
একবার পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে কবিদের মেলা বসেছে মানে কবিদের মাহফিল। একজন সেখানে মজুদ ছিলেন যিনি কোন এক কবির কবিতা পাঠ শেষে মারহাবা, সুবহান আল্লাহ এ জাতীয় প্রসংশা সুচক শব্দ করে যাচ্ছেন তাও খুব জোরে জোরে। কবিতা বুঝে আসছে বা না আসছে সেদিকে খেয়াল নেই।
কবির এতে বিরক্ত ধরে গেল যদিও অনেক কবি চায় তাঁর কবিতা পাঠ শেষে এমন প্রসংশা সুচক শব্দ কর্নে আসুক। জোরে জোরে করতালি হোক ইত্যাদি।
তো সেই কবি দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যাপারটা লক্ষ্য করছেন শেষমেশ রাগ দমন করতে না পেরে বলেই বসলেন, " মিয়া ! ইতনা জোরছে আল্লাহ কো ইয়াদ করতেহ ? ইতনা জোরছে? আগার আল্লাহ নে থোরাছা ধীরেছে তুমকো ইয়াদ করলিয়া তো কিয়া হোগা সোচো ! "
মানে দাঁড়ালো মিয়া ! এত জোরে আল্লাহ কে স্মরণ করছ? এত জোরে ? এখন আল্লাহ যদি খুব অল্প ধীরে তোমাকে স্মরণ করে কি হবে চিন্তা করো! "
যদিও উর্দু আমার ভাষা নয় তবু তরজমা করলাম ভুল হলে ক্ষমা। কেউ আবার এতে চেতনার চেরাগ নিয়ে এসে জ্ঞ্যান গর্ভ কথা বলতে আসবেন না প্লিজ।
সত্যিকারের একজন কবি কি শুধু অর্থ, খ্যাতি আর পদকের লোভে লিখে যাবেন? যদি তাই হয় তাহলে তিনি তো কবি নন তিনি হলেন ব্যবসায়ী বা বুর্জোয়া !
এ তো গেল পাকিস্তানের কথা এখন আসি নিজের দেশে। একবার কোন এক জনৈক ব্যক্তি বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ সাহেব কে বলে বসল, আপনি খুব সাহসী ! যদিও এর আগে এমন কথা তিনি বহুবার শুনেছেন। তিনি তখন বললেন , " আমি কি আঠারো তলা দালান থেকে ঝাঁপ দিয়েছি? অথবা বন্দুকের নলের সামনে বুক ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বা গুলি খেতে প্রস্তুত থাকি ? আমি সত্য প্রকাশ করি। এখন এ দেশে সত্য প্রকাশ বা বলাতে যদি শুনতে হয় আপনি খুব সাহসী ! তাহলে ধরে নিতে হয় দেশে সত্যের স্থান কতটা তলানিতে ! "
কথা তো সত্য ! কবির কাজ সমাজ কে খুব ভালো করে দেখে সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করা সবার সামনে মুখোশ উন্মোচন করা তাই নয় কি ?
এখন আপনি বিশাল কবি সারা জীবন " আতা গাছে তোতা পাখি "এরপর " কি দারুন বর্ষাকাল ! গরুটা আমার জ্বর মুখে দুধ দেয়নি কাল। "
এগুলা লিখা গেলেন। আর পদক পাওয়ার লোভে সরকারের দালালী শুরু করে দিলেন। ব্যস ! পদক জুটে গেল। আর কে পায় আপনাকে? মানে সোজা কথা আপনি কবি কিন্তু দালাল ! যদিও কথাটা বিশ্রী তবুও বলছি আপনি দালাল।
দেশে এখন এমন কবি সাহিত্যিক দালাল বেড়ে যাচ্ছে। যা খুবই ভয়ানক । আচ্ছা, কবি সাহিত্যিকের আবার দল কি? এরা সার্বজনীন সবার। বর্তমানে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে কি এমন করতেন?
অনেকেই আছেন যারা আওয়ামীলীগের কবি ! এখন আওয়ামীলীগের কি কোন দোষ নাই? উনাদের দলে কি শয়তান নেই ? সব কি ফেরেস্তা ? সে সব শয়তান দের শায়েস্তা করতে প্রতিবাদ স্বরূপ উনারা কয়টা? কয়টা কবিতা লিখেছেন ?
তেমন বি এন পি জামাত এরও আছে কবি! তা কয়জন বি এন পি, জামায়াতের আকাম কুকামের বিরুদ্ধে লিখেছেন? দলের শয়তান দের ন্যাংটো করে ছেড়েছেন? লিখেছেন কি প্রতিবাদী কোন কবিতা ?
এরাই আমাদের উপদেশ দেয়। চেতনার বড়ি গিলিয়ে খাওয়ায় ! যারা নিজেরা সামান্য পদকের লোভ সামাল দিতে পারেন না। সামান্য অর্থের লোভ । ছিঃ!
তাই তো কবি হেলাল হাফিজ দুঃখ করে বলেছেন, " সমাজের সবাই যখন অন্যের শিখিয়ে দেয়া বুলি তোতা ময়না পাখির মতন আউরাতে থাকে তখন সমাজ ঠিক থাকে না ধ্বংস হয়ে যায় ! "
এ সমাজ ধ্বংস হয়ে গেছে অনেক আগে। একটা জগাখিচুরি তালগোল পাকানো সমাজে বাস করছি। আর এসব করা হয়েছে খুব সুকৌশলে। কারা করেছেন এসব? যারা রাজনীতি করেন যারা দেশ পরিচালনার মতন মহৎ কাজে নিয়োজিত থাকেন তারা করেছেন। এ তো সত্যি !
কেন একজন ভন্ড দুই নম্বর নেতাকে বলা যাবে না, তুমি মানুষ খারাপ ! তোমার জন্মে দোষ আছে ! কেন আজ খারাপ কে খারাপ বলতে পারছি না ? কিসের এত ডর? কার ডরে এমন কাঁপছি থরথর ? শেষ করছি নিজের কিছু কথা দিয়ে।
"বেশ্যাটি যখন রমনার নষ্ট জলে
কামরস ধুঁয়ে মুছে
কোমড় সিধা করে দাঁড়িয়েছে
তখন ভোর হয়।
মসজিদে আজান !
কাকতালীয় হলে সত্যি !
সেদিন ও ছিল কোন নেতার দিবস প্রয়াণ ! "
রেস্ট ইন পিস কবি সাহিত্যিক !
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২২ ভোর ৬:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


