somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

পথের সংগ্রহ

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন আগে জরুরী এবং সুন্দর একটা কাজে গিয়েছিলাম শহরের একদম পশ্চিম প্রান্তে। সকাল সকাল কাজটা শেষ হয়ে গেলো। খানিক সময় কাটালাম প্রিয় মানুষের সাথে। এক সাথে সকালের নাস্তা আর গল্পে কাটল সময় তারপর সে চলে গেলো কাজে আর আমি ফিরছিলাম পূর্ব দিকে। মাঝে শহরের ডাউনটাউন। ডাউনটাউনে ঘুরে বেড়াতে বিশেষ করে আরাম করে ধীরে সুস্থে দেখে শুনে হেঁটে বেড়াতে আমার খুব ভালোলাগে। কেমন এক ব্যস্ততা, জমজমাট, নানা রকম দৃশ্যপটের ছবি। মজার অনেক কিছুই আমার চোখটানে, মন টানে। তাই সময় পেলেই আমি ঘুরি জীবনের বৈচিত্র দেখার টানে। একবার এমনি কাজের ফাঁকে ঘুরতে গিয়ে এক টিভির ইন্টারভিউ এর সুযোগ পেয়ে গেলাম। হঠাৎ একজন কাছে এসে জানতে চাইল, তোমার সাথে খানিক কথা বলতে পারি? কেন? আমরা টিভিতে প্রচার করব, মাল্টি কালচার শহরের জন সাধারনের মতামত। আচ্ছা নিতে চাচ্ছ নাও। রাজী হয়ে গেলাম। সময়টা ছিল কোন উৎসবের সময়। কিছু প্রশ্ন করল। আমি আমার মতন বললাম। প্রচার হলো কিনা খবর জানি না। অনেকদিন পরে অন্য শহরে ঘুরতে গেলাম এক আত্মিয়র বাড়িতে। সেখানে আরেক আত্মিয় বললেন, আমাকে টিভিতে দেখেছেন। আমার কথা শুনে এবং দেখে, উনি খুব এক্সাইটেট হয়েছেন।বেশ মজা পেয়েছিলাম ব্যাপারটায়।
খুব ভালোলাগে ডাউন টাইনের জমজমাট পথে হাটতে। কত মজাদার ভিন্ন কিছুই না দেখা যায়। সেদিন তাই মাঝ পথে থেমে গেলাম, হাতে অবসর সময় থাকায়। ব্যস্ত পথে হাঁটছিলাম অনেক দূর পর্যন্ত। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ চলে এলাম হেঁটে অনেকটা সময় ধরে। থেমে থেমে দেখে দেখে।কেউ গান করছে, কেউ ম্যাজিক দেখাচ্ছে। কেউ মূর্তিমান মাইম সেজে আছে। এদের সাথে আমার অনেক বার দেখা হয়েছে। পরিচিত হয়ে গেছে ওদের মুখ।
অসংখ্য পর্যটক অবাক হয়ে দেখছে। ছবি তুলছে। একটার পর একটা পর্যটনের ছাদ খোলা দোতলা বাস যাচ্ছে তাতে কিছু মানুষ শহর দেখছে পর্যটনের গাড়িতে ঘুরে। অনেকে হাঁটছে। অন্য শহরে যেমন ঘোড়ায় টানা গাড়ি আছে পর্যটকের জন্য এখানে তেমন নেই। তবে রিকশা আছে। আর আছে ব্যাস্ত মানুষের পদচারণা। সময় ফুরিয়ে যাবে বলে হাঁটছে দ্রুত। পথচারী পারাপারের জন্য গাড়ি গুলো রাস্তা পারাপার হতে পারছে না। এই দৃশ্য ঢাকার পথ মনে করিয়ে দেয়। তবে এখানে সিগন্যাল ছাড়া কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই। রাস্তার দুপাশে সুদৃশ্য দালান। চকমকে বিজ্ঞপনের ঝলক।
এখানে যারা রাস্তায় সুরের জাল বিছিয়ে উপার্জন করেন তাদের দেখে মনে হয় শিল্পীরা এমন দরিদ্র কেন। কী অদ্ভুত বাজনার সুর মুর্ছনা পথচারী যেতে যেতে কিছু দিয়ে যায় ভালোবেসে, কেউ থেমে যায় মুগ্ধ হয়ে। আমার কাছে ওদের অনেক বাজনা, ভিডিও করা আছে। প্রতি ঋতুতে ভিন্ন রূপ।
ভিন্নরকম অনেক কিছুর সাথে যে বিষয়টা কাল আতংকিত করল আমাকে। প্রতিটি পথের কোনায় একজন করে ভিক্ষুক বসে আছে। ভয়ংকর মনে হলো এই শহরে। ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়ছে লক্ষ করছিলাম বেশ কয়েক বছর ধরে কিন্তু এমন প্রতিটি পথের মোড়ে একজন দুজন ভিক্ষুক,কেমন যেন সুন্দর বাস্তবতায় নির্মম ছবি, চোখের সামনে দাঁত কেলিয়ে দাঁড়াল যেন।
আগে কখনও দু'চারজন পথের পাশে একটা গ্লাস রেখে বসে থাকত চুপচাপ তারা কখনও মুখ খুলে কিছু চাইত না। আর ছিল পথের মানুষ। যারা পথে থাকতে ভালোবাসে। সমাজ কে অবজ্ঞা করে। তাদের জীবনটাও এক ধরেনের মজার মনে হয় আমার কাছে। প্রচণ্ড শীতে রাস্তার সোয়ারেজের ঢাকনার উপর শুয়ে থাকে। তাপ পায় উষ্ণ বাষ্প থেকে। এখানে সোয়ারেজেও হিটিং চালাতে হয় শীতকালে নয়ত বরফ হয়ে সব পাইপ ফেটে যাবে অথবা বরফে আটকে যাবে চলমান ধারা। প্রচণ্ড শীতে, এমন পথের মানুষদের শেলটার দেয়ার জন্য তুলে নিয়ে আসে কিছু সংস্থা। তবে তারা একটু শরীর গরম হলে বা আবহাওয়া গরম হলে পথে চলে যায় ভালোবেসে। ওরা খোলা আকাশ বেশী পছন্দ করে ।
আগে কখনো দুচারজন ড্রাগ আসক্ত খুচরো চাইত। হঠাৎ করে কাছে এসে। কিন্তু এখন যাদের দেখলাম তারা জীবনের প্রয়োজনে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে পথে বসেছে বোঝা যায়। সমাজে অর্থনৈতিক ভাবে তারা স্থান করতে পারছে না। অনেক রকম সার্পোট থেকে কোন সহযোগীতা পাচ্ছে না। অনেক রকম মানুষ জীবনের প্রয়োজনে রাস্থায় ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিয়েছে মনে হলো। এর বিশ্লেষন করতে গেলে সামাজিক, রাজনৈতিক অনেক পরিবর্তনের বিষয় আলোচনা করতে হয়। প্রায় সব মানুষের একটা সুন্দর জীবন যাপন ছিল যে দেশে, সেখানে অনেকের জীবন এখন দারিদ্র সীমার নীচে। এক ভুতুড়ে কালো হাত যেন গ্রাস করে নিচ্ছে সুখ চারপাশের। অনেকগুলো পরিবর্তন হয়ে গেছে গত কয়েক বছরে তার ফল যেন রাস্তায় আবর্জনার স্তুপের মতন উপচে উঠছে দিনে দিনে। যার অনেকটাই বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কিছু মানুষের জীবন যাপন হয়ে উঠছে আকাশ চুম্বী আর কিছু মানুষ পথে বসছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ৯:২৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×