
অনেক দিন থেকেই ব্যর্থ শিকারী তার অভিযানে, তার কৌশলে, জাল বিস্তারে; কিন্তু বক্তব্য, বিবৃতিতে সে মোটেই ব্যর্থ ছিল না । সুযোগ পেলেই বিশেষ করে বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনে তা আরো বেড়ে যেত । তখন মনে হত আদিম শিকারীদের মতো সে বুঝি এখনি তীর, ধনুক, ফলা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বে শিকারে । যদিও সবাই জানত, ওটা ছিল তার নিজেকে জানান দেওয়ার একটা কৌশল, ফাকা হুংকার ।
অবশেষে বাঘ শিকারীর এই দূরাবস্থা দেখে অনেকটা দয়া পরবশ হয়ে নিজেই একদিন খাঁচায় এসে ধরা দিল মরতে । এ ছাড়া হতে পারে বহু বছর পর বাঘের মধ্যে অপরাধ প্রবনতাও কাজ করছিল, তাই সে পৃথিবীর প্রতি ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে স্বেচ্ছায় ধরা দিল । তারপর শিকারী মওকা বুঝে শুরু করল ঢাক, ঢোল পেটাতে, কারণ সে এবার সফল হয়েছে বাঘ শিকারে । সাথে সাথে সে আরো ঘোষণা দিল, বাকী বাঘগুলোকেও শীঘ্রই ধরে আনার ব্যবস্থা করবে ।
এরপর শুরু হলো কিছু বানরের লাফালাফি, যারা এতিদন সেভাবে নাচার সুযোগ পেয়েছিল না, তারা নাচতে শুরু করল অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য । কারণ এরা জানে, সকলের অগোচরে নেচে কোন কাজ হয় না, কিছু পেতে হলে সবাইকে দেখিয়ে নাচতে হয় । এরমধ্যে কয়েকটা মুরুব্বি গোছের বানর অভিযোগ করল, বাঘকে মাটিচাপা দেওয়ার আগে তার গায়ের চামড়া কেন ছিলে তুলে নেওয়া হলো না ? তাহলে আজ আমরা ডুগডুগি বানিয়ে সবাই বাজাতে পারতাম ।
বেচারা বাঘ মরে গিয়ে এসব কিছুই বুঝতে পারল না; তবে সে অনুভব করল, দূরে কিছু শেয়াল মাটি খুঁড়ে বেশ কিছু চাউলের বস্তা টেনে বের করার চেষ্টা করছে, তার মনে হলো এসব শেয়াল মনে হয় বহুদিন অভুক্ত অবস্থায় ছিল, তাই চাউল নিয়েও তারা টানাটানি করছে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ১০:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




