
এই দুঃসময়ে ভাল থাকতে পারাটা খুব কঠিন, তবু কেউ যখন জানতে চায়,আপনি কেমন আছেন, তখন সৌজন্যতার খাতিরে হলেও বলতে হয়, এই তো বেশ ভাল আছি । আসলেই কি আমি বা আমরা সবাই ভাল আছি ?
আজ দেশে শুধু টেস্ট করা রোগীর মধ্যে ১৮২ জন আক্রান্ত হয়েছে, যা গতকাল ছিল ১৩৯ । গতকালের মত আজও মারা গেছে পাঁচ জন । এ সংখ্যা যদি প্রতিদিনই এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে মানুষ আর কতদিনই বা ঘরের মধ্যে বন্দী থাকবে ? কারণ শুধু বন্ধী জীবনই তো শেষ কথা নয়, এর সাথে আছে বেঁচে থাকার জন্যে খাদ্য সামগ্রী । সরকার হয়ত সাধ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবে, যতটুকু সম্ভব মানুষকে সহায়তা করার । কিন্তু সেই সহায়তার সঠিক বন্টন যদি মানুষের মধ্যে না হয়, তাহলে অসন্তষ বাড়বে এবং একটা পর্যায়ে হয়ত বড় ধরণের বিশৃঙ্খলাও হতে পারে । তাই সরকারী ত্রাণ বন্টনে মাঠ পর্যায়ের ঐ সমস্ত নেতা, পাতিনেতাদের এখনই কঠোর হাতে প্রতিহত করতে হবে ।
আগামীকাল ১লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ । বছরের দুটি ঈদের মত বাংলা নববর্ষও প্রতি বছর বাঙালির জীবনে বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসে । দেশের বেশ কিছু বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে তাদের ব্যবসার পরিকল্পনা মাথায় রাখে এবং সে মোতাবেক পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা করে । কিন্তু এবার তার কিছুই করা হলোনা, হলোনা বলতে হয়ত অনেকেই পণ্য রেডি রেখেছিল বাজারজাত করার জন্যে, কিন্তু কিছুই পারল না । সামনে রোজার ঈদ, মনে হয় না এ ঈদেও কোন ব্যবসা করা যাবে । আর কোরবানীর ঈদের কথা না হয় আপাতত বাদই রাখলাম ।
সবকিছু মিলিয়ে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শুধু দরিদ্র আর নিম্নবিত্ত মানুষ না, সামনে মধ্যবিত্ত, চাকুরীজীবি, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সকলেই বড় ধরণের আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে, হয়ত অনেকেই এর মধ্যে পড়েও গেছে । এখন আল্লাই জানে, সামনে আমাদের কপালে কি আছে, কারণ এই মুহূর্তে মেধা খাটিয়ে কর্ম বা পরিশ্রম করে ভাগ্য ফেরানোর কোন সুযোগ নেই ।
অতএব, আমাদের প্রার্থনা এখন শুধুই সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকা এবং অপেক্ষা করা, যতদিন পর্যন্ত মরণঘাতি করোনাভাইরাস পুরােপুরি নির্মূল না হচ্ছে । কিন্তু তারপরও কি আমাদের শেষ রক্ষা হবে ?
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




