somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুখ ( পর্ব ১ )

১৫ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি নেট ।

গতরাতে মাছের কাটা দাঁতের মাড়িতে ঘাই দিছে। হালার পুতরে বাইর করছি ঠিকই কিন্তু মাড়ির তো রফাদফা ! ফুলে গেছে। রাতভর চিনচিন ব্যাথা এ পাশ ও পাশ। অফিসে ফোন দিব ভাবছিলাম পরে করা হয়নি। কে কিভাবে নেয় ? দুই একজন জানি নিশ্চিত বলে বসবে মাছটার লিংগ কি? মানে পুরুষ? না, নারী ?

সে যাই হোক সকালে লাল চোখে দাঁত ব্রাশ করতে যেয়ে দেখি রক্ত বের হচ্ছে। এরপর ব্রেকফাস্ট করতে যেয়ে দেখি ঐ পাশ একদম অকেজো। অন্য পাশের দাঁত ব্যবহার করতে হলো। কি এক মুশকিল !

মা হাসে আর কয় " যত মুশকিল তত আশান ! " আমার তো মেজাজ চ্যাতে সপ্তমে। মা এক গ্লাস লবন মেশানো গরম জল এনে বলল কুলি কর আর প্যারাসিটামল নে। কিছুটা ব্যাথা কম লাগবে। কি আর করা ??

অফিসে যেয়ে চুপ করে নিজের রুমে বসে রইলাম। গালের উপর দিয়ে মাড়িতে চাপ দিলাম একটু আরাম লাগলো পরে আবার সেই ব্যথা! উফফ! অসহ্য !

পিয়ন কে ডাক দিয়া কইলাম পুরা এক জগ ভরে গরম পানি আর নুন দিয়া যাও। পিয়ন সামাদ মিয়া হাসি দিয়া কইল জ্বি আইচ্ছা স্যার , আরো কিছু লাগব স্যার? আমি কইলাম যা বলছি তা কর এত কথা কও ক্যা ? এ এক আজব মানুষ ধমক গালি দিলেও হাসে আবার একটু নরম সুরে কথা কইলে কাঁদে। ওর গল্প আরেক দিন বলব।

নুন মেশানো গরম জল থ্যারাপি করলাম অনেকক্ষণ। প্রথমে মাড়িতে কামড় দিয়া ধরছে পরে সহ্য হয়ে গেলো। তখন উপলব্ধি করলাম আসলে দুখ জিনিস টা একটা সময় সহ্য হয়ে যায়।

এমন সময় সিনিয়র এক বন্ধু ফোন দিল। যার নাম অরুন। আমি অরুন দা বলি। বিবাহিত ব্যাচেলর। প্রথম স্ত্রী বিদেশি ছিল। পরে ডিভোর্স ! সেই ঘরে এক মেয়ে। এখন মায়ের সাথে প্যারিস আছে। উনার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল দেশী। সেও চলে গেছে এডলিন আর দাদা কে ছেড়ে। বৌদির ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেছেন দাদা। কাজ হয়নি হায়াত না থাকলে হয় যা।

দাদা প্রায় তিন মাস বৌদির শোকে বাচ্চার মতো আচরণ করেছেন। উনার এক দিদি আছেন। এখন উনি এডলিন এর দেখাশোনা করেন।

উত্তরাধিকার সুত্রে ঢাকা শহরে সাড়ে পাঁচ কাঠার মতো জায়গাটা পাওয়াতে আর চার তলা বাড়িটা কমপ্লিট করতে পেরেছেন বলে টিকে আছেন। নইলে গ্রামে যা ছিল আর জমানো টাকা পয়সা সবই ক্যান্সার নিয়ে নিছে।

এগুলা ভাবতে ভাবতে মাড়ির ব্যাথার কথা কিছুটা ভুলেই গেছিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৩০
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বাসী মানব মনের উপর বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট উচ্চারণে ক্বোরান পাঠের ঐশ্বরিক প্রভাব

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

আমি গত প্রায় ১৮ বছর যাবত আমার বর্তমান এলাকায় বসবাস করছি। স্থানীয় মাসজিদটি আমার বাসা থেকে প্রায় চার মিনিটের মত হাঁটা পথে অবস্থিত বিধায় চেষ্টা থাকে দিনে যতবার সম্ভব, মাসজিদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেঁচে আছি, বেঁচে আছি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩



নতুন জেনারেশনের জ্ঞানগরিমায় যুগপৎ মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়ে নিজেকে মনে হয় নিতান্তই জেনারেল!
তাহারা কতকিছু যে জানে, জানে না তাহারা যে জানে! তাবৎ দুনিয়ার খবর তাহাদের তালুর চিপায় নিদ্রামগ্ন!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব চোকানো - হরমুজ এবং মার্কিন আধিপত্যের অবসান

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১


ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ২০২৪: অস্থিরতার অন্তরালে কী ছিল? লেখকীয় বিশ্লেষণ | সমসাময়িক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৫

ছবি

বাংলাদেশে ২০২৪: ক্ষমতার পালাবদল নাকি গোপন সমন্বিত পরিকল্পনা?

২০২৪ সালের আগস্ট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অস্থির ও বিতর্কিত অধ্যায়। ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে অনেকের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি র‍্যাপ সং কীভাবে সপ্তম শ্রেণীর বইয়ের কবিতা হলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:২৭


আজকে জুলাই আন্দোলনের একটা কবিতা পাঠ করলাম যেটা পড়ে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। এই কবিতা নাকি সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবিতার নাম ‘সিঁথি’, লেখক হাসান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×