somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

ভ্রমণবিলাস

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত কদিন ধরে ছুটার উপর। ক্লান্তি নেই আমার ঘোরাফেরায়। রাত গভীরে শুয়ে ভোর বেলায় উঠেই বেড়িয়ে পরা। ভ্রমণে বেরুলে আমার এনার্জি বেড়ে যায় আপনা আপনি তিনগুণ। ভোরবেলা বিছানা আঁকড়ে শুয়ে থাকতে পারি না। মনে হয় সময়টা কাজে লাগিয়ে দেখি নতুন জায়গা।
ন্যাচার থেকে হিস্ট্রিকাল স্থাপনা গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। মাড়িয়ে যাচ্ছিলাম হাজার হাজার মাইল। জার্মানির নো মাইল রেস্ট্রিকশন রোডগুলোতে ছুটে যাওয়ার মজাই আলাদা। গাড়ি চালিয়ে দারুণ আনন্দ পেলাম।
কখনো কেবলই বসে থাকা অদ্ভুত সুন্দর প্রকৃতির মাঝে। কখনো ঘুরে ঘুরে দেখা নিবিড় পর্যবেক্ষণ স্থাপনাগুলোর। এবার দেখতে চাইলাম জার্মানির সাউথ ইষ্ট দিকটা। আগে গিয়ে ছিলাম ওয়েষ্টের দিকে। ইউরোপের দেশগুলো এক একটা দেখার জন্য অন্তত এক মাস ব্যায় করা দরকার। কিন্তু ততটা সময় পাওয়া যায় না এই ব্যাস্ত জীবনে। তাই অল্প সময়ে যতটুকু দেখা যায় তাই চেষ্টা করি। একটা দেশের ভিতর কত ভিন্নতা উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিমের জীবন যাপনে। এখনো কত সুন্দর ভাবে ধরে আছে প্রাচীন ঐতিহ্য কিছু মানুষ। না ঘুরলে কাছে না গেলে তা জানার সুযোগ তেমন নেই। জানা হয় না মানুষের জীবনযাপনের ছলাকলার বিরাট অংশ। প্রাচিন থেকে উঠে আসার ইতিহাস। কদিন যাযাবর জীবন আজ এখানে কাল সেখানে। সকালে এক জায়গায় ঘুম থেকে উঠা তো অন্য জায়গায় দুপুরের খাবার খাওয়া। রাতে আরেক জায়গায় ডিনার, ঘুম। এসব করে কাটিয়ে, অবশেষে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে আনন্দের ঘুম একদম দুপুর পর্যন্ত।
হোটেলের সাজানো ঘরগুলো বড় বেশি পরিপাটি আকর্ষণ করার মতন তারপরও কেমন খাপছাড়া অস্বস্থিকর মনে হয় আপন মনে হয় না। এক বা দু রাতের অতিথি নিজের কেনা ঘরে। বাড়ি হোটেলের মতন অতটা মর্ডান পরিপাটি, সাজানো গোছানো না হলেও সেখানে থাকে অপেক্ষা আনন্দ আন্তরিকতার ছোঁয়া। রাত জেগে বসে অপেক্ষা করা কখন ঘরে আসবে স্বজন সে জন্য। এই আনন্দটুকু হৃদয় ছূঁয়ে যায়। চোখ ভিজে উঠে ভালোলাগায়।
এবার ভেবেছিলাম লণ্ডনে কদিন কাটাব। পরে বাদ দিলাম পরিকল্পনা। এখন মনে হলো ভালোই হয়েছে। লণ্ডনের বর্তমান অবস্থা দেখে ভালো লাগছে না। ব্রাক্সিট পরবর্তি সময়ে তাদের উপর বিশাল প্রভাব পরেছে যোগাযোগে। ভিনদেশি মানুষকে কর্ম হীন করে বা লণ্ডনে কাজের জন্য আসতে না দেয়ায় এখন পরিবহন ড্রা্ইভার সংকট। গ্যাস নেই গাড়ির, সরবরাহ নেই খাদ্যের। গ্রোসারী দোকানের সেলফ গুলো খালি। স্থানীও মানুষের জীবনে পরেছে বিশাল প্রভাব । এক ঘরে হয়ে থাকা সম্ভব না আন্তঃদেশীয় পরিসরে পরিব্যাপ্তি জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠা দেশগুলোর মানুষের অনেক বেশি স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিল। নতুন করে আবার অভ্যস্থ হতে হবে একঘরে জীবন যাপনে। খুঁজে বের করতে হবে কর্মি সর্ব ক্ষেত্রে নিজের দেশের মধ্যে। সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন অবস্থার ভিতর দিয়ে পার করতে হবে ততদিন। আমেরিকাতে নিজের দেশের কর্মি তৈরি করে চীনকে ছূঁড়ে ফেলতে চেয়ে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু সম্ভব হয়নি তার ক্ষমতা সময়ের মধ্যে। দেখা যাক লণ্ডনের পরিস্তিতি কোথায় যায়।
কোভিট এক বিশাল প্রভাব ফেলেছে সর্ব ক্ষেত্রে। অনেক বেশি নিরাপত্তার প্রশ্ন সর্বক্ষেত্রে। হোটেলে থাকতে গেলে। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে। মিউজিয়াম বা ভিতরে ঢুকে দেখার মতন দর্শণীয় স্থানগুলোতে যাওয়ার জন্য সর্ব ক্ষেত্রে এক গাদা কাগজ সাথে নিয়ে দেখাতে হচ্ছে। ভ্যাকসিন নেয়া হয়েছে। কোভিড নেগেটিভ রেজাল্ট। এসব দেখার পরই ভিতরে ঢুকার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে।
যাদের কাগজ পত্র নেই তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে অনুমতি না পেয়ে, অনেকটা পথ এসে। অনেক কঠিন হয়ে গেছে ভ্রমনের আনন্দ।
সারাক্ষন এই কোভিট আতংক। মাস্ক পরিধান করে থাকা । হ্যান্ড সেনেটাইজার করা।
তারপরও আমার ঘুরুন্টি সময় আনন্দ যোগ করল জীবনে। এক ঘেয়ে বসে থাকা দুবছরের ভ্রমণবিহীন জীবনে বেশ বৈচিত্র যোগ করতে পারলাম।





সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:০৫
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবির বিরুদ্ধে কবি

লিখেছেন অতন্দ্র সাখাওয়াত, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:১০

হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।

হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×