somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম তবু প্রেম নয়

১৭ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রীতম ঠিক মনে করতে পারেনা বাক্যটি কার লেখা।“ঠিক দুপুর বেলায় ভুতে মারে ঢেলা”।কোন এক উপন্যাসে সে পড়েছিল।দুপুর বেলায় সে ঘুমাবে না কাজে বেরুবে ঠিক করতে পারছিলনা।ওর জীবনটাই কাটছে এমন সিদ্ধান্তহীনতায়।দেখতে দেখতে বয়স চল্লিশ হয়ে গেলো।মধ্য যৌবনের আলো ওর শরীর জুড়ে।শেষ পর্যন্ত ফেসবুক খুলে বসে। আজকের স্টাটাসগুলি সব পুলিশের জঙ্গী আস্তানার অভিযান কেন্দ্রিক।
-ভাল আছো দাদা।
ম্যাসেঞ্জারে মেসেজটি পড়ে প্রীতম মুহূর্তে ফিরে যায় অতীতে। কত ছোট দেখেছে সে রিয়াকে।সারাদিন মেয়েটির নাক দিয়ে সর্দি পড়তো। এখন কত বড় হয়ে গিয়েছে।প্রীতম রিয়ার প্রোফাইলে যায়।রিয়ার বিয়ের ছবিই বেশী তার টাইম লাইনে।অসম্ভব সুন্দরী লাগছে রিয়াকে,কনে সাজে।প্রীতম উত্তর দেয়।
-ভাল আছি।তুই ভাল আছিস?
লিখার পর প্রীতম অপেক্ষা করতে থাকে রিয়ার উত্তরের। দেরী হচ্ছে রিয়ার উত্তর দিতে।প্রীতমের মনে হতে থাকে তুই শব্দটি হজম করতে মনে হয় কষ্ট হচ্ছে। দুপুর বেলায় রিয়া কেন ওর সাথে ইনবক্সে আলাপ করতে চাইছে?রিয়াও কি ওর মত নিঃসঙ্গ।
-বড়মা ভাল আছে?তুমি এখন কোথায় থাকো?
প্রীতম ভাল করে চেক করে রিয়ার টাইম লাইন।রিয়ার একাউন্ট হ্যাক হয়েছে কিনা জানতে চেষ্টা করে। প্রীতম একটু সাবধান থাকার চেষ্টা করে। কারণ ওর একাউন্টে জামাত-শিবির বিরোধী লেখায় ভরপুর।আর বাংলাদেশে চাপাতী হত্যাকাণ্ড খুব সাধারণ ঘটনা।
-মা ভাল আছে। আমি ট্রান্সফার হয়েছি গত মাসে। এখন মৌলভীবাজারে আছি ।ওদের বগুড়ায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
-বগুড়ায় কোথায়?
-মামার বাড়ির পাশে।ঠনঠনিয়ায়।
প্রীতম ভাবতে থাকে রিয়ার কয় সন্তান জানতে চাইবে কিনা?অবশ্য টাইম লাইনে এ সম্পর্কিত কোন তথ্য দেওয়া নেই। রিয়ার স্বামী বাসায় নেই ? না থাকাই স্বাভাবিক। প্রীতম অপেক্ষা করতে থাকে রিয়ার জন্যে। পাঁচটা বেজে যায় ,রিয়া আর কিছু লেখেনা।প্রীতম কাজে বেরিয়ে পড়ে।

পাবলো নেরুদার কবিতা আচ্ছন্ন করে ফেলেছে প্রীতমকে। প্রতিদিন না পড়লে ভাল লাগেনা। ও নিজেও লেখে। কবিতা হয় কিনা বুঝতে পারেনা। লেখে আর ফেসবুকে পোস্ট করে। লাইক পায়। কিছু মন্তব্যও পায়। মন্দ লাগেনা। কবিতা হোক না হোক ওর নিঃসঙ্গ সময় বেশ কেটে যায়। নেরুদার কয়েকটি কবিতা পড়ে । এরপর ফেসবুক নিয়ে বসে। খেয়াল করে রিয়া অন লাইনে। তবে রিয়ার দিক হতে কোন সাড়া আসেনা। রাত সাড়ে এগারোটা বাজে।সুনন্দাকে ফোন দেয়।
-কি কর?
-শুয়ে পড়েছি।
-ওই দুটোর খবর কি?
-বড়টা ঘুমিয়ে পড়েছে। ছোটটা এখনও ঘুমায়নি।ছোটটা দিন দিন ভারি পাজি হয়ে যাচ্ছে ।কথা শুনতে চায়না।
-দাও,ছোটটার সাথে কথা বলি।
-হ্যালোও কি করছো বাবা?
-হ্যালোও,আমি শুয়ে আছি।
-আজকে কোন খবর নেই?
-হ্যাঁ, আছে।
-কি খবর?
-আমি ডিম খাচ্ছিলাম আর মা আমার গালে মারছে।মাকে বকা দিয়ে দাও।
-ফোন মায়ের কাছে দাও।
সুনন্দা ফোন নেয়।
-ও ভয় নেই। তুমি আমার মেয়েকে মেরেছো।
সুনন্দা আর প্রীতম এক সাথে হেসে ওঠে।

