
- এই যে ভাই, একটু সরে দাঁড়াবেন ?
- কেন ?
- আমার হাঁচি আসছে ।
- বাসা থেকে দিয়ে আসতে পারেননি ?
- বাসাতেও দিয়েছি, এখন আবার আসছে ।
- তাহলে নিশ্চয় আপনাকে করোনাভাইরাসে ধরেছে, বাসা থেকে কেন বের হয়েছেন ?
- আপনি যে কারণে বের হয়েছেন, আমিও ঠিক একই কারণে বেরিয়েছি ।
- আরে মিয়া,আমি তো আপনার মত যেখানে সেখানে হাঁচি ডেলিভারি দিয়ে বেড়াচ্ছি না ।
- ভাই, এখনো দিইনি তবে মনে হচ্ছে দিতে হবে ।
এর পর পরই শফিক মিয়া দু'হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে দুটো হাঁচি দিল । সাথে সাথে চারদিক থেকে চার/পাঁচ জন লোক ছুটে আসল । এদের মধ্যে শক্ত-সামর্থ গোছের একজন তার শার্টের কলার ধরে তাকে মারার জন্য প্রস্তুতি নিলে কয়েক জন চিল্লায়ে বলল, আরে ভাই, রাখেন রাখেন । বুঝতে পারছেন না, আপনি তো উনার কলার ধরে একেবারে ফেঁসে গেছেন ! উনার সারা শরীর জুড়ে করোনাভাইরাস থক থক করছে । তাই এভাবে নয়, উনাকে মারতে হবে বড় শুকনা লাঠি দিয়ে দূর থেকে ।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের মধ্যস্থতায় শফিক মিয়া চৌদ্দ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্তে নাকে খত দিয়ে এ যাত্রা রক্ষা পেল ।
কয়েকদিন আগে ভারতে প্রকাশ্যে একজন হাঁচি দেওয়ার কারণে সাধারন মানুষ তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে । বোঝায় যাচ্ছে, আমরা খুব করুণ সময় পার করছি । সামান্য হাঁচিও মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে - এটা ভাবায় যায় না । মহামারি করোনাভাইরাস আমাদেরকে কিছু ক্ষেত্রে মানবিক করে তুললেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিংস্র ও অমানবিক করে তুলেছে । তাই, আমরা ঘরে-বাইরে যেখানেই হাঁচি দিই না কেন,অবশ্যই সতর্কতার সাথে দিতে হবে, কারণ হাঁচির মাধ্যমেই সব চেয়ে বেশি ছড়ায় এ ভাইরাস ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

