর রূপ ভিন্ন। উন্নত দেশগুলোর বিত্তহীনদের মাথাপিছু আয় আমাদের দেশের মধ্যবিত্তদের চেয়েও অনেক বেশি।
আসুন না ইতিহাসের কাছে যাই। ইতিহাস কী বলে? মনোলিথিক (উগ্র মতবাদের ধারক) কোনো দেশ বা জাতি সম্পদশালী হয়ে উঠে কি মহান শানি-র দূত হয়ে গেছে? ফ্যাসিবাদ কবলিত জার্মানীতে শ্রেণী বৈষম্য নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং জনগণকে উৎপাদনমুখী করে যে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিটলার গড়ে তুলেছিলেন, তা দিয়ে বিশ্বের অশানি-পীড়িত মানুষের মধ্যে ন্যূনতম শানি- এসেছিলো? নাকি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তথাকথিত সেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি (আসলে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদ) তা কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ডেকে এনেছিলো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তা কোন অঞ্চলের শানি- ছড়ানোর প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হচ্ছে তা আজ অবধি আমার মাথায় ঢোকে না। বিশ্বজুড়ে সামপ্রদায়িক জঙ্গিবাদের যে থাবা তা কি শুধু পশ্চাদপদ, গরীব মানুষের পেট বাঁচানোর তাগিদে? নাকি ইউরোপ অ্যামেরিকায় থাকা ধনাঢ্য শিক্ষিত মানুষ এর পেছনে রয়েছেন? নাইন ইলোভেন কি আমাদের সামনে সেই তথ্য দিয়ে যায়নি?
আমরা তারপরেও দারিদ্র্য নিয়ে কথা বলি। দারিদ্র্য জাদুঘরে পাঠিয়ে আমরা শানি-র স্বপ্ন দেখি। কারা সেই স্বপ্ন দেখায় আমাদের? আশির দশকে একই রকমের শানি-র স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা বলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কতো অর্থ ঋণ দিয়েছে দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোকে সে হিসেব কি আমরা খতিয়ে দেখেছি? ওই সময়েই কতো রাষ্ট্র ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে, তা কি আমরা ভেবে দেখেছি? আমরা কি তলিয়ে দেখেছি, তাদের পরিণতি আজ কী? যে দারিদ্র্য মুক্তির কথা বলে এই ঋণ গ্রহণ তা কি দূর হয়েছে, না জেঁকে বসেছে? কাজেই কেবলমাত্র দারিদ্র্য দূর করার তথাকথিত প্রজেক্ট বাস-বায়নের মাধ্যমে যে শানি- আনা সম্ভব নয়, তা পরীক্ষিত সত্য। এই দারিদ্র্যের স্বরূপ চিহ্নিত করা প্রয়োজন, সংযুক্ত আর্থসামাজিক কাঠামো বিশ্লেষণের প্রয়োজন।
যে রাষ্ট্রে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে সব সম্পদ কুক্ষিগত, যেখানে অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন বা মজুর, সে দেশে দারিদ্র্য দূর করা বলতে আমাদেরকে কী বোঝানো হয়? ভূমিহীন-মজুর কিংবা শ্রমিক শ্রেণী কি একলাফে সম্পদশালী হয়ে যাবে? নাকি তাদেরকে একটি নির্ধারিত রেঞ্জের মধ্যে রেখে দেয়া হবে। যে দেশে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে চালের (প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচ্য) দাম ৪ গুণ বাড়ে, সে দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণের কথিত ফর্মুলা এই সময়ের মধ্যে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কয় গুণ বাড়াতে সমর্থ হয়েছে?
যাহোক, দারিদ্র্য আর শানি- নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম। শেষ পর্যায়ে এসে দু'টো কথা বলি। দারিদ্র্য দূর করলে শানি- আসবে, ঠিক আছে। কিন' আমার কথা হলো, দারিদ্র্য দূর করার টনিকটা কী? ক্ষুদ্র ঋণ? দুর্নীতির পথে কামানো টাকা? শিল্প ধ্বংস করে আমদানি-রফতানি নির্ভর ব্যবসার মুনাফা? নাকি যে পুরো প্রক্রিয়া দুনিয়াসুদ্ধ লোককে দরিদ্রের দরিদ্র, একেবারে তস্য দরিদ্র করে রাখতে বিপুল আগ্রহী সেই প্রক্রিয়াটিকে চিহ্নিত করে খুঁটিসমেত উপড়ানোর তত্ত্ব আবিস্কার করে তা কাজে লাগানো? শানি-র পক্ষে কোনটি কার্যকর, দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই রাস-া?

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×