সে অনেকদিন আগের কথা। এক দেশে ছিল বিশাল বিচার ব্যবস্থা।কারণ সেই দেশে জনসংখ্যা ছিল খুবই বেশী। আর যার কারণে মানুষে মানুষে গন্ডগোল লেগেই থাকতো। যেমন ধর জমির আইল চাঁচা নিয়ে গন্ডগোল,একের বউ অপরে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে এই নিয়ে সমস্যা,ভাইয়ে ভাইয়ে সমস্যা,আরও ধর চাকরীর কোটা,মুক্তিযোদ্ধা,ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা,সহি রাজাকার, ঘুঁষ-দুর্নীতি,আগুন সন্ত্রাস,জজ মিয়া এই ধরণের গন্ডগোল । ফলে বিচার ব্যাবস্থা খুবই চাপে থাকতো আর কি। ওই দেশের প্রধান বিচারপতি,আইনমন্ত্রী সব সময় সাংবাদিকদের সামনে মামলা জট নয়ে গুরু গম্ভীর বয়ান পেস করতো। কিন্তু এই মামলা জট তবুও কমতো না।
সেই দেশের এক নাগরিক একদিন কোর্টে গিয়ে চেক ডিজ অনারের মামলা করে বিপদে পড়ে যায়। প্রথমে মামলার বিচারক বিষয়টি তদন্তের জন্যে তিন মাসের সময় দেয় পুলিশকে। ওই নাগরিক ছুটে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ তাকে নানা প্রশ্ন করে শেষে বলে দেখুন এই কাজে কিছু খরচাপাতি আছে। আপনি দিলেই খুব সুন্দর রিপোর্ট দিয়ে দেবো আপনার পক্ষে। নাগরিকটি ভাবলো ভালইতো। পুলিশকে বললো দেবো। এর কয়েক মাস পর থানা থেকে তার ডাক আসে। সেই তদন্তকারী অফিসার আর একজনের কাছে পাঠায় তদন্ত রিপোর্ট সুন্দরভাবে লিখবার জন্যে। সেই পুলিশ আবার তাকে বলে,দাদা দেখুন আমি লিখলে আপনাকে কিছু টাকা দিতে হবে। নাগরিকটি বললো কেনো? আমি লিখবো তাই,আর লিখবার পর উপরের স্যারের সই নিতেও টাকা দিতে হবে। হতোদ্যম হয়ে নাগরিকটি থানার সমস্ত খরচ মিটিয়ে রিপোর্ট রেডি করে।
এরপর আবার আাদালত। আবার ডেট। আবার আদালত। আবার ডেট। সে খুব হতাশ হয়ে যায়। মনের দুঃখে এক দোকানে বসে পান চিবায়। সেই সময় এক কাক আসে তার কাছে। বলে, - ভাইসাব সমস্যা কি? উত্তরে নাগরিক বলে মামলায় ডেটের পর ডেট পড়ছে। করবো কি? কাক জানায় সমস্যার খুব সহজ সমাধান আছে।
এর পরদিন সেই নাগরিক আদালতে যায়। পেসকারকে খুঁজে বের করে তার কাছে মামলার নম্বর দেয় আর হাতে দুইশত টাকা গুঁজে দেয়।
আমার গল্পটি ফুরালো নটে শাকটি মুরালো।
নাটোর
১২/০৭/২০২৪
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ৯:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


