
অতপর সাতটা হাসপাতাল ঘুরে আবার ফিরে আসল ঢাকা মেডিকেলে । রোগী তখনো অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর শুয়ে কাতরাচ্ছে । আরেকবার পৃথিবীকে পরিপূর্ণভাবে দেখার খুব ইচ্ছে তার । তাই যথাসাধ্য শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে ।
কোথাও একটিও আইসিইঊ বেড খালি নেই । এক বোতল অক্সিজেন, না সেটাও নেই কিংবা দেওয়া যাবে না । করোনা রোগী । হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখাতেও ভয় । আর চিকিৎসা মানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রশ্নই উঠেনা ।
তবু দ্বিতীয় বারের মত ঢাকা মেডিকেলে ফিরে আসার অর্থ নিজেকে শুধুই শান্তনা দেওয়া । নিষ্ঠুরতার শেষ পেরেকটি বুকের মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে পুঁতে দেওয়ার জন্যে কাউকে সুযোগ করে দেওয়া । হয়ত এটা ওদের অভ্যাস হয়ে গেছে । লেবুর সরবতের মতো, ঢক ঢক করে খেয়ে ফেলা । প্রথমেই তো বলে দিয়েছিলাম, এখানে কোন সুযোগ নেই, আবার কেন এনেছেন ?
ততক্ষণে স্ত্রীর কোলের উপর মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাসটি ত্যাগ করেছে রোগী । বত্রিশ বছরের জীবন, বিনা চিকিৎসায় শেষ ! সে কি কাউকে অভিশাপ দিয়ে গেল ?
না, সে কাউকে অভিশাপ দিয়ে যায়নি বরং অভিমান করে চলে গেল । কোটি টাকা হাতে নিয়ে যে সন্তান তার বাবাকে নিয়ে হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরে কোথাও ভর্তি করা তো দূরের কথা, এক বোতল অক্সিজেনও জোগাড় করতে পারেনি; অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে । আর সে তো অতি দরিদ্র একজন মানুষ । একটু অভিমান করেছে, তাই বলে মৃত্যুতে তার কোন দুঃখ নেই ।
আর দুঃখ করেই বা কি হতো ? তার মত কত মানুষই তো আজ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে এই দেশে, এই সময়ে !
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