ম্যাসেঞ্জারে রিয়ার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে রিয়ার কথা ভুলতেই বসেছিল প্রীতম। সেও কয়েকদিন নেটে বসতে পারেনি অফিসিয়াল কাজের চাপে। রাতে ফেসবুকে গিয়ে দেখে নোটিফিকিশনে ভরপুর।আর ইনবক্সে রিয়ার মেসেজ।
-দাদা ভাল আছো ?
রিয়া অনলাইনে নেই। প্রীতম উত্তর লিখে রাখে-ভাল আছিরে ।তোর খবর কি ?
পরদিন দুপুরে রিয়াকে অনলাইনে পায় ।
-দাদা, বেশ কয়েকদিন তোমার লেখা পেলামনা ফেসবুকে।
-অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম,তাই লেখা হয়নি।
-তোমার কবিতা পড়তে ভালই লাগে।
-কবিতা হয় কিনা জানিনা তবে লিখার চেষ্টা করি।
-একটা প্রশ্ন করবো দাদা?কিছু যদি মনে না কর।
-কর।
-তোমাদের কি প্রেমের বিয়ে?
-নারে। বিয়ের পর প্রেম।হা হা হা।
-তাহলে রোমান্টিক কবিতা লেখো কিভাবে।
-প্রেমের কবিতা লিখতে হলে প্রেমে পড়তেই হবে?
-আমার তো তাই মনে হয়।
-আমার তা মনে হয়না।শোন,প্রতিটি নর-নারীই জন্মগত প্রেমিক-প্রেমিকা।
-তোমার তাই মনে হয়?
প্রীতম প্রসঙ্গ বদলায়।
-তোর শ্বশুর বাড়ি কোথায়?
-মাটিডালি।
-আমি চিনি?
-ওর বড় ভাই তোমাদের আগের ব্যাচ।
-পরিচয় কিভাবে?
-আজিজুল হক কলেজে ও বোটানিতে পড়তো।ওখানেই পরিচয়,প্রেম,বিয়ে।
-কেমন কাটছে সময়?
রিয়া আর উত্তর দেয়না। প্রীতম বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রিয়ার জন্যে । শেষ পর্যন্ত রাগ হয় ওর। ঠিক করে ম্যাসেঞ্জারে আর আলাপ করবেনা রিয়ার সাথে।রিয়া এরপর বেশ কয়েকবার ইনবক্সে এসেছে কিন্তু প্রীতম কোন সারা দিচ্ছিলনা।রিয়া চেষ্টা চালিয়ে যায়।একদিন প্রীতম বেশ বড় মেসেজ পায় রিয়ার কাছ হতে।
-দাদা,তুমি আমার উপর রাগ করেছো হয়তো সেদিন উত্তর না দেওয়াতে।সেদিন তোমার সাথে চ্যাটিংএর সময় রিপন বাসায় চলে এসেছিল ।তাই আর উত্তর দেওয়া হয়নি। রিপন সারাদিন বাহিরে কাজে ব্যস্ত থাকে। আর রাতে ফেরে। আমার সারাদিন সময় কাটতে চায়না। ফেসবুকে তোমাকে পেলাম।তুমি এখন কবি।আমি জানি যারা কবিতা লেখে তারা মেয়েদের মন পড়তে পারে।তাই তোমার কাছে মনের কথা বলতেচেয়েছিলাম। জানো দাদা, আমি আর রিপন যখন প্রেম করতাম তখন সময়গুলি কত রঙ্গীন ছিল।কতদ্রুত সময় চলে যায়। এখন আমাদের প্রেম বন্দী হয়ে আছে বিছানায়,-রাতে।বড্ড এক ঘেঁয়ে জীবন।

প্রীতম ইনবক্সে কোন মন্তব্য করেনা আর। মনে মনে ভাবে জীবনের বৈচিত্রময়তার কথা। রিয়া আগের মতই প্রীতমের কবিতায় লাইক কমেন্ট করে যায়।

১৭/০৩/২০১৭


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×